Advertisement

লাইফস্টাইল

বেশিরভাগ সময়েই ফেসবুকে অনলাইন? আপনার অজান্তেই আপনাকে ঘিরে ধরছে একাকিত্ব!

Indrani BoseIndrani Bose  |  Mar 17, 2021
বেশিরভাগ সময়েই ফেসবুকে অনলাইন? আপনার অজান্তেই আপনাকে ঘিরে ধরছে একাকিত্ব!

সারাদিনের রুটিন কী আপনার? ভাবছেন প্রথমেই হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন করছি। তার পিছনে নিশ্চয়ই কারণ আছে। অফিস, বাড়ির কাজ এবং অবসর সময়ে ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ আর না হলে ইনস্টাগ্রাম। সারা দিনটা এভাবেই কেটে যায়। কে কী পোস্ট করল, কে কী টুইট করল। আজ সেই বন্ধু ইনস্টায় কী ছবি আপ্লোড করেছে, এইসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে আর নিউজ ফিড স্ক্রল করতে করতেই ঘুম চলে আসে।

কিন্তু আপনি কী এটা জানেন, আপনার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের উপর নির্ভর করছে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়া বেশি ব্যবহার করেন তাঁরা মানসিক অবসাদ এবং একাকিত্বের সঙ্গে (does social media cause depression) বেঁচে রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া কম ব্যবহারকারীদের মধ্যে সেই প্রবণতা কম। আপনি কি সেই বিষয়ে জানেন? মানসিক অবসাদ ও সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্য়ে যোগসূত্র আছে!

আপনার পরিস্থিতিও কি এরকম?

গবেষণায় বিষয়

দ্য জার্নাল অফ সোশ্যাল অ্যান্ড ক্লিনিকাল সাইকোলজিতে একটি গবেষণা পত্র প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, একটি নতুন গবেষণায় দেখা গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং জীবনধারণে নেগেটিভ প্রভাবের মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে তা মানসিক অবসাদ এবং একাকিত্ব। দেখা গিয়েছে, যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়া কম ব্যবহার করেন তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্য়ের উপর তার প্রভাব কম। অর্থাৎ, তাঁদের মধ্যে মানসিক অবসাদ এবং একাকিত্বের (does social media cause depression) প্রভাবের সম্ভাবনা কম। আর যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন বেশি, তাঁদের একাকিত্ব ও মানসিক অবসাদের সম্ভাবনাও অনেক বেশি। অর্থাৎ, এই কথা সত্যি! কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া কীভাবে আমাদের উপরে নেগেটিভ প্রভাব ফেলে?

কী খাচ্ছেন সেটাও সোশ্য়াল মিডিয়ায়?

আপনি যা করতে পারছেন না, অন্য কেউ তা করছে

যখন সোশ্য়াল মিডিয়ার ব্যবহারের প্রবণতা এত বেশি ছিল না হয়তো তখন আমাদের জীবন ধারণ ও জীবনশৈলীও অনেক সহজ ছিল। কারণ, তখন আমাদের ব্যক্তিগত জীবন এত বেশিও প্রকাশ্যে আসেনি। অর্থাৎ, আমরা কোথায় ঘুরতে যাচ্ছি কিংবা আমরা আজ কোন রেস্তরাঁয় খেলাম, নতুন পোশাক পরে আমাদের কেমন লাগছে সেইসব কোনও তথ্যই আমাদের সবার সামনে তুলে ধরার প্রবণতা এত বেশিও ছিল না। হয়তো গল্পে গল্পে সেই নিয়ে কখনও আলোচনা হত। নিজের সেলিব্রেশনের ছবি আপ্লোড করার অর্থ কিন্তু অন্যের সামনে এই তুলে ধরা যে, আপনি কত ভাল আছেন! অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, হয়তো একজন মানুষ আসলে খুবই একা। সারাদিন তাঁর বাড়িতে কেটে যায়। কিন্তু তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া টাইমলাইনে সব সময়ই উদযাপনের ছবি। নিজেকে আনন্দিত প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে সব সময়।

আবার ধরুন, আপনার প্রচণ্ড কাজের চাপ। আপনি কোথাও বেরোতে পারেন না। অনেকদিন ধরেই আপনি একটি জায়গায় ঘুরতে যেতে চান। আপনি যেতে পারলেন না। কিন্তু দেখলেন আপনার অন্যান্য বন্ধুরা সেখান থেকেই ঘুরে এসেছে। সেই ছবি আপনার মন খারাপ তৈরি করল। হয়তো আপনি সেই ছবিতে লভ রিঅ্যাক্ট করলেন কিন্তু মনে মনে বিরক্তই হলেন কেবল। আপনার মনে খারাপ লাগা তৈরি হল, তৈরি হল একটি অবসাদ। যা এক সময় মানসিক অবসাদের (does social media cause depression) পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

নতুন পোস্ট করতে যাচ্ছেন?

ভার্চুয়াল বিশ্বকে এত আপন করবেন না

যে মানুষটি ব্যক্তি জীবনে খুবই ইন্ট্রোভার্ট, যাঁর একজন বন্ধু বানাতেই অনেকটা সময় লেগে যায় তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল একদম অন্যরকম। কারণ, সেখানে সরাসরি কোনও মানুষের সঙ্গে মিশতে হয় না তাঁকে। বলা ভাল, ওই পৃথিবীকেই বেশি আপন করে ফেলেন তিনি। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড তাঁর কাছে অনেক বেশি সহজ হয়ে ওঠে। কিন্তু এ কি আদৌ আপনার জন্য ভাল? ভেবে দেখবেন।

সোশ্য়াল মিডিয়া ব্যবহারে কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু সব কিছুরই একটি মাত্রা ও একটি সময় সীমা রয়েছে। অতিরিক্ত পরিমাণে সোশ্য়াল মিডিয়া ব্যবহার আপনার অজান্তেই মানসিক অবসাদ ও একাকিত্ব তৈরি করতে পারে (does social media cause depression) । তখন দেখবেন, আসল পৃথিবীতে আপনার চারপাশে সত্যিই কেউ নেই। ভার্চুয়াল পৃথিবীকে ছুঁতে গেলে দেখবেন তা কখন হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে, শুধু আপনিই বুঝতে পারেননি।

https://bangla.popxo.com/article/gifts-can-be-precious-for-your-relationship-in-bengali

POPxo এখন চারটে  ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!       

বাড়িতে থেকেই অনায়াসে নতুন নতুন বিষয় শিখে ফেলুন। শেখার জন্য জয়েন করুন #POPxoLive, যেখানে আপনি সরাসরি আমাদের অনেক ট্যালেন্ডেট হোস্টের থেকে নতুন নতুন বিষয় চট করে শিখে ফেলতে পারবেন। POPxo App আজই ডাউনলোড করুন আর জীবনকে আরও একটু পপ আপ করে ফেলুন!