ব্যক্তিগত জীবনের কোন ‘গোপন কম্ম’, ব্রহ্মা জেনে ফেললেন? শেয়ার করলেন ঋতাভরী

ব্যক্তিগত জীবনের কোন ‘গোপন কম্ম’, ব্রহ্মা জেনে ফেললেন? শেয়ার করলেন ঋতাভরী

অরিত্র (Aritra) মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি মুক্তি পাবে আগামী ৬ মার্চ। মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ঋতাভরী (Ritabhari) চক্রবর্তী। ছবি মুক্তির আগে মন খুলে আড্ডা দিলেন অভিনেত্রী।

এখনও পর্যন্ত যতটুকু বোঝা যাচ্ছে, এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা রয়েছে। সেটাই কি এই ছবিটা করতে রাজি হওয়ার কারণ?

ভাবনাটা দারুণ, স্ক্রিপ্ট দুর্দান্ত। ভারী ভারী কথা বলা হয়েছে এই ছবিতে ঠিকই। কিন্তু সেই বলার ধরন খুব সহজ। একেবারেই গুরুগম্ভীর নয়। ফান ফ্যাক্টস রয়েছে। পুরোপুরি পারিবারিক ছবি। ইক্যুয়ালিটি ইন ম্যারেজ, পিরিয়ড নিয়ে ট্যাবু এ সব নিয়ে কথা বলা হয়েছে সহজ সরল ভাবে। কারও ছবিটা দেখতে গিয়ে কোনও অসুবিধে হবে না। বাড়িতেই তো এগুলো নিয়ে কথা হওয়া উচিত। বাচ্চারা তো বাড়ি থেকেই এ সব শিখবে, সেটাই স্বাভাবিক। ফলে এমন প্রয়োজনীয় একটা বিষয় নিয়ে এত সুন্দর কাজ, সেটা তো ছবিটা করতে রাজি হওয়ার কারণ বটেই।

আর আপনার চরিত্র?

ছবির দৃশ্যে ঋতাভরী। ইনস্টাগ্রামের সৌজন্যে।

আমার চরিত্র শবরী। স্ট্রং গার্ল। সাধারণ মেয়ের অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প। ওর বাবা পুরোহিত ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর ও পুরোহিত হয়েছে। পৌরহিত্য তো ভগবানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন। ফলে মেয়েদের পিরিয়ড হয়। তারা অশুচি। তারা কেন পৌরহিত্য করবে? এ সব প্রশ্ন শবরীকে শুনতে হয়েছে। অনেক প্রতিকূলতা ছিল। কিন্তু সে সব পেরিয়েও ও এটাই করে। সবটা যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে।

নিঃসন্দেহে এমন চরিত্র বাংলা ছবিতে দর্শক আগে দেখেননি, প্রস্তুতিও নিশ্চয়ই অন্য রকম ছিল?

আমাকে পুজো করাটা শিখতে হয়েছে। শবরী খুব সাধারণ পরিবারের মেয়ে। কিন্তু ওর বোধে আভিজাত্য রয়েছে। ও তো নেচে নেচে পুজো করবে না। ফলে চামর দোলানো, ঘণ্টা বাজানো শিখতে হয়েছে। কীভাবে মেরুদন্ড সোজা রেখে পুজো করতে হয়, শিখেছি। একজন পুরোহিত রাখা হয়েছিল আমাকে শেখানোর জন্য। আর সংস্কৃত শেখার জন্যও একজন টিচার ছিলেন। আমি খুব ট্রাভেল করি তো, সে কারণে ওঁর বলে দেওয়া রেকর্ডিংটা সঙ্গে রাখতাম। সমানে শুনতাম আর মেমরাইজ করতাম।

অরিত্রর পরিচালক হিসেবে এটা প্রথম কাজ। বোঝাপড়া কেমন ছিল আপনাদের?

পরিচালক এবং অভিনেত্রী। ছবি ইনস্টাগ্রামের সৌজন্যে।

প্রথম দিন থেকেই অরিত্রর সঙ্গে টিউনিংটা খুব সহজ হয়ে গিয়েছিল। ভিস্যুয়ালটা দুজনের মিলে গিয়েছিল। ও যেটা ভাবছিল, আমিও সেটাই ভাবছিলাম। কোনও একটা সিন ধরুন ও ভাবছে, ইম্প্রোভাইজ করতে বলবে, সেটা মনিটরে বসে দেখতে পাচ্ছে, আমি সেটাই ইম্প্রোভাইজ করছি। বহুবার এমন হয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে এই ধরনের ট্যাবু নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন কখনও?

