Advertisement

বিনোদন

কয়েক বছর আগে একটা ফোন কীভাবে পাল্টে দিয়েছিল অভিনেতা কৌশিক রায়ের জীবন?

Swaralipi BhattacharyyaSwaralipi Bhattacharyya  |  Sep 2, 2020
কয়েক বছর আগে একটা ফোন কীভাবে পাল্টে দিয়েছিল অভিনেতা কৌশিক রায়ের জীবন?

Advertisement

তিনি মনে করেন, বুড়ো বয়সে অভিনয় করতে শুরু করেছেন। তা হতে পারে। কিন্তু টেলিভিশন তো বটেই, সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজেও তিনি আলাদা করে নজরে পড়ছেন। দর্শকের ভাল লাগছে তাঁর অভিনয়। তিনি অর্থাৎ কৌশিক (Koushik) রায়। এখন যাঁকে ‘খড়কুটো’ ধারাবাহিকে আপনি প্রতিদিন দেখেন টিভির পর্দায়। অভিনয়ের জার্নি নিয়ে POPxo বাংলার মুখোমুখি কৌশিক।

ছোটবেলা কোথায় কেটেছে?

আমার বাড়ি বহরমপুরে। কিন্তু জন্ম শিলিগুড়িতে। ক্লাস এইট পর্যন্ত ওখানেই পড়াশোনা। এইট থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বহরমপুরে পড়েছি। তারপর আমহার্স্ট স্ট্রিট সেন্ট পলস থেকে গ্র্যাজুয়েশন। এমবিএ-ও করেছি। বহরুমপুরে বাবা থাকেন। মা মারা গিয়েছেন বছর ছয়েক আগে। আমার বোন আছে। ওর বহরমপুরেই শ্বশুরবাড়ি। আর কলকাতায় গলফগ্রিনে আমার স্ত্রী এবং মেয়ে রয়েছে। সামনের ডিসেম্বরে মেয়ের চার বছর বয়স হবে।

অভিনয়ের শুরু কবে?

সে তো বুড়ো বয়সে (হাসি)। আমি পড়াশোনা শেষ করে প্রায় তিন, সাড়ে তিন বছর মার্কেটিং, সেলসের চাকরি করেছি। কিন্তু সেটা ভাল লাগছিল না। তারপরই বিভিন্ন ওয়ার্কশপ করি অভিনয়ের জন্য। আমার সোহাগ সেনকে খুব ভাল লাগত। ‘কেএফটিআই’-তে ওঁর কাছে অভিনয় শেখার সুযোগ পাই। খুব হেল্প করেছেন। ওঁর দলের ওয়ার্কশপও করেছি। ধীরে ধীরে কনফিডেন্স বাড়ল। অনেক বেশি বয়সে বুঝলাম, এটা আরও আগে শেখা উচিত ছিল।

প্রথম সুযোগ পেলেন কীভাবে?

রাজদা, মানে রাজ চক্রবর্তী আমার মেন্টর। প্রথম কাজ দিয়েছিলেন ‘জোশ’ ধারাবাহিকে। তারপর ছবিও করেছি। ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘বোঝে না সে বোঝে না’। ‘বোঝে না সে বোঝে না’ ধারাবাহিকে নেগেটিভ চরিত্র অনেক পরিচিতি দিয়েছিল। তারপর লীনাদির (গঙ্গোপাধ্যায়) সঙ্গে ‘পুণ্যিপুকুর’, ‘ফাগুন বউ’, ‘ইষ্টিকুটুম’ করেছি। এখন ‘খড়কুটো’ করছি।

নতুন ধারাবাহিক কেমন লাগছে?

আমি এতদিন পর্যন্ত যে কটা ধারাবাহিকে কাজ করেছি, তার মধ্যে এটা সবথেকে বেশি ভাল লাগছে। কারণ স্ক্রিপ্ট খুব মজার। অনেক বড় আর্টিস্টদের সঙ্গে কাজ করতে পারছি। অনেক কিছু শিখতে পারছি।

এই মুহূর্তে আর কোনও কাজের অফার রয়েছে?

