Friends and BFFs

#DownMemoryLane: কলেজের হোস্টেলের বা পেয়িং গেস্ট হিসেবে কাটানো সোনালি দিনগুলো

Debapriya BhattacharyyaDebapriya Bhattacharyya  |  Jun 28, 2019
#DownMemoryLane: কলেজের হোস্টেলের বা পেয়িং গেস্ট হিসেবে কাটানো সোনালি দিনগুলো

আচ্ছা, আপনি কি কখনও পড়াশোনার জন্য বাড়ির বাইরে থেকেছেন? যদি থেকে থাকেন, তা হলে নিশ্চয়ই জানবেন যে হোস্টেল (hostel) বা পেয়িং গেস্ট (pg) হিসেবে থাকার অভিজ্ঞতা কেমন! ভাল স্মৃতি যেমন আছে তেমনই খারাপ স্মৃতিও হয়তো আছে। আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি আজ। পড়াশোনার জন্য প্রথম যখন বাড়ির বাইরে যাই তখন আমি বেশ বড়। ইউনিভার্সিটিতে পড়ি। ইউনিভার্সিটি থেকে বাড়ির দূরত্ব বেশি ছিল বলে ইউনিভার্সিটির কাছেই একজনের বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতাম। প্রথম প্রথম খারাপ লাগত একটু, তবে সপ্তাহের শেষে যখন বাড়ি যেতাম তখন ভালই লাগত। কিন্তু তারপর যত দিন যেতে লাগল, বাইরের জগতের সঙ্গে পরিচিতি বাড়তে লাগল, আমার বাড়ি যাওয়া কমতে থাকল। সদ্য সদ্য তখন পাখনা মেলে উড়ছি, বাড়ি গেলে মা-বাবার নানা বাধা-নিষেধ; ধুর বলুন তো কার ভাল লাগে! তারপরে তো যাই হোক, পড়াশোনা শেষ করে যখন চাকরি পেয়ে শহরের বাইরেই চলে গেলাম তখন আর আমাকে পায় কে? কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই মা-বাবাকে খুব মিস করতাম। যখন অসুস্থ হতাম, মনে পড়ত মায়ের হাতের ছোঁয়া; কিন্তু তখন তো ভৌগলিক দুরত্ব অনেকটা বেড়ে গেছে!

ভাবছেন হঠাৎ এসব কী লিখছি, কেনই বা লিখছি, তাই তো? আমরা অনেকেই বড় হওয়ার পর বাড়ি থেকে দূরে থাকতে চাই, নিজের স্বাধীনতায় কোনওরকম হস্তক্ষেপ চাই না। কিন্তু একটা কথা ভুলে যাই যে বাড়ি তো আসলে বাড়িই হয়, তার সঙ্গে অন্য কোনও কিছুর তুলনা চলে না। দেখুন তো, আমার যেমন অভিজ্ঞতা, আপনারও সেরকমই কিনা!

প্রথম যখন বাড়ি থেকে দূরে থাকি!

উফফ! শেষ পর্যন্ত বাড়ি থেকে দূরে! এখন আমি স্বাধীন। নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে পারি। আমাকে আর পায় কে! – এই চিন্তাগুলোই প্রথম মাথায় আসে যখন কোথাও হোস্টেলে বা কোথাও পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতে যাই।

নতুন জীবন, নতুন বন্ধু

হোস্টেলে যখন থাকতে যাই, কারও না-কারও সঙ্গে তো ঘর শেয়ার করতেই হয়। কখনও হয়তো আবার তিন-চারজন মিলে একটা ঘরেই থাকার ব্যবস্থা থাকে। কত গল্প, আড্ডা, সুখ-দুঃখ সব ভাগ করে নেওয়া – পরিচয় থেকে কখন যে সম্পর্কটা বন্ধুত্ব ছাপিয়ে আত্মীয়তায় পরিণত হয়, বোঝাই যায় না।

রাতে লুকিয়ে সবাই মিলে বাইরে বেরনো

মাঝে-মাঝেই আমরা হোস্টেলের বন্ধুরা মিলে এদিক-ওদিক বেরিয়ে পড়তাম রাতের দিকে। কী করব? হস্টেলের খাবার খেতে পারতাম না, রাতের দিকে খিদে পেত, তাই কেয়ারটেকারের নজর এড়িয়ে পা টিপে-টিপে খেতে বেরতাম। কী খেতাম? হয় ম্যাগি নয় পরোটা! 😀

কত ধানে কত চাল!

শুধুই কি আর মজা? হোস্টেলে থাকা বা পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকলে কপালে একটু-আধটু দুঃখও থাকে বাবা! বাড়ি থেকে যা পকেটমানি পেতাম (পড়াশোনা চলাকালীন সময়ের কথা বলছি) তাতে যে সারা মাস চালানো সম্ভব হত না তা নয়, তবে কী বলুন তো, বেহিসেবি খরচ করলে যা হয় আর কী! যখন বাড়িতে থাকতাম, তখন মা-বাবার কাছে আবদার করলেই বা কখনও-কখনও আবদার করার আগেই অনেক কিছু পেয়ে যেতাম, কিন্তু যখন আপনি বাইরে থাকেন তখন বাজেটের মধ্যে চলতে হয়! আর সত্যি বলতে কী, তখনই বোঝা যায় ‘কত ধানে কত চাল!’

 

মূল ছবি সৌজন্য – ইউটিউব

গ্রাফিক্স সৌজন্য – giphy 

 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!