logo
Logo
User
home / পেরেন্টিং টিপস
শিশু ভুল করলেই তাকে মারধর করেন? জানেন কী ক্ষতি করছেন?

শিশু ভুল করলেই তাকে মারধর করেন? জানেন কী ক্ষতি করছেন?

আপনার শিশু কোনও ভুল কাজ করলে আপনি তাকে কীভাবে শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করেন? তাকে বকাবকি করেন? তাকে মারধর করেন? নাকি অন্য় কোনও পদ্ধতি আপনি অবলম্বন করেন? বেশিরভাগ অভিভাবকই সন্তান ভুল করলে শিশুকে মারে । মারধর করে ভুল শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এতে কি আদৌ কোনও লাভ হয়? নাকি মারধর করার কারণে শিশুর শারীরিক আঘাত তো লাগেই, সঙ্গে মানসিক প্রভাবও পড়ে। কথায় কথায় (your child) শিশুকে মারধর করলে কী হয়? শিশুকে মারা কি ঠিক?

শিশুকে মারধর (your child) করলে তার মধ্য়ে কী প্রভাব পড়ে?

সে মিথ্য়ে বলতে শুরু করে। হয়তো আপনার শিশু কোনও ভুল কাজ করেছে। সে জানে, আপনাকে সত্য়ি কথা বললেই আপনি তাকে মারধর করবেন। তাই মার খাওয়ার ভয়ে সে মিথ্য়া বলতে শুরু করে। পরে তা অভ্যাস হয়ে যায়।

নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য় মারধর করাকেই তারা সঠিক পদ্ধতি মনে করে। শিশু কথা না শুনলে আপনি তাকে মারধর করেন। নিয়ন্ত্রণ করেন সেভাবেই। সেও ওই পদ্ধতিকেই কাজে লাগাতে চায়। বন্ধুদের সঙ্গে বচসায় জড়ালে সে প্রথম মারামরি করবে। পরবর্তী সময়ে ওই পদ্ধতি সে অন্য় কারও প্রতিও প্রতিফলিত করতে পারে। সে এই কাজটাকে সঠিক মনে করে। কারণ তারা বাবা-মাকে দেখেই শেখে। তাই ছোট ভুলের জন্য় বাবা ও মা তাকে মারলে, সেও এই পদ্ধতিই গ্রহণ করবে।

সে ভয় পেতে শুরু করে

শিশুরা (your child) মানসিক দিক দিয়েও আঘাত পায়। তখন তাদের মনে বাসা বাঁধে ভয়। তারা সব সময় আতঙ্কে থাকে। হিংসার শিকার শিশুদের অধিকাংশের মধ্য়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভাব দেখা দেয়। সবসময় মারলে তাদের আত্মবিশ্বাসও আঘাত পায়। নিজের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে যায়। ক্রমশই একাকীত্বে ভুগতে শুরু করে।

বাচ্চা (your child) সব সময় মার খেলে মা-বাবার প্রতি তাদের মনে রাগ জমে। তারা মা-বাবা থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে। ভবিষ্যতে তারা অনেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে।

আপনি যদি তাকে যে কোনও ভুলের জন্য়েই মারেন, তাহলে তার মার খাওয়া গা সওয়া হয়ে যাবে। একসময় পর আর সেই মার খাওয়ায় কিছুতেই ভয় পাবে না সে। সে জেদি হয়ে যেতে পারে। কৈশোর তাদের জীবনে কঠিন সময় হতে পারে। ভালবেসে বা আদর করে কিছু বললেও তারা তখন মা ও বাবার কথা শোনে না

যারা ছোট থেকে মার খায়, তাদের সবাই কি সমস্য়ায় পড়ে?

তাদের সবার ক্ষেত্রেই হয়তো অসুবিধা তৈরি হয় না। কিন্তু অনেকেই সমস্য়ার সম্মুখীন হন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, কোনও অত্যাচারী স্বামী তাঁর স্ত্রী’কে মারধর করেন। তাঁর শৈশবেও তাঁর বাবা কিংবা মা তাঁর উপর অত্যাচার করতেন। মারধর করতেন। একাকীত্বে ভোগা কোনও কিশোর বা কিশোরীর জীবনেও এরকম ইতিহাস পাওয়া গিয়েছে।

সে জেদি হয়ে ওঠে

তাহলে এর বিকল্প পথ কী?

অবশ্য়ই মারধরের বিকল্প পথ আছে। অনুশাসনের বিকল্প রূপ আছে। তার জন্য় শিশুকে প্রহার করার প্রয়োজন নেই। হয়তো আপনার শিশু (your child) কোনও ভুল করেছে। তাকে বুঝিয়ে দিয়ে হবে সে ভুল করেছে। এই কাজ যেন আর সে না করে। তিন-চার বছর সময় থেকেই এই শিক্ষা শুরু করতে হবে। প্রথমে তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। পরবর্তীতে অন্য় পথ বেছে নিতে হবে।

যেমন, হয়তো আপনার শিশু টিভি দেখতে ভালবাসে। সে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান দেখতে চায়। তার সেই অনুষ্ঠান দেখা কিছুদিনের জন্য় বন্ধ করে দিতে পারেন। সে যেন বোঝে, তার অন্য়ায় কাজে আপনি খুশি নন। সে আপনার কাছে এসে ক্ষমা চাইলে তবেই আবার অনুষ্ঠানটি দেখতে দেবেন। শিশুকে ক্ষমা চাইতে শেখাতে হবে। সে ক্ষমা চাইলে, ভুল স্বীকার করলে তা মেনে নিন।

তার সামনে আপনারা যেমন ভাবে নিজেকে প্রকাশ করবেন, সেও তাই শিখবে। সে যদি আপনাকে সব সময় ভুল কাজের পর তর্ক করতে দেখে, সেও কিন্তু তাই শিখবে। শিশুদের মধ্য়ে ছোট থেকেই খারাপ ব্যবহার করার অভ্যাস থাকে না। সে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যা দেখে, তাই শেখে। তাই আপনিও সেই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। সবাই মিলে ভাল থাকবেন। আপনার পরিবার সুস্থ থাকবে।

POPxo এখন চারটে ভাষায়! ইংরেজিহিন্দিমারাঠি আর বাংলাতেও!      

বাড়িতে থেকেই অনায়াসে নতুন নতুন বিষয় শিখে ফেলুন। শেখার জন্য জয়েন করুন #POPxoLive, যেখানে আপনি সরাসরি আমাদের অনেক ট্যালেন্ডেট হোস্টের থেকে নতুন নতুন বিষয় চট করে শিখে ফেলতে পারবেন। POPxo App আজই ডাউনলোড করুন আর জীবনকে আরও একটু পপ আপ করে ফেলুন!

19 Feb 2022

Read More

read more articles like this
good points logo

good points text