Advertisement

লাইফস্টাইল

মাত্র ৫০ হাজারেই সম্ভব বিদেশ ভ্রমণ! (international trips under 50 k)

popadminpopadmin  |  Jan 29, 2019
মাত্র ৫০ হাজারেই সম্ভব বিদেশ ভ্রমণ! (international trips under 50 k)

Advertisement

ছাপোষা চাকরিজীবীর পক্ষে চাইলেই তো আর বিদেশ ভ্রমণ (international trips) সম্ভব নয়। কারণ মূল সমস্যা হল মূলধন। এত খরচের মাঝে লাখ খানেক টাকা জমানোটাই তো সবথেকে চাপের বিষয়। তাই তো কখনও পূরণ হবে না এমন স্বপ্ন ভেবে যেদিন বিদেশ ভ্রমণের ইচ্ছাকে মনের মণিকোঠার অন্ধকার কুঠুরিতে তালা বন্ধ করার প্ল্যান করছি, সেদিনই হঠাৎ সন্ধান পেলাম এমন কিছু ফরেন ডেস্টিনেশনের, যেখানে ঘরে আসা সম্ভব কম-বেশি ৫০ হাজার টাকা খরচ করেই (international trips under 50k from india)। তবে ২-৩ দিনের বেশি নয় যদিও। আর এই সব জায়গাগুলি কিন্তু মোটেও ফেলনা নয়। তাই ভাবলাম, আমার মতো আরও যারা পকেট হালকা সত্ত্বেও বিদেশ ভ্রমণের (international trips) স্বপ্ন দেখে, তাদের সেই সব জায়গাগুলির সন্ধান দিলে কেমন হয়! তাই তো এই প্রবন্ধটি লেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া।

প্রসঙ্গত, বাজেটের মধ্যে থেকেও পাসপোর্টে স্ট্যাম্প মেরে যে যে ফরেন কান্ট্রিগুলি ঘুরে আসা সম্ভব, সেগুলি হল…

১. দি ইউনাইটেড আরব এমিরেটস:

travel-dubai
দুবাই, আবু ধাবি বা শারজাহ, আরব এমিরেটসে অবস্থিত প্রত্যেকটি মরু শহরেরই সৌন্দর্য এবং স্থাপত্য মন কাড়া। শুধু তাই নয়, এখানে অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্যও রয়েছে নানান ব্যবস্থা। আর যারা শপিং করতে ভালোবাসো, তাদের জন্য তো দুবাই স্বর্গের সমান। তাই এখন থেকেই অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে যদি প্লেনের টিকিটা কেটে ফেলতে পারো, তাহলেই কেল্লা ফতে! কারণ টিকিট যত আগে কাটবে, তত কিন্তু কম খরচ হবে।

হোটেল: একটু খোঁজ-খবর নিয়ে বুকিং করলে ১৭০০ টাকা থেকে ৭০০০ টাকার মধ্যে ভালো হোটেল পেয়ে যাবে। আর কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্টের অফার দিচ্ছে এমন হোটেলে রুম বুক করলে খরচ আরও কিছুটা কমবে বৈকি!

২. ভুটান:

এ দেশে যেতে হলে পাসপোর্টের প্রয়োজন পড়ে না। তবে কলকাতার মিন্টো পার্কে অবস্থিত ভুটান এম্বাসি থেকে বিশেষ পারমিট সংগ্রহ করতে হয়। বিশেষ এই পারমিটটি সঙ্গে না থাকলে কিন্তু ভুটানে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রসঙ্গত, ইচ্ছা হলে কলকাতার ভুটান এম্বাসির পরবির্তে পশ্চিমবঙ্গ-ভুটান সীমান্ত লাগোয়া জয়গাঁও শহর থেকেও পারমিট সংগ্রহ করা যেতে পারে। প্রসঙ্গত, কলকাতা থেকে পারো পর্যন্ত বিমান যোগাযোগ রয়েছে ঠিকই। কিন্তু খরচ বাঁচাতে চাইলে ট্রেন পথে পোঁছে যেতে পারো হাসিমারা। সেখান থেকে ভাড়া গাড়িতে জয়গাঁও। তারপর বর্ডার পেরিয়ে ভুটান রেজিস্ট্রেশনের ভাড়া গাড়ি নিয়ে একে একে দেখে নিতে পারো থিম্পু, পুনাখা এবং পারো সহ ভুটানের আরও সব টুরিস্ট ডেস্টিনেশনগুলি। প্রসঙ্গত, ভুটান ভ্রমণের সময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মজা নিতে নিতে যদি একটু অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ নিতে ইচ্ছা করে, তাহলে পুনাখার মো চো নদীতে রিভার রাফটিংও করতে ভুলো না যেন!

