home / Diet
চুল পড়া কমানো থেকে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা, শরীর সুস্থ রাখতে খেজুরের অনেক উপকারিতা রয়েছে

চুল পড়া কমানো থেকে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা, শরীর সুস্থ রাখতে খেজুরের অনেক উপকারিতা রয়েছে

কখনও আমসত্বের চাটনিতে তো কখনও আবার পুজোর প্রসাদে, আবার কখনও বা এমনি এমনি-ই, খেজুর (dates) তো আমরা সবাই আকছার খাই। মিষ্টি-মিষ্টি খয়েরি রঙের এই ফলটি খেতে কে না ভালবাসে! আবার যাঁরা খুব স্বাস্থ্য সচেতন, তাঁরা অনেকসময় গরম দুধে খেজুর ভিজিয়ে রেখে খেয়ে থাকেন। খেজুর খেতে যেমন ভাল, তেমনি উপকারীও (benefits) বটে! খেজুরের উপকার সম্পর্কে তো অবশ্যই জানাব, কিন্তু তার আগে খেজুরের পুষ্টিগুণ, কত রকমের খেজুর হয়, এগুলোও তো জানতে হবে, তাই না?

https://bangla.popxo.com/article/health-benefits-of-telapia-fish-along-with-recipe-in-bengali

খেজুরের পুষ্টিগুণ

শাটারস্টক

ADVERTISEMENT

খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন কে রয়েছে। এই ভিটামিনগুলো হাড়ের গঠন, বিকাশ ও শক্ত করতে সাহায্য করে। এছাড়া ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে সাহায্য করে। খেজুর কিন্তু ফাইবারে সমৃদ্ধ যা প্রাকৃতিকভাবে টক্সিন ফ্লাশ আউট করে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হার্ট সুস্থ রাখে। এছাড়া খেজুরে ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম, প্রোটিন, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, তামা এবং সালফার জাতীয় খনিজও ভরপুর রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ফলেট রয়েছে যা গর্ভাবস্থার জন্য খুবই ভাল। চলুন দেখে নেওয়া যাক, ১০০ গ্রাম খেজুরে কী-কী পুষ্টিগুণ, কতটা পরিমাণে রয়েছে…

  • এনার্জি – ২৭৭ ক্যালোরি
  • কার্বোহাইড্রেট – ৭৪.৯৭ গ্রাম
  • প্রোটিন – ১.৮১ গ্রাম
  • ফ্যাট – .১৫ গ্রাম
  • কোলেস্টেরল – ০ মিলি গ্রাম
  • ডায়েটরি ফাইবার – ৬.৭ গ্রাম
  • সোডিয়াম – ১ মিলি গ্রাম
  • পটাশিয়াম – ৬৯৬ মিলি গ্রাম
  • ক্যালশিয়াম – ৬৪ মিলিগ্রাম
  • কপার – ০.৩৬২ মিলি গ্রাম
  • আয়রন – ০.৯০ মিলি গ্রাম

খেজুরের প্রকারভেদ

শাটারস্টক

ADVERTISEMENT

কি ভাবছেন, খেজুরের আবার কী প্রকার ভেদ হতে পারে? সাধারণত আমরা দু’ধরনের খেজুরের কথাই জানি – নরম রসালো খেজুর আর শুকনো খেজুর। তবে এগুলই ছাড়াও নানা রকমের খেজুর আছে। তবে সে সম্বন্ধে জানার আগে বরং একটু জেনে নিন খেজুরের ইতিহাস, মানে খেজুর তো আর আমাদের দেশের নিজস্ব ফল নয়, তাই একটু জেনে নেওয়া ভাল যে কবে, কোথা থেকে, কীভাবে খেজুর এল আমাদের দেশে! আপনার জেনারেল নলেজের ফান্ডাটাও বেশ বেড়ে যাবে!

সেই সুদুর মধ্যপ্রাচ্য থেকে ঘুরতে ঘুরতে একদিন খেজুর এসে পড়েছিল আমাদের দেশে। শোনা যায়, প্রাচীন মিশরে নাকি খেজুর দিয়ে ওয়াইন তৈরি করা হতো এবং তা ছিল এক প্রকার ডেলিকেসি। বর্তমান পাকিস্তানে নাকি একসময়ে প্রচুর খেজুরের চাষও হয়েছে, তবে তা আজ থেকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন বছর আগেকার কথা!

