নতুন রূপে ফিরছে Ambassador Car!

নতুন রূপে ফিরছে Ambassador Car!

অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে এক ফ্রেঞ্চ কোম্পানির হাত ধরে আবার ভারতে ফিরছে তাদের প্রিয় অ্যাম্বাসেডর। তবে একেবারে নতুর রূপে। শুধু তাই নয়, এমনটাও শোনা যাচ্ছে যে ভারতে অ্যাম্বাসেডরের যে মডেলটা লঞ্চ হতে চলেছে, সেটা নাকি হবে ইলেকট্রনিক গাড়ি (Ambassador to Re-Enter India as Electric-Only Model)।


২০১৭ সালে এই নস্টালজিক ব্র্যান্ডটি (ambassador car) বিক্রি হয়ে যায় ফরাসি গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা "পিএসএ" (PSA Group) এর হাতে। ৬০-এর দশক থেকে গাড়ি দুনিয়ায় তো বটেই, সেই সঙ্গে রাজনীতি থেকে সিনেমা, সবেতেই দাপিয়ে বেরানো হিন্দুস্থান মটোরের এই ব্র্যান্ডটিকে প্রায় কয়েক কোটি টাকায় পিএসএ-কাছে বিক্রি করে দেয় হিন্দুস্তান মোটরের (Hindustan Motors) তৎকালীন হোল্ডিং কোম্পনি সি কে বিড়লা সংস্থা। তারপর থেকেই অ্যাম্বাসেডরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হতে শুরু করে। কারণ সে সময় ভারতে অ্যাম্বাসেডরের বিক্রি একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছিল। এক সময় রাজনীতিবিদ এবং সরকারি উচ্চপদস্ত আমলাদের পছন্দের তালিকায় থাকা অ্যাম্বাসেডর প্রতিযোগীতায় হেরে যাচ্ছিল মারুতি সুজুকি এবং টয়োটার মতো গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির কাছে। তাই পিএসএ-এর মতো প্রথম সারির গাড়ি ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, অ্যাম্বাসেডর ব্র্যান্ডটা কিনে নেওয়ার পরেও গাড়ি প্রেমীদের মনে সন্দেহ বেঁধেছিল আর হয়তো কোনও দিন রাস্তায় দেখা যাবে না অ্যাম্বাসেডরকে, যে অ্যাম্বাসেডরের সাথে কলকাতিবাসীর সম্পর্ক আজকের নয়। কারণ কলকাতা মানেই হলুদ-কালো ট্য়াক্সি। আর ট্য়াক্সি মানেই তো অ্যাম্বাসেডর। আর বাঙালির প্রিয় অভিনেতা উত্তম কুমারেরও বেজায় পছন্দ ছিল অ্যাম্বাসেডার। তার গাড়ির নম্বরটিও ছিল ইউনিক, wmc ৮৭৮৭। এমনকী নেতাজীরও পছন্দ ছিল অ্যাম্বাসেডর। তাই কলকাতা এবং কলকাতাবাসীর কাছে এই গাড়িটি ছিল তাদের পরিচয়। তাদের সত্ত্বা। আর নিজের সত্ত্বা বা পরিচয় কেই বা হারাতে চায় বলো!





কিন্তু শেষমেশ সমালোচকদের মুখে কালি মাখিয়ে আবার রাস্তায় নামতে চলেছে শতাব্দী প্রাচীন এই গাড়ির ব্র্যান্ড। তবে একথা ঠিক যে কলকাতা এবং ভারতবাসী অ্যাম্বাসেডরের যে রূপের সঙ্গে পরিচিত, তা হয়তো আর থাকবে না। তবে কেমন হবে অ্যাম্বাসেডরের নতুন লুক, সেই নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। কিন্তু তাতে কী! অ্যাম্বাসেডর ভারতে ফিরছে, এটাই তো সব থেকে বড় খবর।


