Advertisement

বলিউড ও বিনোদন

৬৭ বছর বয়সে মুম্বইতে প্রয়াত ঋষি কপূর, ‘আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি’, বললেন অমিতাভ

Swaralipi BhattacharyyaSwaralipi Bhattacharyya  |  Apr 29, 2020
৬৭ বছর বয়সে মুম্বইতে প্রয়াত ঋষি কপূর, ‘আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি’, বললেন অমিতাভ

Advertisement

ফের বলিউডে ইন্দ্রপতন। প্রয়াত হলেন ঋষি (Rishi) কপূর। বৃহস্পতিবার সকালে মুম্বইতে ৬৭ বছর বয়সে জীবনাবসান হয় অভিনেতার। 

গতকাল ইরফানের খানের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে বলিউড। রাতে হঠাৎই খবর আসে, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ঋষি কপূর। কপূর পরিবারের তরফে ঋষির দাদা রণধীর সাংবাদিকদের বলেন, “ঋষির ক্যানসার রয়েছে। ওর নিঃশ্বাসের সমস্যা হচ্ছিল। সে কারণেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন ভাল আছে।”

কিন্তু শেষরক্ষা হল না। বৃহস্পতিবার সকালে জীবনাবসান হয় ঋষির। মুম্বইয়ের এইচ এন এন রিলায়েন্স হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এদিন সকালে প্রথম টুইট করেন অমিতাভ বচ্চন। তিনি লেখেন, ‘চলে গেল। ঋষি কপূর চলে গেল। এইমাত্র খবর পেলাম। আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি।’

২০১৮-এ ক্যানসার ধরা পড়ে ঋষির। টানা ১১ মাস, ১১ দিন নিজের শহর, দেশ, পরিবার, বন্ধু, আত্মীয়, চেনা জগৎ ছেড়ে নিউ ইয়র্কে চিকিৎসার জন্য থাকতে হয়েছিল তাঁকে। সঙ্গী স্ত্রী নীতু কপূর। সে সময় একের পর এক বলি মহলের সদস্যরা ঋষির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। ছেলে রণবীর কপূরের সঙ্গে বেশ কয়েকবার আলিয়া ভট্টকেও দেখা যায় সেখানে। 

 

২০১৯-এর সেপ্টেম্বরে মুম্বইতে ফেরেন ঋষি। নিউ ইয়র্কে ক্যানসারের (Cancer) চিকিৎসা করানোর সময় প্রয়াত হন ঋষির মা। সেই খবরেও ফিরতে পারেননি। যদিও প্রথম দিকে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কথা নিজে স্বীকার করেননি তিনি। কপূর পরিবারের তরফেও বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। পরে অবশ্য সবই পরিষ্কার হয়ে যায়। যদিও নীতুর সোশ্যাল পোস্টের বার্তা দেখে অনেক আগেই ঋষির ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন ফিল্ম দুনিয়ার একটা বড় অংশ।

 

কিছুদিন আগেই এক সাক্ষাত্কারে ঋষি বলেছিলেন, “আমেরিকায় আমার চিকিৎসা চলছে। এখন আমি ক্যানসার ফ্রি। এই লড়াইয়ে নীতু পাশে না থাকলে আমি নিজেকে সামলাতে পারতাম না। আমার সন্তানেরা রণবীর, ঋদ্ধিমা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। আমার পরিবার এবং অনুরাগীদের প্রার্থনা কাজে লেগেছে। সকলকে ধন্যবাদ।” সে সময় রণবীর বলেছিলেন, “গত একটা বছর বাবার কাছে খুব কঠিন ছিল। জীবনে বাবার একমাত্র ইচ্ছে সিনেমায় অভিনয় করা। ফলে এই একটা বছর বাবা কাছে কিছুটা পিছিয়ে পড়ার মতো। বাবা নিজের জন্যই তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠছে।”

 

পরিচালক হিতেশ ভাটিয়ার পরিচালনায় একটি কমেডি ছবির শুটিং শুরু করেছিলেন ঋষি। কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেই কাজে ছেদ পড়েছিল। আর কে স্টুডিও বিক্রি হয়ে যাওয়াও ছবির কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বড় কারণ। শোনা যায়, সেই ছবির কাজেই গত ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি গিয়ে দূষণের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ঋষি। সে সময় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর নিজেই টুইট করেছিলেন। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় বরাবরই খুব অ্যাক্টিভ থাকতেন ঋষি। অসুস্থতার ভুয়ো খবর নিজেই উড়িয়ে দিতেন। সেলিব্রেট করতেন জীবন। না! এবার আর তেমন কোনও টুইট তাঁর অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে করা হবে না। বলিউডকে কাঁদিয়ে চিরঘুমে চলে গেলেন ঋষি।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!