যাই হোক, অনেক জেনারেল নলেজের ফান্ডা হল, এবারে বরং জেনে নিন কত রকমের খেজুর পাওয়া যায় –

১।  মেজুল – বড় বড় সুস্বাদু এই খেজুরগুলো মরোক্কোতে উৎপন্ন হয়। খেতে অনেকটা টফির মতো।

ADVERTISEMENT

২। বারহি – ইরাকে উৎপন্ন হয় এই খেজুরের প্রজাতিটি। অনেকে একে হলুদ খেজুরও বলেন। এই ফলগুলো নরম আর বেশ শাঁসালো হয়।

৩। দিয়েরি – এই খেজুরগুলো আবার লম্বাটে, সরু সরু আর কালচে রঙের হয়।

৪। হ্যালোয়ি – ছোট্ট ছোট্ট দেখতে আর খেতেও খুব মিষ্টি হয় এই খেজুরগুলো।

৫। দিগেত নুর – খেজুরের প্রজাতিগুলির মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রজাতি বলা হয় দিগেত নুর-কে। আলজেরিয়ায় উৎপন্ন হয় এই ফলগুলি, খুব একটা রসালোও না আবার খুব একটা শুকনোও না; খুব বেশি মিষ্টি হয়না এই খেজুরগুলো।

ADVERTISEMENT

৬। হায়ানি – মিশরের খেজুর এগুলি। এই খেজুরগুলি কালচে লাল এবং নরম হয়। এই খেজুরগুলিই আমাদের দেশে বেশি পাওয়া যায়।

৭। মিগ্রাফ – ইয়েমিনের দক্ষিণভাগে উৎপন্ন হয় এই খেজুর, এই খেজুরগুলিও বেশ বড় হয় এবং রঙের দিক থেকে একটু সোনালি ও কমলার মিশেল হয়

৮। ইতেমা – এই খেজুরগুলি আলজেরিয়াতে  উৎপন্ন হয় এবং খেতে খুব মিষ্টি। এগুলি অন্যান্য খেজুরের তুলনায় আকারে বড় এবং একটু ডিম্বাকৃতি হয়।

এই এত্তগুলো প্রজাতির মধ্যে অবশ্য মেজুল প্রজাতির খেজুরই খুব জনপ্রিয়। শুধুই যে সুস্বাদু তা নয়, এতে নানা পুষ্টিগুণও রয়েছে। মেজুল ফাইবার, পটাশিয়াম এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ।

ADVERTISEMENT

খেজুরের ১৫টি উপকারিতা

কালচে লাল এই ফলটি যে শুধুমাত্র খেতেই সুস্বাদু, তা কিন্তু নয়, খেজুরের মধ্যে রয়েছে নানা প্রাকৃতিক খনিজ এবং আরও অনেক পুষ্টি! শরীরের নানা সমস্যা দূর করার সঙ্গে সঙ্গেই ত্বক ও চুলের যত্নেও কিন্তু খেজুর খুব উপকারী! চলুন দেখে নেওয়া যাক খেজুরের ১৫টি উপকারিতা।

১। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্রানজিট অর্থাৎ পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। খেজুর যেহেতু একটু শাঁসালো ফল কাজেই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে খেজুরের জুড়ি নেই। প্রতিদিন খালিপেটে ২০ থেকে ৩৫ গ্রাম খেজুর খাওয়া যায় তাহলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

২। হার্ট সুস্থ রাখে

ADVERTISEMENT

শাটারস্টক

প্রতিদিন সকালে উঠে একমুঠো শুকনো খেজুর যদি খাওয়া যেতে পারে, তাহলে হার্ট সুস্থ থাকতে বাধ্য – এমনটাই দাবী করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। খেজুরে যেহেতু প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে কাজেই আরটারি থেকে কোলেস্টেরল দূর করে হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেজুর খেলে হৃদরোগের আশঙ্কা অনেকটাই কমে।

৩। হাড় মজবুত করে

খেজুরে নানা খনিজ রয়েছে যেমন, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, সেলেনিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ – এগুলি হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে এবং হাড়ের যে-কোনোও সমস্যা প্রতিরোধ করে। অস্টিওপোরোসিস এবং অন্যান্য বাতের সমস্যা দূর করতে এবং প্রতিরোধ করতে খেজুরের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়াও খেজুরে ভিটামিন কে রয়েছে যা হাড়ের বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে।

