home / বাজার ও কেনাকাটা
নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় অতি অবশ্যই মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি

নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় অতি অবশ্যই মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি

আজকাল প্রতিদিনই যে হারে নিত্য-নতুন স্মার্টফোন বাজারে আসছে, তাতে বেশিদিন একই ফোন ব্যবহার করতে কারই বা ইচ্ছে করে বলুন! তাই তো নতুন ফোন কেনার বছর ঘুরতে না-ঘুরতেই নতুন ‘কনফিগারেশন’-এর ফোন নেওয়ার ঝোঁক বেড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে, সারা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোনের বাজার হল আমাদের দেশ। শুধু তাই নয়, প্রতি বছর নাকি গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে মোবাইলের বাজার, যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নানা দামের, হরেক রকমের ফোন আজকাল বাজার মাতাচ্ছে। তাই কোন ফোনটি কেনা উচিত, আর কোনটা নয়, তা বুঝতে যে অনেকেরই মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে, সে খবর রাখি আমরাও। তাই তো এই প্রতিবেদনে এমন কতগুলি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা স্মার্টফোন (smartphone) কেনার সময় মাথায় রাখলে কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। 

স্মার্টফোন কেনার সময় মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি

প্রথম যে কাজটা করতে হবে, সেটা হল মোবাইলের পিছনে কত টাকা খরচ করতে চান, সে বিষয়ে একটু ভেবে-চিন্তে নিন। সেই বাজেট অনুসারে কোন-কোন ফোন বাজার কাঁপাচ্ছে, তার একটা লিস্ট তৈরি করে ফেলুন! তবে এই লিস্টটা তৈরি করার সময় দামের পাশাপাশি আরও কতগুলি বিষয় মাথায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। কারণ, শুধুমাত্র দাম দেখে মোবাইল কিনলে কিন্তু ঠকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

১. ব্যাটারি

স্মার্টফোন কিনচ্ছেন যখন, তখন ফোনে কথা বলার পাশাপাশি তাতে যে আরও হরেক রকমের কাজ করবেন, তা তো বলাই বাহুল্য! সঙ্গে গুচ্ছের অ্যাপও ডাউনলোড হবে। ফলে ব্যাটারি বাবাজির হাল যে সহজেই বেহাল হবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তাই তো বাজেটের মধ্যে থাকা যেসব ফোনের ব্যাটারি লাইফ বেশি, তেমন ফোনই কেনা উচিত। এক্ষেত্রে আরও বেশ কিছু বিষয় জেনে রাখা একান্ত প্রয়োজন। যেমন ধরুন, যে সব ফোনের resolution খুব বেশি, সেই সব ফোনের ব্যাটারি যেমন সহজে শেষ হয়ে যায়, তেমনি ফোনের processor-এর কারণেও ব্যাটারি লাইফ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ৩০০০ ‘এমএএইচ’ ব্যাটারি রয়েছে এমন ফোন কেনাই উচিত। আজকাল বেশ কিছু স্মার্টফোনের সঙ্গে এমন চার্জার দেওয়া হয়, যা অল্প সময়েই ব্যাটারি চার্জ করে দেয়। এমন ফোন কিনলেও কিন্তু মন্দ হয় না।

২. মেমরি স্পেস

স্মার্টফোন কিনে তো আর কেউ সিন্দুকে পুরে রাখবে না। বরং দেদার ছবি-ভিডিও উঠবে। সোশ্যাল মিডিয়া আর ইউটিউব থেকেও ভিডিও ডাউনলোড হবে। সঙ্গে নেটফ্লিক্স-অ্যামাজন থেকে সিনেমার ডাউনলোড তো রয়েছেই। তাই ফোনের মেমরি একটু বেশি না হলে কিন্তু কথায়-কথায় হোঁচট খেতে হবে। বিশেষ করে বারে-বারে মেমরি ফুল হয়ে যাওয়ার কারণে ছবি-ভিডিও ডিলিট করতে হবে। তাতে ঝক্কি বাড়বে। তাই মেমরি স্পেস বেশি রয়েছে, এমন ফোন কিনতে ভুলবেন না যেন! ‘এসডি কার্ড’ ব্যবহার করে যে সব ফোনের মেমরি স্পেস বাড়ানো যায়, সেই সব ফোন যেন প্রথম পছন্দ হয়। কারণ, তাতে ইচ্ছেমতো মেমরি কার্ড লাগিয়ে স্পেস বাড়িয়ে নেওয়া যায়।

