শ্লীলতাহানির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আড়াই লক্ষ মেয়েকে আত্মরক্ষার পাঠ দিচ্ছেন অভিষেক যাদব

শ্লীলতাহানির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আড়াই লক্ষ মেয়েকে আত্মরক্ষার পাঠ দিচ্ছেন অভিষেক যাদব

২০১২ সালে দিল্লিতে এক ভয়াবহ ঘটনা তাঁকে আমূল নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ভয়ঙ্কর রাতে নির্মম ভাবে ধর্ষিতা হয়েছিলেন নির্ভয়া। আমরা খবরের কাগজে সব পড়েছি, টিভিতে সব দেখেছি। কিন্তু তারপর "ইস, কী বাজে ব্যাপার" এইসব বলে আবার নিজেদের কাজের জগতে ফিরে গেছি। আপনি হয়তো বলবেন, আমরা তো সাধারণ মানুষ, আমরা এই সব ব্যাপারে আর কী বা করতে পারি। তিনিও কিন্তু সাধারণ মানুষ। তাই আর সবাই চুপ করে থাকলেও তিনি চুপ করে বসে থাকেননি। অভিষেক যাদব অভি (Abhishek Yadav Abhi)। গোরখপুরের (Gorakhpur) বাসিন্দা এই যুবক ভেবেছিলেন একটা কিছু করতে হবে। এমন একটা কিছু যাতে মেয়েরা নিজেদের আত্মরক্ষা নিজেরাই করতে পারে। নিজের রাজ্য উত্তরপ্রদেশে প্রায়শই ধর্ষণ আর শ্লীলতাহানির খবর পেতেন তিনি। পাড়ার অলিতে গলিতে মেয়েরা ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকত ইভ টিজারদের ভয়ে। সব লক্ষ্য করতেন তিনি। আরও একজন নির্ভয়া এইভাবে লাঞ্ছিত হন আর অতি অল্প বয়সে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাক সেটা তিনি একদমই চাননি। অভিষেক নিজে মাল্টি ডিসিপ্লিন মার্শাল আর্টে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। তাই আর চুপ করে না থেকে নিয়ে ফেললেন একটা বড় রকমের পদক্ষেপ। উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় জেলায় ঘুরে মেয়েদের (girls) স্কুলে গিয়ে তিনি বিনা পয়সায় তাঁদের সেল্ফ ডিফেন্স বা আত্মরক্ষার পাঠ শেখাতে শুরু করে দিলেন, যাতে তাঁরা শ্লীলতাহানির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে। আজ এই ২০১৯ সালে অভিষেকের কাছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছাত্রীর সংখ্যা আড়াই লক্ষ।  প্রায় সাত বছর ধরে এইসব মেয়েদের তিনি আত্মরক্ষার পাঠ দিয়েছেন। 

Facebook উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে আইকিদো মার্শাল আর্ট শেখাচ্ছেন অভিষেক

আপনি একদম ঠিক শুনেছেন। এটা প্রায় বিশ্ব রেকর্ড করার মতো। তবে রেকর্ড তিনি সত্যিই গড়েছেন। অভিষেকের নাম উঠেছে লিমকা বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। যেখানে প্রতাপগড়ের কুণ্ডা অঞ্চলে একদিনে পাঁচ হাজার সাতশ মেয়েকে তিনি ক্যারাটে শিখিয়েছিলেন। অভিষেকের বয়স মাত্র ২৮ বছর। তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চালান। এই সংস্থার নাম 'অভিসেল্ফ প্রোটেকশান ট্রাস্ট"। এই ট্রাস্ট একটি প্রোজেক্ট চালায় যার নাম "মেরি রক্ষা মেরে হাতোঁ মে"। অর্থাৎ আমাকে রক্ষা করার দায় আমার নিজের। অভিষেকও ঠিক তাই মনে করেন। নারী অবলা, তাঁকে সাহায্য চাইতে অন্যের কাছে অসহায়ের মতো হাত পাততে হবে এটা তিনি বিশ্বাস করেন না। মূলত  "মেরি রক্ষা মেরে হাতোঁ মে" অধীনেই ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেন। অভিষেকের মূল লক্ষ্য হল শহরের সীমানা ছাড়িয়ে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন গ্রামের মেয়েদেরও আত্মরক্ষার পাঠ দেওয়া। মার্শাল আর্ট ছাড়াও তিনি জাপানি মার্শাল আর্ট 'আইকিদো'তেও দক্ষ। উত্তরপ্রদেশের পুলিশকে তিনি এই আইকিদো শিখিয়েছেন। অভিষেক একজন আলোর দিশারি। শুধু রাখি পরে বোনকে রক্ষা করার মৌখিক প্রতিশ্রুতি না দিয়ে তিনি নিজেই তাঁদের লড়তে শিখিয়েছেন। আমাদের তরফ থেকে অসংখ্য অভিনন্দন এই যুবাকে। 

 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!
আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!