আমি প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত একটা পরিবারে বড় হয়েছি। এসব বাড়িতে কখনও শুনিনি। বরং স্কুলে বা কলেজে বন্ধুদের বলতে শুনেছি। আমাদের এনজিও আছে। তার কাজে গ্রামে গিয়ে দেখেছি, মেয়েরা এখনও পিরিয়ড নিয়ে কথা বলতে লজ্জা পায়। এটা যেন অপরাধ, এমনটাই ভাবেয এই ছবির প্রোমোশনে সত্যিই যাতে ট্যাবুটা ভাঙা যায়, সে চেষ্টাই করছি আমরা।

আপনার পরিবারে কোনও অনুষ্ঠান মহিলা পুরোহিতের পৌরহিত্যে হয়েছে?

(হাসি) আমার দাদু নাস্তিক ছিলেন। দিদা ভোর পাঁচটায় উঠে পুজো করতেন। তারপর স্কুলে পড়াতে যেতেন। বাড়ির নিত্য পুজো দিদাই করতেন। তার বাইরে কখনও দেখিনি। আর মহিলা পুরোহিত কনসেপ্টটাই আমি জেনেছি নন্দিনীর ভৌমিকের কথা পড়ার পর। ওঁকে নিয়ে কোনও একটা লেখা পড়েছিলাম। তারপর মনে হয়েছিল, সত্য়িই তো মেয়েরা কেন পৌরহিত্য করে না? তার আগে এই ব্যাপারটা নিয়ে কখনও ভাবিনি।

‘উইনডোজ‘ প্রোডাকশনের সঙ্গে এই ছবিটা আপনার প্রথম কাজ। শিবপ্রসাদ, নন্দিতার পরিচালনায় অভিনয় করার ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন?

ছবির দৃশ্যে ঋতাভরী এবং সোহম। ছবি ইনস্টাগ্রামের সৌজন্যে।

আমার প্রথম অভিনয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ওগো বধূ সুন্দরী’র পরে ২০১১-১২ নাগাদ সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখা গল্পের উপর একটা ছবি করার জন্য শিবুদা আমাকে ডেকেছিল। মিটিংও হয়েছিল। তারপর ছবিটাই আর হয়নি। আরও একবার অন্য একটা ছবির জন্য কথা হয়েছিল। কিন্তু ওয়ার্কআউট করেনি। দেখুন, ওরা তো ভাল ছবি করবেনই। কিন্তু সেখানে আমার কিছু করার না থাকলে, করতে চাইব না। যেমন অন্যান্য প্রোডাকশনেও অনেক পরিচালকের ছবিতে আমার কিছু করার নেই বলে অফার ফিরিয়ে দিয়েছি। তবে ওঁরা আমার কিছু করার থাকবে না, এমন কোনও চরিত্র আমাকে অফার করবেন বলে মনে হয় না।

নতুন ছবির জন্য় শুভেচ্ছা রইল। আপনার কোন গোপন কম্ম, ব্রহ্মা জেনে ফেললেন বলুন তো?

(হাসি) … ‘নেকেড’ কনসেপচুয়ালাইজ করার পরও আমি ক্রেডিট নিইনি। কারণ ভেবেছিলাম, খারাপ হলে লোকে আমাকেই গালাগালি করবে। কিন্তু পরে সকলের ভাল লাগে। আমার কো-রাইটারের সঙ্গে কথা বলে ক্রেডিট পেয়েছি। ব্রহ্মা সেই গোপন কম্মটি সকলকে জানাতে সাহায্য করেছিল। যাতে আরও ভাল কাজ করতে পারি। 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!

২০২০ শুরু করুন আমাদের দারুণ দারুণ প্ল্যানার আর স্টেটমেন্ট সোয়েটশার্ট দিয়ে। এগুলো সবকটাই আপনারই মতো একশ শতাংশ মজার এবং অসাধারণ! ওহ হ্যাঁ, শুধুমাত্র আপনার জন্য রয়েছে ২০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থাও। দেরি কিসের আর, এখনই POPxo.com/shop থেকে কেনাকাটা সেরে ফেলুন আর নিজেকে আরেকটু পপ আপ করে ফেলুন!