‘RAM’ শব্দটার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে নিশ্চয়ই? এটা হল ফোনের random access memory (ram)। সহজ কথায় বললে যে ফোনের RAM যত বেশি, সেই ফোন তত দ্রুত কাজ করবে। তাই কম করে ২-৩ জিবি RAM রয়েছে এমন ফোন কেনা উচিত। সঙ্গে ৬৪ জিবি ROM বা মেমরি স্পেস থাকলেই মোটামুটি কাজ চলে যাবে।

৩. ক্যামেরা

আট থেকে আশি, সকলেই এখন সর্বদা সেলফি তুলতে ব্যস্ত থাকেন! তাই স্মার্ট ফোনের সামনে-পিছনের ক্যামেরা একটু জুতসই না হলে চলে বলুন! তাই যে ফোনটা পছন্দ হয়েছে, তার ফ্রন্ট এবং ব্যাক ক্যামেরা কত পিক্সেলের সেটা দেখে নিন। আর যদি সেলফি তোলা আপনার হবি হয়ে থাকে, তা হলে এমন ফোন কিনবেন, যার ফ্রন্ট ক্যামেরার মেগাপিক্সেল একটু বেশি হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শুধুমাত্র মেগাপিক্সেলের উপরই কিন্তু ছবির মান নির্ভর করে না। বরং হাইপিক্সেলের পাশাপাশি আএসও (iso) এবং অটো ফোকাসের স্পিডের উপরেও অনেক কিছু নির্ভর করে থাকে। তাই যে সব মোবাইল ফোনের ক্যামেরা ১২ অথবা ১৬ মেগাপিক্সেলের, আর অ্যাপার্চার f/২.০ অথবা তার নীচে, এমন ফোন কেনা উচিত। ৮ থেকে ১২ মেগাপিক্সল, সঙ্গে f/২.২ অ্যাপার্চার রয়েছে এমন ক্য়ামেরাও মন্দ নয়।

৪. প্রসেসর

হার্ট দুর্বল হলে যেমন যে-কোনও সময় হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ভয় থাকে, তেমনই স্মার্ট ফোনের প্রসেসর স্পিড যদি বেশি না হয়, তা হলে হাই ফাই ক্যামেরা আর গাদাখানেক মেমরি থাকা সত্ত্বেও কিন্তু স্মার্টফোন একেবারে মুখ থুবড়ে পড়বে! তাই ফোন কেনার সময় প্রসেসর স্পিড দেখে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। এক্ষেত্রে একটা সহজ নিয়ম রয়েছে। কী নিয়ম? প্রসেসর স্পিড যত বেশি হবে, ততই মঙ্গল। তাই ভুলেও কমে আপস করবেন না যেন!

৫. ডিসপ্লে

আজকাল আমরা অনেকেই ফোনে সিনেমা দেখে থাকি। সঙ্গে ছবি আর ভিডিও রেকর্ডিং চলতে থাকে সমান তালে। তাই বড়-সড় স্ক্রিন হলে ভালই হয়! এই কারণেই কম করে ৫.৫-৬ ইঞ্চি HD অথবা QHD display রয়েছে এমন ফোন কেনা উচিত।

৬. অপারেটিং সিস্টেম

একেবারে লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে এমন ফোন কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, পুরনো অপারেটিং সিস্টেমওয়ালা ফোন কিনলে অনেক অ্যাপই সাপোর্ট করবে না। এমনকী, কথায়-কথায় ফোন হ্য়ং করা বা আরও নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই 7.1 Nougat অথবা Marshmallow অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে এমন স্মার্টফোনই প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত। কারণ, এই দুটি অপারেটিং সিস্টেমই সবথেকে আধুনিক। তাই এমন ফোনে যে-কোনও ধরনের অ্যাপই ডাউনলোড করা সম্ভব। এই সব ফোনের স্পিডও মন্দ নয়।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!

05 Aug 2019

Read More

read more articles like this
good points logo

good points text