৪। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়

নিজেকে হৃদরোগের প্রকোপে না ফেলতে চাইলে রক্তে যাতে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা না বাড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। নিয়মিত গরম দুধে শুকনো খেজুর ভিজিয়ে খাওয়া শুরু করে দিন। কিছুদিনের মধ্যেই উপকার পাবেন।  আসলে এই ফলটি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি আরও বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।

ADVERTISEMENT

৫। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে

প্রতিদিনের খাবারে পরিমাণমত খেজুর যোগ করলে রক্তচাপ জনিত অনেক সমস্যা অনেক নিয়ন্ত্রণে আসে! তবে এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মাথায় রাখাও একান্ত প্রয়োজন, আমরা কী পরিমাণে নুন খাচ্ছি, তার উপরও কিন্তু রক্তচাপ বাড়বে না স্বাভাবিক থাকবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই খেজুর খাচ্ছেন খান, কিন্তু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে বেশি পরিমাণে নুন বা সোডিয়াম খাওয়া একেবারেই চলবে না।

৬। ডায়েরিয়ার উপশম করে

শাটারস্টক

উলটোপালটা খাওয়া হয়ে গেলে এবং শরীরে, বিশেষ করে অন্ত্রে প্রচুর পরিমাণে টক্সিন জমে গেলে ডায়েরিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। খুব বাড়াবাড়ি হওয়ার আগে যদি খেজুর খেতে পারেন তাহলে অনেকটা কষ্ট উপশম হয়। তাছাড়া ডায়েরিয়া হলে শরীর থেকে জল বেরিয়ে যায় এবং ডি-হাইড্রেশনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়, জলের সঙ্গে পটাশিয়ামও বেরিয়ে যায়; এসময়ে খেজুর খান। যেহেতু খেজুরে পটাশিয়াম রয়েছে, কাজেই উপকার পাবেন।

ADVERTISEMENT

৭। মস্তিষ্ক সতেজ রাখতে সাহায্য করে

আমরা সবাই জানি যে নিয়মিত কাঠবাদাম খেলে মস্তিষ্ক সতেজ থাকে, কিন্তু খেজুর খেলেও কিন্তু এই একই উপকার পাওয়া যায়। অনেকেরই বয়স হলে অ্যালজাইমার রোগ হয়। এই রোগে রোগী কোনও কিছুই ঠিকভাবে মনে রাখতে পারেন না যা তাঁর পক্ষে তো বটেই, তাঁর আশপাশের লোকজনের পক্ষেও খুবই অসুবিধেজনক। নিয়মিত খেজুর খেলে (যে-কোনও প্রকারেই), মস্তিষ্ক সতেজ থাকে এবং ভুলে যাওয়া রোগের আশঙ্কা কম হয়।

৮। শারীরিক মিলনে উৎসাহ যোগায়

অনেক পুরুষের শারীরিক মিলনে অনীহা থাকে জার প্রভাব তাঁদের বৈবাহিক জীবনে খুব স্বাভাবিকভাবেই এসে পড়ে। গবেষণা বলছে নিয়মিত খেজুর খেলে নাকি পুরুষদের সেক্সুয়াল হরমোন অ্যাক্টিভ হয় এবং শারীরিক মিলনে উৎসাহ বাড়ায়। গরম দুধে শুকনো খেজুর ভিজিয়েই হোক বা অন্যান্য ড্রাই ফ্রুটের সঙ্গেই হোক, বেশি করে খেজুর খান!

https://bangla.popxo.com/article/benefits-of-adhomukhaswanasan-yoga-pose-in-bengali

৯। এনার্জি প্রদান করে

সারাদিন কাজ করার জন্য আমাদের প্রাতরাশটা কিন্তু পুষ্টিকর হওয়া উচিত। প্রাতরাশে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে যদি খেজুরও খাওয়া যায় তাহলে সারাদিনের কাজ করার একটা এনার্জি বা শক্তি পাওয়া যায়। যারা ব্যায়ম করেন বা জিমে যান তাঁরাও খেজুরের সঙ্গে দুধ ও অন্যান্য ফল মিশিয়ে মিল্কশেক খেতে পারেন জিম করার পরে।

