Advertisement

Festival

আজ গুরুপূর্ণিমা, একইসঙ্গে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করবেন হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈনরা

Parama SenParama Sen  |  Jul 16, 2019
আজ গুরুপূর্ণিমা, একইসঙ্গে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করবেন হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈনরা

গুরুর ব্রহ্মা, গুরুর বিষ্ণু/গুরুদেব মহেশ্বর/গুরু সাক্ষাৎ পরম ব্রহ্ম/তস্মৈ শ্রী গুরোবে নমঃ

আজ গুরুপূর্ণিমা (Guru Purnima)। এটি এমন একটি শুভদিন, যেদিন ভারতের হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, সকলে মিলে একইসঙ্গে এই দিনটি পালন করেন। আমাদের জীবনে শিক্ষক বা গুরুর গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাচীন ভারতীয় চতুরাশ্রমের নিয়ম অনুসারে, গুরুই আমাদের শিক্ষায় এবং সর্বোপরি চরিত্র গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। কারণ, জীবনের প্রথম আশ্রম, অর্থাৎ ব্রহ্মচর্যের সময় গুরুর অধীনেই আমাদের শিক্ষা ও বিকাশ হয়। এখন আমরা চতুরাশ্রম মানি না। শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করি ৫ সেপ্টেম্বর, ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ডাঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিনটিকে। কিন্তু সে তো হাল আমলের। তার চেয়ে ঢের আগেও যে এই দেশে গুরুর (guru) জন্য আস্ত একটি দিন বরাদ্দ করা হয়েছিল, সেকথা আমাদের অনেকেরই জানা নেই। গুরুপূর্ণিমা তাই আমাদের কাছে পাঁজির একটি বিশেষ দিন হিসেবেই রয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই এই দিনটির ইতিহাস ও গুরুত্ব (significance) সম্বন্ধে আমরা আজ কয়েকটি কথা জেনে নেব।

১. গুরুপূর্ণিমার ইতিহাস

instagram

নানা ধর্মের লোকেরা নিষ্ঠাভরে এই দিনটি পালন করেন। তাই বিভিন্ন ধর্মে এর ব্যাখ্যা ভিন্ন! আসুন, জেনে নেওয়া যাক এই দিনটির ইতিহাস (history)।

যেমন বৌদ্ধরা মনে করেন, গয়াতে বোধিবৃক্ষের নীচে মোক্ষলাভের ঠিক পাঁচ সপ্তাহ পরে এই দিনটিতেই নাকি বুদ্ধদেব তাঁর প্রথম বাণী দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, এই দিনই গুরু হিসেবে তাঁর প্রথম আত্মপ্রকাশ। তাই বৌদ্ধদের কাছে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম, তা সে ভারতীয় বৌদ্ধই হোন বা চিনা বৌদ্ধ! তাঁরা সকলেই নিজের দেশের রীতি অনুসারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন এই দিনে।

আবার হিন্দু শাস্ত্রমতে, শ্রাবণ (অসাধ) মাসের প্রথম পূর্ণিমাটিই হল গুরু পূর্ণিমা। এদিন আবার মহাভারতের রচয়িতা মহর্ষি বেদ ব্যাসের জন্মদিনও বটে। হিন্দু মতে, একজন প্রকৃত গুরুই তাঁর শিষ্যদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যান। তাই সেরকম যে-কোনও লোকের প্রতিই আজকের দিনে শ্রদ্ধা জানানো যেতে পারে। আবার শ্রী রামকৃষ্ণদেব বলে গিয়েছিলেন যে, আমদের প্রত্যেকের মধ্যেই আসলে একজন গুরুর বাস। আমরাই আমাদের কুণ্ডলিনীকে জাগ্রত করে প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে পারি। গুরুপূর্ণিমা সেটাই মনে করিয়ে দেওয়ার দিনও বটে। আবার আজকের দিনটিতেই নাকি ভগবান শিব এই সৃষ্টির প্রথম গুরু হয়েছিলেন তাঁর যোগবিদ্যা সপ্ত ঋষিকে দান করে! তাই সেই আদিগুরুর চরণেও অনেকেই আজ শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকেন।

আবার জৈনরা বিশ্বাস করেন, এই দিনটিতেই নাকি মহাবীর তাঁর প্রথম শিষ্য হিসেবে গান্ধারের গৌতম স্বামীকে স্বীকার করেছিলেন! তাই তীর্থঙ্কর মহাবীরের গুরু হিসেবে আত্মপ্রকাশের দিনটিকে নিষ্ঠাভরে পালন করেন তাঁরাও।

২. গুরু পূর্ণিমা তিথি ও পূজার বিধি

এবছর গুরু পূর্ণিমার তিথি শুরু হবে আজ রাত ১টা বেজে ৪৮ মিনিট থেকে ও চলবে আগামী কাল রাত ৩টে বেজে সাত মিনিট পর্যন্ত। এই পুরো সময় জুড়েই আপনি গুরু পূর্ণিমার পুজো করতে পারেন।

পুজোর নিয়ম সেভাবে আলাদা করে কোনও নিয়ম নেই। তবে ভগবানকে নানা নিরামিষ ভোগ, যেমন লুচি-সুজি, খিচুড়ি-তরকারি-ভাজা, পায়েস, ক্ষীর, নানা রকমেপ মিষ্টি ইত্যাদি দিতে পারেন। আর দই, গঙ্গাজল, মধু ও ড্রাই ফ্রুট সহযোগে চরণামৃতও তৈরি করে অর্পণ করা যেতে পারে। পূর্ণিমা চলাকালীন নিরামিষ খাবারদাবার খেয়ে শুদ্ধ থাকা উচিত। অনেকে আবার এদিন বাড়িতে সত্যনারায়ণের সিন্নিও দেন। যে-কোনও শুভ কাজের জন্য এটি অত্যন্ত শুভ দিন। 

৩. কত ধরনের গুরু আসতে পারেন আমাদের জীবনে

আপনি ভাবছেন, শুধু শিক্ষকরাই গুরু! কিন্তু না, প্রাচীন শাস্ত্রমতে. আমাদের জীবনে পাঁচ ধরনের গুরুর আবির্ভাব হতে পারেন। যেমন,

১. দীক্ষা গুরু: যিনি মন্ত্রের দ্বারা শিক্ষা দেন।

২. শিক্ষা গুরু: যিনি ধর্মীয় নানা বিষয়ের উপর আলোকপাত করে শিষ্যের জীবন উজ্জ্বল করেন।

৩. প্রেরক: যিনি আমাদের অনিসন্ধিৎসু করে তোলেন।

৪. সূচক: যিনি আমরা কোন ধর্মীয় পথে এগোব, তা নির্ধারণ করে দেন।

৫. বাচক: যিনি ধর্মের প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করে বোঝান।

৬. দর্শক: যিনি সুপথের সঙ্গে সুপথের ফারাক বুঝিয়ে দেন।

৭. বোধক: যিনি ধর্মের নানা খুঁটিনাটি ও তা অভ্যেস করার উপায় বাতলে দেন। 

৮. শিক্ষক: যাঁর কাছে আমরা ধর্ম ও অন্যান্য জাগতিক বিষয় নিয়ে শিক্ষালাভ করি।

এই আট প্রকার গুরুর উদ্দেশ্যে আজকের দিনটিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা যেতে পারে।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!