আমি সাধারণত এক সময়ে একটাই কাজ করার চেষ্টা করি। আর টিভিতে কমিটমেন্টটা অনেক দিনের থাকে। তার মধ্যে ইন্টারেস্টিং কোনও কাজ এলে এই কাজটার ক্ষতি না করে করার চেষ্টা করি। এখনই তেমন কিছু নেই। আর আমি তো ক্যারেক্টার আর্টিস্ট, ফলে আমার অন্য কাজ বেশিদিনের থাকে না। এর আগে চ্যানেল বা প্রোডিউসার অন্য কাজ এলে আমাকে কখনও আটকায়নি।

‘খড়কুটো’ ধারাবাহিকের একটি দৃশ্যে কৌশিক।

আপনার সাপোর্ট সিস্টেম কে?

মা ছিলেন। যখন বুড়ো বয়সে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নিলাম, সব কিছু ছেড়ে একটা অনিশ্চয়তার দিকে ঝুঁকলাম, তখন মা ছিল বলেই সাপোর্ট পেয়েছিলাম। আসলে আমি কী করতে চাইছি বুুঝতেই পারত না। এখন বুঝি, আমার সন্তান এমন কিছু করতে চাইলে আমিও হয়তো এটাই ভাবতাম। আমি যে জায়গা থেকে এসেছি, সেখানে অভিনয় করব ভাবাটা লাক্সারি, অবাস্তব। তারপরও যে বাড়ির লোক আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি, এই অনেক। কাগজে যখন প্রথম ছবি বের হল, তখন বুঝতে পারল, কিছু একটা করছে। এখন আমার উপর কনফিডেন্স বাড়ছে।

আর ইন্ডাস্ট্রির সাপোর্ট সিস্টেম?

অনেকে রয়েছেন। কারও নাম মিস করে গেলে খারাপ লাগবে। রাজদা তো আমার মেন্টর। রনিদা (রজতাভ দত্ত), খরাজদা (খরাজ মুখোপাধ্যায়), ঋত্বিকদা (ঋত্বিক চক্রবর্তী) জীবনের বিভিন্ন সময়ে অকারণে হেল্প করেছে। লীনাদিও অকারণেই ভালবাসে। না চাইতেই এত ভালবাসা, এত স্নেহ পাই যে বাইরে থেকে এসেছি বলে কখনও মনে হয় না। অম্বরীশদা (অম্বরীশ ভট্টাচার্য) তো আমার বিবেকের মতো। মনে কোনও দ্বন্দ্ব হলে আর একটা কৌশিক হয়ে যায়।

প্রায় বছর দশেকের কেরিয়ারে এমন কোনও ঘটনা, যেটা না ঘটলেই ভাল হত?

না, বরং উল্টোটা। যেই ঘটনাটা না ঘটলে আজ যা যা হয়েছে, তার কিছুই হত না। আসলে তখন আমি বহরমপুরে। চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। বিয়ে করেছি। ওখানেই থিয়েটার করব ভাবছি। কলকাতা এক্সপেনসিভ। তাই বহরমপুরেই থাকব ভেবেছি। সে সময় ওখানকার একটা প্রাইভেট কলেজে আমার মার্কেটিং প্রোফাইলেন সিভি জমা দিয়ে অ্যাপ্লাই করি। চাকরিটা পেয়েও যাই। জয়েন করার ঠিক আগের দিন রাজদার অফিস থেকে অডিশনের জন্য একটা ফোন করা হয়। আমি বাড়িতে কাউকে কিছু না বলে, এক বন্ধুর কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার নিয়ে অডিশন দিতে চলে এসেছিলাম। ওই ফোনটা না গেলে, আজ কিছুই হত না।

ইনসিকিওর মনে হয় কখনও?

টাকা ফুরিয়ে গেলে ইনসিকিওর্ড লাগে।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!

বাড়িতে থেকেই অনায়াসে নতুন নতুন বিষয় শিখে ফেলুন। শেখার জন্য জয়েন করুন #POPxoLive, যেখানে আপনি সরাসরি আমাদের অনেক ট্যালেন্ডেট হোস্টের থেকে নতুন নতুন বিষয় চট করে শিখে ফেলতে পারবেন। POPxo App আজই ডাউনলোড করুন আর জীবনকে আরও একটু পপ আপ করে ফেলুন!