সূত্রের খবর পিএসএ হয়তো অ্যাম্বাসেডর ব্র্যান্ডের অধীনে নানা মডেলের গাড়ি লঞ্চ করবে, যার মধ্য়ে প্রথমে থাকবে কমপ্যাক্ট এসইউভি অথবা ক্রসওভার স্টাইল ভেইকেলের মতো গাড়ি। আর পরের ধাপে অ্যাম্বাসেডর নামে হয়তো লঞ্চ হতে পারে প্রিমিয়াম হ্যাচব্যাক গাড়িও। শুধু তাই নয়, অ্যাম্বাসেডর ব্র্যান্ডকে ভারতে এবং অন্যান্য কমনওয়েলথ কান্ট্রিতেও লঞ্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সঙ্গে আগামী দিনে বিশ্বের যে যে দেশে "রাইট হ্যান্ড ড্রাইভ" রয়েছে, সেখানেও অ্যাম্বাসেডর গাড়িকে লঞ্চ করার পরিকস্পনা রয়েছে পিএসএ সংস্থার। তবে এমনটা হতে হতে ২০২২ সাল হয়ে যাবে বলে মনে করছেন অনেকে।





গত কয়েক বছরে আমাদের দেশে ডিজেল এবং পেট্রল গাড়ির পাশাপাশি ইলেকট্রনিক গাড়ির চাহিদাও চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। শুধু তাই নয়, ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতে ইলেকট্রনিক গাড়ির বিক্রি বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৭০৭.৪ মিলিয়ান ডলারে, যা ২০১৭ সালে ছিল মাত্র ৭১.১ মিলিয়ান ডলার (Electric Car Market in india)। তাই এমন চাহিদার মাঝে সত্যিই যদি ২০২২ সালে অ্যাম্বাসেডরের ইলেকট্রনিক গাড়ি (Electric Ambassador) ভারতে আসে, তাহলে তার জনপ্রিয়তা নিমেষে আকাশ ছোঁয়ার সম্ভাবনা যে একটা রয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই আগের মতো হয়তো আরও একবার গাড়ির দুনিয়ায় অ্যাম্বাসেডর ব্র্যান্ডের নাম সোনার অক্ষরে লেখা হবে। আর এমনটা যদি হয়, তাহলে আমাদের থেকে বেশি গর্বিত আর কেইবা হবে বলো! কারণ কলকাতা যে আবার ফিরে পাবে তার পুরনো সঙ্গীকে!




 

 

 


View this post on Instagram


 

 

#hindustanambassador #ambassadorcar #kolkata #taxi


A post shared by Chrisandco75 (@chrisandco75) on




অ্যাম্বাসেডর গাড়ি নিয়ে বিশেষ কিছু তথ্য:


১. অ্যাম্বাসেডর গাড়ি ছিল ভারতের প্রথম ডিজেল গাড়ি, যা "কিং অব ইন্ডিয়ান রোড" নামে সে সময় পরিচিতি লাভ করে।


২. ১৯৫৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অ্যাম্বাসেডর গাড়ি বিক্রি হয়েছে ভারতের বাজারে, যা একটা রেকর্ড। কারণ এত বছর ধরে কোনও ব্র্যান্ড এমন জনপ্রিয় থেকে যাওয়ার ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি।


৩. ২০১৩ সালে আন্তার্জাতিক খ্যাতি প্রাপ্ত অটোমোবাইল প্রোগ্রাম "টপ গিয়ার", অ্যাম্বাসেডর ট্যাক্সিকে বিশ্বের সবথেকে সেরা ট্যাক্সির খেতাব দিয়েছিল।


৪. ১৯৫৮ সাল থেকে প্রায় সাতটি জেনারেশনের অ্যাম্বাসেডর গাড়ি বাজারে এসেছে, যার প্রথমটার নাম ছিল "মার্ক-১"। আর সপ্তম জেনারেশন গাড়িটির নামকরণ করা হয়েছিল "এনকোর" নামে।


৫. ১৯৫৮ সালে অ্যাম্বাসেডর গাড়ির দাম ছিল কম-বেশি ১৪,০০০ টাকা। আর ২০১৪ সালের দাম ছিল ৫.২২ লাখ টাকা।


ছবির কৃতজ্ঞতা স্বীকার: wikipedia,instagram


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!