“হোমওয়ার্কে ফাঁকি দিইনি”, ‘পার্সেল’ রিলিজের আগে অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন দামিনী

“হোমওয়ার্কে ফাঁকি দিইনি”, ‘পার্সেল’ রিলিজের আগে অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন দামিনী

বাবা অসিত বসু। মা ভদ্রা বসু। থিয়েটারের পরিবেশেও বড় হওয়া। অভিনয় তাঁর রক্তে। মঞ্চ তাঁর চেনা মাঠ। সিনেমার ক্ষেত্রেও তিনি সকলের নজর কেড়ে নিয়েছেন তাঁর পারফরম্যান্সে। তিনি দামিনী (Daminee) বেণী বসু। অভিনয় শেখা এবং শেখানো চলে নিরন্তর। আগামী ১৩ মার্চ মুক্তি পাবে ইন্দ্রাশিস আচার্য পরিচালিত ‘পার্সেল’। দামিনী রয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। ছবি মুক্তির আগে শেয়ার করে নিলেন নিজের অভিজ্ঞতা।

ইন্দ্রাশিস আচার্যের সঙ্গে প্রথম কাজ আপনার। কী ভাবে ব্রিফ করেছিলেন পরিচালক? শুরু হল কীভাবে?

প্রথমে ফোনে কথা হয়েছিল। আমি কলকাতায় ছিলাম না। তারপর যখন ইন্দ্রাশিসের সঙ্গে দেখা হয়েছিল, অনেক কথা বলেছিলাম আমরা। ছবির বাইরে। কোন পরিচালকের কাজ ভাল লাগে। ওয়ার্ল্ড সিনেমার নিরিখে কী কী দেখতে পছন্দ করি, এ সব নিয়ে সাধারণ কথা। তখনই ও একটা আউটলাইন বলেছিল। পরে যে স্ক্রিপ্ট পাঠিয়েছিল, সেখানেও খুব বেশি কিছু ছিল না। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, ও যত কনফিডেন্টলি কথা বলেছিল, ওর মাথায় পুরোটা রয়েছে। তা না হলে, অত কনফিডেন্ট হওয়া যায় না।

আপনার চরিত্র?

অরুন্ধতী। আমি শুনেছিলাম, পড়ার পর সকলেই জানতে চেয়েছিলেন, অরুন্ধতীর চরিত্রটা কে করছে? অপুদার (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়) সঙ্গে আগে কাজ করেছি। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত আমার সম্পর্কে শুনেছিলেন। কিন্তু কাজ করিনি এর আগে। আমি এমনিতেই কম কাজ করি। যাই হোক, থ্রিলারের বেশ কিছু জিনিস নিজের কাছে ক্লিয়ার রাখাটা দরকার। সেজন্য ইন্দ্রাশিসকে প্রচুর প্রশ্ন করতাম। ফ্লোরে গিয়েও করতাম। ও কখনও আটকায়নি আমাকে। আমি একটা মেথড ফলো করি। সেভাবেই কাজ করেছি।

এই ছবির আগে ওয়ার্কশপ করার সুযোগ হয়েছিল?

না! সেটা অবশ্য আমার গেছো দাদার মতো ট্রাভেল করার জন্যই। বাকিদের সঙ্গে বসতে পারিনি। কিন্তু নিজের মতো করে হোমওয়ার্ক করেছিলাম। সেখানে কোনও ফাঁকি দিইনি। ইন্দ্রাশিস বলতে পারবে সেটা।

আপনি এখনও অভিনয় শিখছেন, শেখানও। সেই ব্যস্ততার কারণেই পারফরম্যান্স কম করেন হয়তো। কোন ভূমিকায় বেশি স্বচ্ছন্দ আপনি?