হোটেল: ভুটানের প্রায় সব জায়গাতেই ১১০০- ৪০০০ টাকার মধ্যে ভালো হোটেলের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে একটু আগে থেকে যদি রিসার্চ করে রাখতে পারো, তাহলে খোঁজা-খুঁজি করতে হবে কম।

৩. দক্ষিণ কোরিয়া:

travel-south-korea
কম খরচে বিদেশ ভ্রমণের (cheap foreign trips from india) স্বাদ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ার থেকে ভালো জায়গা আর হতে পারে না। আর যদি প্রশ্ন করো কেন যাওয়া উচিত এদেশে? তাহলে জেনে রাখা ভালো যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে এই দেশটি সত্যিই অনবদ্য। সেই সঙ্গে শহর জীবনের মাদকতা তো রয়েছেই। তাই তো বলি বন্ধু, অল্প কিছুদিনের জন্য প্রকৃতিক কাছাকাছি থাকতে চাইলে এ বছর পুজোর সময় ঘুরে আসতেই পারো দক্ষিণ করিয়ার রাজধানী সিওল থেকে।

হোটেল: ৫-৬ জন একসঙ্গে বেরাতে গেলে এবং অনেক অগে থেকে বুকিং সেরে রাখলে ২৫০০-১০,০০০ টাকার মধ্যে ভালো হোটেল পাওয়া সম্ভব। আর যদি একটু রিসার্চ করতে পারো, তাহলে আরও একটু খরচ কমবে বৈকি!

৪. সিঙ্গাপুর:

অপূর্ব সুন্দর সব সমুদ্র সৈকত তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে উপরি পাওনা বাজেট শপিং এবং উদ্দাম শহুরে জীবন। শুধু তাই নয়, এখানকার সি ফুড বেজায় সুস্বাদু। তাই তো ভ্রমণ প্রেমী এবং খাদ্য রসিকদের জন্য সিঙ্গাপুর বাস্তবিকই স্বর্গরাজ্য! এমনকি হানিমুন ডেস্টিনেশন (honeymoon) হিসেবেও গত কয়েক বছরে একেবারে প্রথম সারিতে উঠে এসেছে এ জায়গার নাম।

হোটেল: এখানে কম থেকে দামি, সব ধরনেই হোটেলেরই সন্ধান মেলে। তবে একটু ভালো হোটেলে থাকতে গেলে ৪০০০-৮০০০ টাকার মতো খরচ হতে পারে।

৫. কাতার:

travel-qatar
দুবাই, আবুধাবি এবং শারজাহর পরে মধ্যপ্রাচ্যের যে দেশে সবথেকে বেশি সংখ্যক ভারতীয় টুরিস্টদের আগমণ ঘটে সে জায়গা হল কাতার। আর ভ্রমণ পিপাসুদের এ জায়গায় ভিড় জমানোর পিছনে বেশ কিছু কারণও রয়েছে, যার অন্যতম হল পার্সিয়ান গালফের মন কেড়ে নেওয়া সৌন্দর্য। সেই সঙ্গে ইতিহাস এবং আধুনিকতা মিলেমিশে গড়ে ওঠা কাতারের রাজধানী শহর দোহার সংস্কৃতি বাস্তবিকই অনন্য়। এর পাশাপাশি উটে এবং হেলিকপ্টারে চড়ে মরুভূমি ভ্রমণ তো রয়েছেই!