১০। রাতকানা রোগ সারায়

সূর্য ডোবার পর অনেকেরই চোখে দেখতে অসুবিধে হয়, আবার অনেকেই আছেন যারা রাতে একেবারেই চোখে দেখতে পান না, একে ‘Xerophthalmia’ (জেরোফথালমিয়া) বা সাধারনভাবে রাতকানা রোগ বলা হয়। খেজুরে নানা পুস্তিগুনের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে যা চোখের এই সমস্যা সমাধান ও প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তাছাড়া ভিটামিন এ চোখের জ্যোতিও বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

ADVERTISEMENT

১১। কোলোন ক্যান্সারে নিরাময় করতে সাহায্য করে

গবেষণায় জানা গিয়েছে, নিয়মিত খেজুর খেলে নাকি আমাদের শরীরে ভাল ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায় যা আমাদের পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং কোলোন ক্যান্সারের আশঙ্কা কমে এতে।

১২। গ্যাস-অম্বল কমাতে সাহায্য করে

খেজুরে ফাইবারের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়ামও রয়েছে যা হজমে সাহায্য করে এবং গ্যাস অম্বল প্রতিরোধ করে। যদি কখনও পেট খালি থাকে এবং তার ফলে গ্যাসের সমস্যা হয় তাহলে দু-তিনটি খেজুর খেয়ে নিন, গ্যাসের সমস্যা কমে যাবে।

১৩। গর্ভাবস্থায় সুস্থ থাকতে সাহায্য করে

শাটারস্টক

ADVERTISEMENT

আমেরিকার ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন-এর (National Centre for Biotechnology Information) একটা স্টাডিতে বলা হয়েছে যে প্রেগনেন্সির ৩৫ থেকে ৩৬ সপ্তাহের মধ্যে যদি নিয়মিত ছ’টা করে ছোট খেজুর খাওয়া হয় তাহলে মা এবং বাচ্চা দুজনের স্বাস্থ্যই ভালো থাকে এবং ডেলিভারি অনেক সহজ হয়। তারা এটাও বলেছেন যে সব প্রেগনেন্ট মহিলারা তাদের প্রেগনেন্সিতে নিয়মিত খেজুর খেয়েছেন, ডেলিভারির সময় দেখা গেছে যে তাদের সার্ভিক্স অনেক বেশি ফ্লেক্সিবল; ফলে ডেলিভারি করাটা অনেক বেশি সহজ হয়েছে। এছাড়া খেজুর খেলে নাকি লেবারের সময়ও অনেকটাই কমে আসে, ফলে মা কে বেশিক্ষন কষ্ট পেতে হয় না।

১৪। ত্বক উজ্জ্বল করে

খেজুর ত্বক উজ্জ্বল করে, হ্যাঁ, কথাটা ১০০% সত্যি! না, তা বলে কখনোই বলব না খেজুর বেটে মুখে লাগান অথবা খেজুরের প্যাক লাগান! খেজুর খেলেই হবে। দেখবেন, মধ্য প্রাচ্যের পুরুষ ও মহিলাদের ত্বক ওই শুষ্ক ভূমিতে থেকেও কত উজ্জ্বল! তাঁর কারণ, তাঁরা নিয়মিত খেজুর খান। খেজুরে রয়েছে ভিটামিন সি, যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। তাছাড়া খেজুরে অ্যান্টি-এজিং প্রপারটিস রয়েছে যা তারুণ্য ধরে রাখতেও সাহায্য করে।

১৫। চুল ঝরা কমায়

খেজুরে যেহেতু আয়রনের সঙ্গে আরও নানা প্রাকৃতিক খনিজ রয়েছে, কাজেই বুঝতেই পারছেন যে খেজুর আমাদের চুলের জন্য কতটা উপকারী! আমরা বেশিরভাগ মহিলাই নানা চুলের সমস্যায় ভুগি, আর তাঁর মধ্যে চুল ঝরা তো খুবই কমন। স্ক্যাল্পে নানা ইনফেকশন থেকে অথবা দুর্বল ইমিউনিটির জন্যও কিন্তু চুল ঝরার সমস্যা হয়ে থাকে। শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে খেজুরের ভূমিকা অসীম। আর শরীর সুস্থ থাকলেই ত্বক, চুল সবই সুস্থ থাকবে এবং কোনও সমস্যাই আর হবে না।

ADVERTISEMENT

খেজুরের উপকারিতা সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

১। কী কী ভাবে খেজুর খাওয়া যেতে পারে?