এই প্রশ্নটার কোনও মানে নেই আমার কাছে। কারণ আমি অভিনয় ভালবাসি। যে কোনও ভাবে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারলেই ভাল লাগে আমার। ঘুম থেকে উঠে যদি কেউ অভিনয় সংক্রান্ত লেকচার দিতে বলে, সেটাও ভাল লাগবে। ফলে আমার মনে হয়, অভিনয় যাঁরা ভালবাসেন, তাঁরা কেউই এই কম্প্যারিজনে যেতে পারবেন না।

অভিনয়ের মধ্যে জন্ম, বেড়ে ওঠা। সেই পরিবেশ কি আজকের দামিনী হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে?

এই সব হাইপোথিটিক্যাল প্রশ্ন নিয়ে ভাবি না আমি। কী হলে কী হত, সেটা ভেবে কী হবে? আমার বাবা-মা আমার জন্য যেটা করেছেন, সেটা বেস্ট। বেস্টটা হয়েছে আমার সঙ্গে। ফলে অন্য কিছু হলে অন্য কিছু করতাম কিনা, ভাবি না। আর আমি যখন মায়ের পেটে, তখনও তিনি মঞ্চে অভিনয় করছেন। ফলে এমন পরিবেশ তো অ্যাডভান্টেজ বটেই। কেউ যদি সেটাকে প্রবলেম্যাটিক ওয়েতে দেখতে চায়, দেখবেন। 

নতুন কী কী কাজ আসছে?

কয়েকটা কাজ এই ডেট ক্ল্যাশের জন্য ছাড়তে হল। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর ‘বিসমিল্লা’ করতে পারলাম না। কৌশিকবাবুর ‘অর্ধাঙ্গিনী’তে কাজ করলাম। ‘আকাশ অংশত মেঘলা’, ‘দুধপিঠের গাছ’ এগুলো খুব ভাল ছবি। শুটিং হয়ে গিয়েছে।

পরিচালনা করার কথা ভেবেছেন?

হ্যাঁ, ভেবেছি। আমাকে বলেওছেন অনেকে। কিন্তু এখনও মনে হয়নি, পরিচালনা না করতে পারলে বাঁচব না। সেটা মনে হলে, দেখা যাবে। ওটা আবার অন্য একটা ভালবাসার জায়গা।

শুধুমাত্র আপনাকে ভেবেই কোনও গল্প লেখা হবে, ছবি হবে, এই লোভটা হয় না?

এমন হয়েছে তো। ঋতুপর্ণ ঘোষ লিখেছিলেন। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়কে জিজ্ঞেস করতে পারেন, ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’-র আগে উনি ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন, তুমি থাকবে তো? আমি সেটা মাথায় রেখে লিখব। ফলে ঘটেছে তো এই ঘটনা।

ঠিকই। কিন্তু এখনও মুখ্য চরিত্রে আপনাকে ভাবেননি কেউ। এখনও রিভিউতে লেখা হয়, গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দামিনী। সেই জায়গার কথা জানতে চাইছি। সেই প্রচার…

(হাসি) আমি এতক্ষণ তো এর বিরোধী কোনও কথা বলিনি। অভিনয় ভালবাসি। ফলে চরিত্র ছোট নাকি বড়, ওসব ভাবি না। পার্ট করতে পারলেই ভাল লাগে। আর যদি কেউ শুধু আমাকে নিয়ে লিখতে চান, লিখবেন। সেটা তো পরিচালকদের ব্যাপার।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!

২০২০ শুরু করুন আমাদের দারুণ দারুণ প্ল্যানার আর স্টেটমেন্ট সোয়েটশার্ট দিয়ে। এগুলো সবকটাই আপনারই মতো একশ শতাংশ মজার এবং অসাধারণ! ওহ হ্যাঁ, শুধুমাত্র আপনার জন্য রয়েছে ২০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থাও। দেরি কিসের আর, এখনই POPxo.com/shop থেকে কেনাকাটা সেরে ফেলুন আর নিজেকে আরেকটু পপ আপ করে ফেলুন!