হোটেল: দোহায় হোটেলের খরচটা একটু বেশি। তবে একসঙ্গে যদি ৬-৭ জন ঘুরতে যেতে পারো, তাহলে প্রতিদিন হোটেল পিছু ৭০০০-৯০০০ টাকার মতো খরচ হতে পারে।

৬. থাইল্যান্ড:

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে চুটিয়ে শপিং, সেই সঙ্গে খিদে মেটাতে রয়েছে হরেক স্বাদের সি ফুড, আর গলা ভেজাতে হাত বাড়ালেই মিলবে ঠান্ডা বিয়ার! এই হল সংক্ষেপে থাইল্যান্ড ভ্রমণ। আর তাই তো সারা বছর ধরেই এদেশে কম বয়সী ভারতীয়দের ভিড় লেগেই থাকে। তবে থাইল্যান্ড ঘুরতে এসে বেশিরভাগই শুধুমাত্র ব্যাংকক ঘুরে দেখে। তাতে ক্ষতি নেই যদিও! তবে আরও কাছ থেকে থাইল্যান্ডকে দেখতে হলে ব্যাংককের পাশাপাশি ফুকেটও ঘুরে দেখতে ভুলো না যেন! প্রসঙ্গত, হাতে সময় থাকতে থাকতে যদি প্লেনের টিকিট কাটতে পারো, তাহলে খরচ হবে কম।

হোটেল: একটু খুঁজলে ২৫০০-৫০০০ টাকার মধ্যে ভালো হোটেলের সন্ধান পেয়ে যেতে পারো। তবে এর থেকেও কম দামি হোটেলও রয়েছে ব্যাংকক শহরে। যদিও সেগুলির মান খুব একটা ভালো নয়।

৭. ইন্দোনেশিয়া:

travel-indonesia
থাইল্যান্ডের মতো অতটা “হ্যাপেনিং” না হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে ইন্দোনেশিয়াও কিন্তু পিছিয়ে নেই। তাই তো বাজেট ভ্রমণের যে লিস্ট বানাবে, তাতে দক্ষিণ এশিয়ার এই ছোট্ট দেশটিকে একটু উপরের দিকে জায়গা করে দিতে ভুলো না যেন! এখানে এসে অংশ নিতে পারো নেচার ট্রিপে। সেই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী শহর জাকার্তার ইতিউতি ছড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক নির্দশন, রয়েছে বহু প্রাচীন মন্দিরও, যা এক বেলার মধ্যেই দেখে ফেলা সম্ভব। ইচ্ছা হলে ঘুরে আসতে পারো বালি থেকেও। তবে তাতে খরচ একটু বাড়বে।

হোটেল: একসঙ্গে অনেকে যদি যাও এবং শেয়ার করে থাকো, তাহলে হোটেলের পিছনে খরচ হবে দিন পিছু কম-বেশি ৪০০০-৮০০০ টাকা।

৮. ওমান:

এক সময়ে বিশ্বের দ্বিতীয় সবথেকে সুন্দর শহরের তকমা পাওয়া মাস্কাট শহরটি কিন্তু বাস্তবিকই অনবদ্য। সেই সঙ্গে ডলফিন ট্যুর, টার্টেল ওয়াচিং এবং হরেক রকমের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস তো রয়েছেই। তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি যদি অ্যাডভেঞ্চারের খিদে মেটাতে হয়, তাহলে ওমানের রাজধানী মাস্কাট ভ্রমণ মাস্ট! তবে এই শহরটি ছাড়াও ঘুরে দেখতে পারো মুতিহা (Muttiah) এবং নিজওয়া (Nizwa) এর মতো জায়গাও।

হোটেল: মাস্কাট শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অনেক বাজেট হোটেল, যেখানে থাকতে খরচ হবে কম-বেশি ৩০০০-৭০০০ টাকা।

৯. শ্রীলঙ্কা:

travel-srilanka
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, জঙ্গল এবং সংস্কৃতির মেলবন্ধনে শ্রীলঙ্কা বাস্তবিকই অপূর্ব সুন্দর একটি দেশ। সেই সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে জলকেলি এবং জিভে জল আনা নানান স্বাদের সি ফুড চেখে দেখার সুযোগ মেলাটা তো উপরি পাওনা। তবে শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে এলে কলম্বোর পাশাপাশি ক্যান্ডি, মাতারা কাতারাঙ্গামা এবং কিরিন্ডার মতো জায়াগাগুলিও ঘুরে দেখতে ভুলো না যেন!

