logo
Logo
User
home / Our World
সঙ্গীতের অনুরাগী স্বামী বিবেকানন্দ ( Swami Vivekananda and his love for music)

সঙ্গীতের অনুরাগী স্বামী বিবেকানন্দ ( Swami Vivekananda and his love for music)

আজ স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) জন্মদিন (birthday)। আজকের দিনে অর্থাৎ ১২ই জানুয়ারি ১৮৬৩ সালে উত্তর কলকাতার শিমলে অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন এই দিব্যপুরুষ।সন্ন্যাস নেওয়ার আগে তাঁর নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। আজকের এই বিশেষ দিনটি পালিত হয় ন্যাশনাল ইয়ুথ ডে (national youth day) বা জাতীয় যুব দিবস হিসেবে।

ছোটবেলা থেকেই স্বামীজি ছিলেন সঙ্গীতের (music) ভক্ত। শোনা যায় স্বামীজির নিজের কণ্ঠস্বর ছিল খুব উদাত্ত এবং গভীর। তাঁর সেই আকর্ষণীয় কণ্ঠস্বরের জন্যই তাঁর গুরু ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস প্রায়ই তাঁকে গান শোনাতে বলতেন।প্রথমবার দক্ষিণেশ্বরে যখন ঠাকুরকে তিনি গান শোনান, ঠাকুরের ভাব সমাধি হয়।একবার মাউন্ট আবুতে ভ্রমণের সময় স্বামীজি গান গাইতে শুরু করেন। তাঁর সঙ্গীরা এবং কয়েকজন বিদেশী মুগ্ধ হয়ে যান সেই গানে। প্রায় পাঁচ বছর আহমেদ খান ও বেনি গুপ্তের কাছে সঙ্গীত শিক্ষা করেছিলেন স্বামীজি। গানের সাথে সাথে স্বামীজি অনেকগুলি বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতেন। বাংলা ছাড়াও, উর্দু, সংস্কৃত পারসিয়ান এবং হিন্দি ভাষায় তিনি গান গাইতে পারতেন। আরেকটা ঘটনা বলি। ভাগলপুরের জমিদার মন্মথনাথ চৌধুরীর বাড়িতে এক সঙ্গীকে নিয়ে স্বামীজি গিয়েছিলেন একবার। মন্মথনাথ তাঁদেরকে সাধারণ সাধু ভেবেছিলেন। স্বামীজির কণ্ঠে গুনগুন সুর শুনে তিনি তাঁকে গাইতে অনুরোধ করেন। স্বামীজির কণ্ঠে গান শুনে বিস্মিত মন্মথনাথ আয়জন করলেন এক জলসার। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন বহু সঙ্গীত বিশারদ ও ওস্তাদেরা। মন্মথ ভেবেছিলেন খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করে লাভ নেই। এক দু’ ঘণ্টার বেশি এই আসর জমবে না। অথচ স্বামীজি একটার পর একটা গান গেয়ে চললেন। রাত দুটো তিনটে পর্যন্ত চলল সেই গানের আসর। অতিথিরা এতটাই মুগ্ধ হয়ে ছিলেন সেই গানে যে কেউ খাবারের কথা বলেওনি।

আরও পড়ুনঃ স্বামী বিবেকানন্দের সেরা উক্তি

আসলে স্বামীজি ব্যক্তিগত জীবনে এবং সমগ্র মানব জীবনে সঙ্গীতকে (music) মর্যাদা দিতেন(Swami Vivekananda and his love for music)। ‘ভক্তিযোগ’ এ তিনি বলেছেন একজন নিষ্ঠুর মানুষকেও সঠিক পথে চালিত করতে পারে সঙ্গীত।

স্বামীজি বলতেন খেয়াল, ধ্রুপদ ইত্যাদি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে বিজ্ঞান রয়েছে। আর কীর্তন ও ভজনে আছে প্রানের ছোঁয়া। স্বামীজি খুব সুন্দর ভজন গাইতে পারতেন। ক্যালিফোর্নিয়াতে একবার ‘রামায়ন’ নিয়ে তিনি একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন ভারতে সঙ্গীত এবং নৃত্যকলাকেও মর্যাদা দেওয়া হয়। সঙ্গীত যে ভালোবাসে, গান যে ভালোবাসে সে আসলে ঈশ্বরকেও ভালোবাসে।

স্বামীজি শুধু সুন্দর গান গাইতেই পারতেন না। তাঁর মধ্যে লুকিয়ে ছিল এক কবি এবং গীতিকার। বাংলা ছাড়াও তিনি সংস্কৃত ভাষাতেও গান লিখতে সক্ষম ছিলেন। শিবের উপর লেখা ‘নিখিল ভুবন জন্ম’ খুব জনপ্রিয়। তবে তাঁর লেখা যে কবিতা, যা পরে গানে পর্যবসিত হয় এবং অপার জনপ্রিয়তা লাভ করে সেটি হল ‘খণ্ডন ভব বন্ধন’। আজ সন্ধে ছটার সময় প্রতিদিন বেলুর মঠে এই গানটি দিয়েই আরতি করা হয় স্বামী বিবেকানন্দ, ঠাকুর রামকৃষ্ণ এবং সারদা মায়ের।এই গানটি শুনে নিন।

 

এছাড়াও স্বামীজির লেখা ‘এক রূপ অরূপ নাম’, ‘তা থইয়া’ ও ‘হর হর ভূতনাথ’ গানও বেশ জনপ্রিয়।

 

ঠাকুর তাঁর স্নেহের নরেনের কাছে সবচেয়ে বেশি শুনতে চাইতেন ‘মন চলো নিজ নিকেতনে’ এই গানটি।  

  

 

 কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ লাইফ অফ স্বামী বিবেকানন্দ বাই ইস্টার্ন অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন ডিসাইপল 

 

 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

   

11 Jan 2019

Read More

read more articles like this
good points logo

good points text