বাবা ও মা দুজনেই কর্মরত? খেয়াল রাখুন শিশুর সঙ্গে যেন দূরত্ব তৈরি না হয়

বাবা ও মা দুজনেই কর্মরত? খেয়াল রাখুন শিশুর সঙ্গে যেন দূরত্ব তৈরি না হয়

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সংজ্ঞাটাও বদলেছে। আগে পরিবার বলতে আমরা বুঝতাম যৌথ পরিবার। ঠাকুমাদের কাছে সেই যৌথ পরিবারের কত গল্পই শুনেছি। একটা পরিবারে এক সময় ৪০টা রুটি হত। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। মানুষ জন্ম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সচেতন হয়েছে। তারই সঙ্গে পরিবারগুলোও ছোট হতে হতে এখন কারও পরিবারে তিনজন সদস্য তো কোনও পরিবারে সদস্য পাঁচ। বেশিরভাগ পরিবারেই দেখা যায়, মা, বাবা ও তাঁদের সন্তান। আবার বাবা ও মা দুজনেই কর্মরত। দাদু ও ঠাকুমাকেও কাছে পায় না সেই সন্তান (working parents) । লকডাউনের কারণে বাবা ও মা বাড়ি থেকে কাজ করলেও বছরের অন্যান্য সময়ে তাঁদের অফিসে যেতেই হয়।

সন্তানকেও সময় দিন

আর তখন একা বোধ করে সন্তান। অনেক সময় শিশুর সঙ্গে মা ও বাবার দূরত্বও তৈরি হয় এই কারণে। তাঁরা শিশুকে বেশি সময় দিতে পারেন না। আবার অনেক মা বেবি সিটারের কাছে সন্তানকে রেখে এসে দুশ্চিন্তায় থাকেন। এখন লকডাউনের কারণে হয়তো সবাই বাড়িতে। তাই সন্তানের সঙ্গে অনেকটাই সময় কাটাতে পারছেন। কিন্তু আবার অফিস খুললে তাঁদের অফিসে যেতে হবে। সেই সময়ও শিশুর মনের কাছের হয়ে কীভাবে থাকবেন। সেই নিয়ে আজ আপনাকে কয়েকটি পরামর্শ দেব। কর্মরত বাবা-মা-এর জন্য পরামর্শ রইল আজ (working parents)।

পার্ফেক্ট হতে হবে না, তাঁদের প্রিয় হন

আসেল পার্ফেক্ট মা হয় না। সবার মধ্যেই খামতি থাকে। আপনার মধ্যেও আছে, সেই কথা মেনে নিন। আপনি পার্ফেক্ট হতে গিয়ে বার বার ব্যর্থ হবেন। তার থেকে আপনি সন্তানের প্রিয় হয়ে উঠতে পারেন। সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল রাখবেন। তাঁকে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলুন। তাঁকেও আপনাদের পরিস্থিতি বুঝতে হবে। আপনার অনুপস্থিতি দামি উপহার দিয়ে ভোলানোর চেষ্টা করবেন না। আপনি যেন আপনার সন্তানের রোল মডেল হয়ে ওঠেন। আপনার পার্ফেক্ট হওয়ার প্রয়োজন নেই।

সন্তানকে সময় দেবেন

লকডাউনে শিশুর সঙ্গে অনেকটাই সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু আবার অফিস যেতে শুরু করলেও সন্তানকে সময় দেওয়া কম করবেন না। বাবা ও মা দুজনেই চাকরি করেন, এরকম দম্পতির ক্ষেত্রে সবথেকে বড় সমস্যা হয়ে যায় সময় । সন্তানকে সময় দিতে পারেন না। তাই নিজেরাও হয়তো অপরাধ বোধে ভোগেন। কিন্তু আপনি একথাও ভাববেন না যে, আপনার সারাদিন সময় আপনার সন্তানকে দিতে হবে। একথা ভাবুন চাকরির পর ও তাঁর স্কুলের পর যতটুকু সময় আপনার আছে, সেই সময়টা সন্তানকে দিন। ছুটির দিনে তিনজনেই কোথাও ঘুরতে যান। অফিস থেকে বাড়ি ফিরেও সন্তানের সঙ্গে সময় কাটান। স্কুলে কী হয়েছে, তাও প্রশ্ন করুন। শিশু আপনাকে দূরের মনে করবে না (working parents)।

 

ছুটির দিনে সবাই মিলে আনন্দ করুন

বলুন "ভালবাসি"

পৃথিবীর সব বাবা-মা তাঁর সন্তানকে সবথেকে বেশি ভালবাসে। সেটাই স্বাভাবিক। তবে সময় বা কমিউনিকেশন গ্যাপের জন্য সন্তানের প্রতি সেই ভালবাসা প্রকাশ করা হয় না। সেই থেকে দূরত্ব তৈরি হয়। তাই কখনও আপনার সন্তান যেন মনে না করে, আপনি তাকে ভালবাসেন না। সেই দিকে সতর্ক থাকুন। ভালবাসার প্রকাশ করুন। কখনও তাঁকে ছোটখাটো উপহার দিন। তাঁকে আদর করুন। তাঁর কথা শুনুন। তাঁর অনুভূতির দাম দিন। ভুলগুলো শুধরে দিন (working parents)। তাঁকে আপনাদের থেকে আলাদা করে রাখবেন না।

প্লে স্কুল আপনাকে সাহায্য় করবে

এখন লকডাউনে সব স্কুলই বন্ধ। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আপনি প্লে স্কুলের কথা ভাবতে পারেন। আপনি ও আপনার স্বামী দুজনেই চাকরির জন্য নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান? তাহলে আপনি আপনার ছোট সন্তানকে কোনও প্লে স্কুলে ভরতি করতেই পারেন। তাহলে সে বাড়িতে একাও থাকে না। আবার স্কুলে গিয়ে সে খেলা ও শেখার মধ্যেই থাকে। একাকিত্বও আপনার সন্তানকে মন খারাপ করায় না। আবার আপনি চাইলে তাঁর যখন ইচ্ছা খোঁজ নিতেই পারেন। ওয়ার্কিং পেরন্টস-র জন্য এরকম অনেক ডে স্কুল আছে। আপনার অফিস টাইমে আপনার সন্তান সেখানেই থাকবে। ছোট থেকে বড় সব বয়সের জন্যেই রয়েছে ডে স্কুল। কখনও তাঁকে আনতে স্কুলে চলে যান, সারপ্রাইজ দিন। আপনার সন্তানেরও মন ভাল হয়ে যাবে ।

 

POPxo এখন চারটে ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!      

বাড়িতে থেকেই অনায়াসে নতুন নতুন বিষয় শিখে ফেলুন। শেখার জন্য জয়েন করুন #POPxoLive, যেখানে আপনি সরাসরি আমাদের অনেক ট্যালেন্ডেট হোস্টের থেকে নতুন নতুন বিষয় চট করে শিখে ফেলতে পারবেন। POPxo App আজই ডাউনলোড করুন আর জীবনকে আরও একটু পপ আপ করে ফেলুন!