হোটেল: একসঙ্গে যদি দুজন ঘুরতে যাও, তাহলে ছয় দিনের ট্রিপে হোটেলের পিছনে মাথা পিছু খরচ হবে কম-বেশি ৭০০০-১২০০০ টাকা।

১০. হংকং:

দেদার খানা-পিনা, সঙ্গে উদ্দাম শহুরে জীবনের স্বাদ যদি পেতে চাও তাহলে হংকং ঘুরতে একবার আসতেই হবে! আর পার্টি করতে করতে হাঁপিয়ে গেলে ঘুরে আসতে পারো হংকং-এর আশেপাশে অবস্থিত বেশ কিছু মন কারা ঐতিহাসিক জায়গা থেকেও। ইচ্ছা হলে আবার যেতে পারো ওয়াল্ড লাইফ সাফারি, স্টেনলি মার্কেট অথবা হ্য়াপি ভ্য়ালির মতো জায়গাতেও।

হোটেল: বাকি সব টুরিস্ট ডেস্টিনেশনগুলির তুলনায় হংকং একটু এক্সপেনসিভ। তাই এখানে হোটেলের পিছনে মাথা পিছু খরচ হতে পারে ৪০০০-১০০০০ টাকার মতো।

১১. কম্বোডিয়া:

travel-cambodia
টুরিস্ট ম্যাপে সেভাবে জায়গা করে না নিলেও এদেশের সংস্কৃতিক, প্রাচীন সব ইমারত এবং মন্দির সত্যিই মন কারা। বিশেষত শতাব্দী প্রাচীন আঙ্গকর ওয়াট মন্দিরের কারুকার্য দেখলে তো বাস্তবিকই অবাক হতে হয়। তাই তো বলি বন্ধু, ইতিহাসের সরণি পেরিয়ে যদি টাইম ট্রাভেল করতে চাও, তাহলে এ জীবনে একবার কম্বোডিয়ায় আসতেই হবে!

হোটেল: কম্বোডিয়ার রাজধানী ফনোম পেনে রয়েছে বেশি কিছু বাজেট হোটেল, যেখানে দিন পিছু ৩০০০-৮০০০ টাকার মধ্যে রুম পাওয়া সম্ভব।

১২. সেসেল দ্বীপ:

ভারত মহাসাগরে ভাসমান এই ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্রটির প্রাকৃতির শোভা একবার যে দেখেছে, সে বারে বারে ফিরে এসেছে এই দ্বীপে। কারণ সেচেল দ্বীপের প্রতিটি সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্যই যেন পোস্ট কার্ডের মতো। সেই সঙ্গে সবুজ বনানীর আলপোনা তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে এ যেন এক স্বর্গরাজ্য। তাই তো হানিমুন ডেস্টিনেশন (honeymoon) হিসেবে এই দ্বীপটি গত কয়েক বছরে বেজায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কম বয়সীদের মধ্যে। প্রসঙ্গত, এখানে আসার পরে জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেরানো, সেই সঙ্গে গ্লাস বোটে চেপে কোরাল দর্শন তো রয়েছেই। আর যদি অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ পেতে চাও, তাহলে কোনও একদিন স্কুবা বা স্নরকেলিংও করে দেখতে পারো! প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে একটা জিনিস জেনে রাখা ভালো যে ঘুরতে যাওয়ার ৭-৮ মাস আগেই যদি প্লেনের টিকিট কেটে না রাখো, তাহলে কিন্তু ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ঘুরে আসা সম্ভব নাও হতে পারে।

হোটেল: এখানে হোটেলের খরচটা একটু বেশি। তবে সময় থাকতে থাকতে যদি বুকিং করে ফেলতে পারো এবং শেয়ার করে থাকতে পারো, তাহলে ১৫০০০-২৫০০০ টাকার আশেপাশে ভালো হোটেলে পাওয়া সম্ভব। আর যদি গ্য়াঁটের কড়ি আর একটু বেশি খরচ করতে পারো, তাহলে তো কথাই নেই!

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!