Advertisement

বিনোদন

মিস ইংল্যান্ডের শিরোপা জিতে নিলেন বাঙালি মেয়ে ডক্টর ভাষা মুখোপাধ্যায়

Doyel BanerjeeDoyel Banerjee  |  Aug 4, 2019
মিস ইংল্যান্ডের শিরোপা জিতে নিলেন বাঙালি মেয়ে ডক্টর ভাষা মুখোপাধ্যায়

Advertisement

“বিউটি উইথ ব্রেন!” খুবই রেয়ার অর্থাৎ প্রায় দেখাই যায় না এরকম যুগলবন্দি। আমরা ধরেই নিয়েছি যে, যে মেয়ে সুন্দরী হয়, সে খুব বোকা হয়! আর যে খুব মেধাবী হয়, সে সাজগোজ বা ফ্যাশন নিয়ে একদমই মাথা ঘামায় না। যুগ-যুগ ধরে প্রচলিত এই ধারণা যে আসলে ভুল, সেটা প্রমাণ করলেন ভাষা মুখোপাধ্যায়। উঁহু, ডক্টর ভাষা মুখোপাধ্যায় (Bhasha Mukherjee)। ২৩ বছরের ইংল্যান্ড (England) নিবাসী ভাষার (Bhasha Mukherjee) কাছে আছে একটা নয়, দু-দুটো ডাক্তারি ডিগ্রি! আর এই ডিগ্রি নিয়েই এই বছরে তিনি মিস ইংল্যান্ডের (England) খেতাব জিতে নিয়ে সকলকে চমকে দিলেন। 

Facebook

ভাষা কলকাতার মেয়ে। কিন্তু মাত্র নয় বছর বয়সে তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে ইংল্যান্ডে পাড়ি দেন। সেখানেই পড়াশোনা শুরু করেন। ছোটবেলা থেকেই বইয়ের ভক্ত ভাষা। স্বপ্ন দেখতেন যে, একদিন তিনি মহাকাশে পাড়ি দেবেন। হয়ে উঠবেন মহাকাশবিজ্ঞানী। স্কুলের শিক্ষকরাও তাঁকে এই বিষয়ে উৎসাহ দিতেন। তবে একটু বড় হওয়ার পর ভাষা বুঝতে পারেন, তিনি আসলে ডাক্তার হতে চান। কিন্তু যে মেয়ে মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দেখত, যে ডাক্তার হতে চাইত, সে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় নাম দিল কীভাবে? ভাষা জানিয়েছেন যে, খুব ছোট বয়সে তাঁকে শহর, দেশ আর স্কুল পাল্টে ইংল্যান্ডে যেতে হয়েছিল। বাবার কর্মসূত্রে তাঁকে বিলেতে গিয়েও অনেকবার স্কুল বদল করতে হয়েছিল। বারবার এরকম হওয়াতে মানিয়ে নিতে কষ্ট হত। ভাষা আশ্রয় খুঁজতেন বইয়ের পাতায় আর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। তাঁর মনে হত, পড়াশোনা আর বিদেশে মানিয়ে নেওয়ার চাপ থেকে এটা একটা মুক্তির পথ। একটু বেশি অক্সিজেন পাওয়ার সহজ উপায়। ২০১৬ সালেও ব্রিটেনের বর্ণময় সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য তিনি একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় নাম দিয়েছিলেন। তখনই তাঁর লক্ষ্য ছিল মিস ইংল্যান্ডের মুকুট। ডার্বি অঞ্চলের বাসিন্দা ২৩ বছরের ভাষার আইকিউ ১৪৬, অর্থাৎ বিজ্ঞানের ভাষায় তাঁকে ‘জিনিয়াস’ বলা যায়। গড়গড় করে বলতে পারেন মাতৃভাষা সহ আর হিন্দি, জার্মান, ফরাসির মতো ল্যাঙ্গোয়েজ। ভাষা চান, মেয়েদের সম্পর্কে বিশ্বের বদ্ধমূল ধারণা পাল্টাতে। মেয়ে হলেই তাঁকে দেখতে সুন্দর হতে হবে এরকম কোনও মানে নেই। আর সুন্দরী হলেই তাঁকে বোকা হতে হবে সেই যুক্তিও অর্থহীন। ভারতে মনে করা হয় যে, মডেল মাত্রই গবেট! এই কথা যে কত বড় ভুল, সেটা ভাষা প্রমাণ করেছেন। ডাক্তারি পড়তে-পড়তেই তিনি মডেলিং করতেন। আর তাতে পড়াশোনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়নি। মাথায় ইংল্যান্ড সেরা সুন্দরীর মুকুট পরেও চিকিৎসক হিসেবে নিজের দায়িত্ব ভোলেননি ভাষা। খেতাব জয়ের পরেই ভোরবেলা ট্রেন ধরে পাড়ি দিয়েছেন লিঙ্কনশায়ার। সেখানেই জুনিয়র ডাক্তার হিসেবে তাঁর জয়েন করার কথা যে! 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!