নানাভাবে আপনি খেজুর খেতে পারেন। কখনও ড্রাই ফ্রুট হিসেবে শুধু খেজুর খেতে পারেন আবার কখনও বা গরম দুধে শুকনো খেজুর ভিজিয়ে রেখে তা খেতে পারেন। কখনও বা ছোট ছোট টুকরো করে (অবশ্যই বীজ বার করে) অন্যান্য ড্রাই ফ্রুট যেমন কাঠবাদাম, আখরোট, কাজু, পেস্তা, অ্যাপ্রিকট ইত্যাদির সঙ্গে মিশিয়ে আপনি খেজুর খেতে পারেন। এই খাবারটি খুব পুষ্টিকর এবং অতিরিক্ত ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

২। শুকনো খেজুর আর রেগুলার খেজুরের মধ্যে কী তফাৎ?

প্রথমত, রেগুলার খেজুর শুকনো খেজুরের তুলনায় অনেক বেশি নরম এবং রসালো হয়। শুকনো খেজুর খুবই খড়খড়ে হয়। তবে পুষ্টিগত দিক থেকে দেখতে গেলে রেগুলার খেজুরের তুলনায় শুকনো খেজুর অনেক বেশি পুষ্টিকর। শুকনো খেজুরে কার্বোহাইড্রেট অনেক বেশি থাকে। তাছাড়া রেগুলার খেজুরের তুলনায় শুকনো খেজুরে আয়রন, ক্যালশিয়াম এবং ফাইবারও অনেক বেশি থাকে; তবে রেগুলার খেজুরে আবার ভিটামিন সি অনেকটা বেশি থাকে শুকনো খেজুরের তুলনায়।

৩। কীভাবে আসল খেজুর চিনব?

বাজারে খেজুর পাওয়া যায় বাক্সে করে, আর সবসময়ে বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব হয় না যে খেজুর ভাল না খারাপ! যখন আপনি খেজুর কিনবেন তখন দেখে নেবেন যে খেজুরগুলো নরম নাকি খড়খড়ে। যদি দেখেন খড়খড়ে, তাহলে বুঝবেন যে খেজুরগুলো চিনির রসে ডোবানো। খেজুরের উপরিভাগ একটু অসমান হতে পারে এবং প্রতিটি খেজুর একই মাপের না-ও হতে পারে।

৪। কীভাবে খেজুর স্টোর করব?

এয়ার টাইট কোনও কৌটোয় করে খেজুর ফ্রিজে রেখে দিলে প্রায় ছ’মাস পর্যন্ত তা ভাল থাকে, আর শুকনো খেজুরও যদি একইভাবে রাখেন তাহলে এক বছর পর্যন্ত ভাল থাকে। যদি আপনি ডিপ ফ্রিজে রাখতে চান খেজুর, তাহলে তা জিপার পাউচে করে একদম হাওয়া বার করে রাখুন। আরামসে বছরখানেক ভাল থাকবে।

ADVERTISEMENT

৫। যাঁদের মধুমেহ রোগ আছে তাঁরা কি খেজুর খেতে পারেন?

খেজুর খেতে মিষ্টি, অর্থাৎ এর মধ্যে চিনির ভাগ রয়েছে; তবে কৃত্রিম চিনি নয় এটাই বাঁচোয়া! আবার খেজুরে যেহেতু প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে কাজেই, তা মধুমেহ রোগীদের জন্য উপকারী। তবে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা কতখানি, তা দেখে এবং অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই খেজুর খান।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

এসে গেল #POPxoEverydayBeauty – POPxo-র স্কিন, বাথ, বডি এবং হেয়ার প্রোডাক্টস নিয়ে, যা ব্যবহার করা ১০০% সহজ, ব্যবহার করতে মজাও লাগবে আবার উপকারও পাবেন! এই নতুন লঞ্চ সেলিব্রেট করতে প্রি অর্ডারের উপর এখন পাবেন ২৫% ছাড়ও। সুতরাং দেরি না করে শিগগিরই ক্লিক করুন POPxo.com/beautyshop-এ এবার আপনার রোজকার বিউটি রুটিন POP আপ করুন এক ধাক্কায়…

14 Nov 2019

Read More

read more articles like this
good points

Read More

read more articles like this
good points logo

good points text