বিনোদন

রিভিউ: ব্রেকআপ স্টোরি, নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প

Swaralipi BhattacharyyaSwaralipi Bhattacharyya  |  Jul 28, 2020
রিভিউ: ব্রেকআপ স্টোরি, নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প

চুমু। ছোট্ট একটা চুমুই তো। তাও নেশা করে খাওয়া।

চুমু…। সত্যিই কি অতটাই ছোট্ট? দুম করে চাইলেই কি যাকে খুশি চুমু খেয়ে ফেলা যায়? আপনার কাছে বিষয়টা হয়তো খুব ছোট। যে চুমুতে কোনও ইমোশন নেই, তা আবার চুমু হল নাকি, এটা হয়তো আপনি ভাবছেন। কিন্তু আপনার ভালবাসার মানুষটা তা তো নাও ভাবতে পারেন। এন্ড অফ দ্য স্টোরি, কী আর হবে? অগত্যা ব্রেক আপ।

আবার ধরুন, লিভ ইন করছেন কয়েক মাস। কিন্তু আপনার আগের বিয়েটা যে ঝুলে আছে, অর্থাৎ এখনও ডিভোর্স হয়নি, তা পার্টনারের কাছে বেমালুম চেপে গেলেন। আপনার মায়ের তৈরি করা নানাবিধ আজগুবি নিয়মের সঙ্গে পার্টনার না হয় মানিয়ে নিয়েছে, কিন্তু এই মিথ্যেটা তো কোনও অজুহাত দিয়েই আর ম্যানেজ করা যাচ্ছে না। অগত্যা…ব্রেক আপ।

ব্রেক আপ হতে গেলেই যে একটা জমাটি প্রেম বা শরীরী সম্পর্ক থাকতে হবে, তা কিন্তু নয়। বন্ধুত্বের ব্রেক আপ হতে পারে। হতে পারে নির্ভরতার ব্রেক আপ। আবার কোনও ব্রেকআপের পর ঘর হারিয়ে ফেলেন কোনও মানুষ।

 

এমন কিছু ব্রেকআপকে ফ্রেমে বেঁধেছেন পরিচালক মৈনাক ভৌমিক। হইচই প্ল্যাটফর্মে তাঁর ওয়েব সিরিজ ব্রেকআপ স্টোরি (Break up story)-এর স্ট্রিমিং শুরু হয়েছে সদ্য। পাঁচটা এপিসোড। পাঁচটা গল্প। কিন্তু প্রত্যেকটি গল্পই ইন্টারলিঙ্কড। কোনও না কোনও যোগসূত্র রয়েছে। লকডাউনে প্রচুর ওয়েব কনটেন্ট তো নিশ্চয়ই দেখছেন। এটা দেখে নিজের কোনও ব্রেক আপ স্টোরির সঙ্গে মিল খুঁজে পেতে পারেন।

অভিনয়ের লিস্টে চেনা মুখের সারি। তবে আলাদা করে কয়েকজনের কথা বলতেই হবে। সৌরভ দাশ এবং অনিন্দিতা বসু। বেশ কয়েক বছর ধরে একসঙ্গে থাকেন এই জুটি। তাঁদের প্রেমের খবর কারও অজানা নয়। এই সিরিজে এই জুটিকে কাস্ট করা মৈনাকের সবথেকে ভাল ডিসিশন। সবথেকে ভাল পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন সৌরভ-অনিন্দিতা। অভিনয় নয়, বিহেভ করেছেন দুজনেই। খুনসুটি, ঝগড়া, আদর কোনওটাই অভিনয় মনে হয়নি।

চান্দ্রেয়ী ঘোষকে কাস্ট করা মৈনাকের দ্বিতীয় ভাল সিদ্ধান্ত। কেন যে চান্দ্রেয়ীর মতো অভিনেত্রীকে টলিউড আরও ব্যবহার করে না, সেই প্রশ্ন এই সিরিজ দেখেও করবেন অনেকে। সৌরসেনী মৈত্রর কাজও পারফেক্ট। অলিভিয়া সরকারকে মূলত টেলিভিশনে দেখেছেন দর্শক। কিন্তু ওঁর বিভিন্ন রকম চরিত্রে সুযোগ পাওয়া উচিত। অন্তত ওঁর পারফরম্যান্স সে কথাই বলে।  

অমিত-ঈশানের মিউজিক যথাযথ। প্রসেনজিৎ চৌধুরির ক্যামেরা, সংলাপ ভৌমিকের সম্পাদনায় ব্রেক আপ স্টোরি আরও জীবন্ত। খুব চেনা গল্প বলেছেন মৈনাক। রিলেট করতে পারবেন। সেখানেই এর সাফল্য। ব্রেক আপ বললেই কি ব্রেক আপ করা অত সহজ? বন্ধুত্বের উষ্ণতাই তো আগলে রাখে জীবনভর। অন্য কারও সঙ্গে বেশি গল্প করছে দেখলে সেই ছোটবেলার মতো হিংসে হয়। না, একে ইনসিকিওরিটির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না। কাছের মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি কষ্ট দেয় ঠিকই। কিন্তু তা বলে সেই ভালবাসার মুহূর্তগুলো তো মিথ্যে হয়ে যায় না। অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেও শেষ বিকেলের আলোয় তার জন্যই মনকেমন করে। তার কাছেই তো বাঁধা পড়েছে অগোছালো জীবনের শুকতারা। 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!