Fitness

সারাদিন বসে-বসে কাজ? জেনে নিন, ডেস্কে বসে একটানা কাজ করার সঠিক পশ্চার

Debapriya BhattacharyyaDebapriya Bhattacharyya  |  Aug 13, 2019
সারাদিন বসে-বসে কাজ? জেনে নিন, ডেস্কে বসে একটানা কাজ করার সঠিক পশ্চার

দিনে-দিনে আমাদের সকলের ব্যস্ততা এতটাই বাড়ছে যে, নিজেদের জন্যই সময় বের করা বেশ চাপের বিষয় হয়ে পড়ছে। তার উপর বেশিরভাগ মানুষ আজকাল কম্পিউটারে কাজ করেন। ফলে দিনের মধ্যে ১০-১২ ঘণ্টার বেশি সময় বসেই কাটাতে হয়। দিনের মধ্যে এতটা সময় যখন বসে-বসে (desk job) কাজ করতে হয়, তখন দিনের পর দিন এভাবে কাজ করতে-করতে পিঠ, কোমর, কাঁধ, পায়ের পাতা এবং মোটামুটি গোটা শরীরেই গাঁটে-গাঁটে ব্যথা হওয়াটা খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। যেহেতু নড়াচড়া কম হয়, কাজেই পেটেও মেদ জমতে খুব একটা সময় লাগে না। প্রথমদিকে অসুবিধেগুলো নজরে না পড়লেও, বেশিদিন এভাবে থাকলে কিন্তু ভবিষ্যতে বেশ বড় রকমের শারীরিক সমস্যায় পড়তে পারেন।

শাটারস্টক

কি ভাবছেন, আমি চাকরি ছেড়ে দিতে বলছি? একদম না! এই বাজারে চাকরি ছাড়লে আর একটা চাকরি না-ও পেতে পারেন। তা হলে উপায়? জিমে যাওয়ার বা যোগব্যায়াম করার সময় বা ইচ্ছে কোনওটাই যদি না থাকে, তা হলেও কিন্তু আপনি শরীর অর্থাৎ গাঁটের ব্যথা এড়াতে পারেন। কীভাবে সেই উপায়ই (sitting posture) বলে দিচ্ছি! তবে তার আগে একবার জেনে নিন একটানা বসে কাজ করলে ,কী কী শারীরিক সমস্যা আসতে পারে

সারাক্ষণ বসে কাজ করলে যে যে সমস্যা হতে পারে

  • কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি এবং হার্টের সমস্যা
  • পা ঝুলিয়ে বসে থেকে পায়ের পাতা ফোলা
  • মেরুদণ্ড বেঁকে যাওয়া বা সামনের দিকে ঝুঁকে যাওয়া
  • স্লিপ ডিস্ক
  • মেদ জমা
  • মাংসপেশির শিথিলতা, বিশেষ করে ‘কোর এরিয়ায়’ অর্থাৎ হিপ এবং কোমরের সংযোগস্থলে

সারাদিন বসে কাজ করলে ঠিক কীভাবে বসা উচিত

শাটারস্টক

সারাদিন বসে-বসে কাজ করলে কী-কী শারীরিক সমস্যা হতে পারে তা তো জানলেন। কিন্তু এর সমাধান কী হবে! দিনের মধ্যে যদি আপনি ১০-১২ ঘণ্টা বসে থাকেন, তার মধ্যে দু’-একবার নিশ্চয়ই পাঁচ মিনিট করে সময় বের করতে পারেন? তা হলেই আপনার এই সব শারীরিক সমস্যার সমাধান খানিকটা হলেও হয়ে যাবে!

১। প্রথমেই আপনার বসার ধরন ঠিক করা উচিত। সব কর্পোরেট অফিসেই আজকাল মোটামুটি পুশ-ব্যাক চেয়ার থাকে আর এটিই হল যত নষ্টের গোড়া! এই ধরনের চেয়ারে বসতে আরাম লাগলেও মেরুদণ্ড এবং কোমরের জন্য এই চেয়ারগুলো মোটেও ভাল নয়। কাজেই আপনাকেই মাঝে-মাঝে সোজা হয়ে বসতে হবে, কাজ করতে-করতে।

২। অফিসেই একটু স্ট্রেচিং করতে পারেন। না, ব্যায়াম করতে বলছি না, তবে হাত-পা একটু টানটান করাই যায়। দু-এক ঘণ্টা পর পর একটু উঠে দাঁড়িয়ে কোমর বেঁকান, হাত-পা স্ট্রেচ করুন, দরকার হলে একবার ফ্লোরেই হেঁটে নিন। পাঁচ মিনিটও সময় লাগবে না।

৩। যদি আপনি ল্যাপটপে কাজ করেন, তা হলে ডেস্কের উপরে দু’-চারটি মোটা বই রেখে তার উপরে ল্যাপটপ রাখুন যাতে মনিটর আপনার চোখের লেভেলে থাকে। এতে আপনাকে ঘাড় গুঁজে কাজ করতে হয় না এবং ঘাড়ে ও কাঁধে ব্যথা হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

৪। দরকার হলে একটা ছোট কুশন বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে পারেন এবং চেয়ারে কোমরের পিছনে রেখে বসে কাজ করতে পারেন।

৫। বেশিক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসে থাকলে পায়ে ব্যথা হবেই। কারণ, রক্তচলাচল স্বাভাবিক না হওয়ার কারণে শিরায় রক্ত জমাট বাঁধতে থাকে এবং মাংসপেশি শিথিল হতে থাকে। মাঝে-মাঝে পা সামনের দিকে ছড়িয়ে স্ট্রেচ করে নিন। দরকার হলে একটা ছোট টুল রাখতে পারেন পায়ের কাছে। পায়ে ব্যথা হলে পায়ের পাতা ওই টুলে রাখুন।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!