ইচ্ছে থাকলেই সব হয়! তারই প্রমাণ অটোচালকের ছেলে আনসার যিনি এখন দিনহাটার মহকুমাশাসক

ইচ্ছে থাকলেই সব হয়! তারই প্রমাণ অটোচালকের ছেলে আনসার যিনি এখন দিনহাটার মহকুমাশাসক

স্বপ্ন কাকে বলে? স্বপ্ন হল সেটা, যা আমাদের জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। যা আমাদের আরও উপরে ওঠার অক্সিজেন জোগায়। তাই স্বপ্ন দেখা উচিত আর স্বপ্ন দেখে, সেই স্বপ্ন সফল করার জন্য আরও জোরকদমে এগিয়ে যাওয়া উচিত। তবেই আপনি যেখান থেকে জীবন শুরু করবেন, সেখানে জীবন শেষ করবেন না! আর ঠিক এমনটাই হয়েছে মুর্শিদাবাদের দিনহাটার বর্তমান মহকুমাশাসক আনসার আহমেদ শেখের (Ansar Shaikh) ক্ষেত্রে। মহারাষ্ট্রের এক অখ্যাত গ্রামের ছেলে আনসার স্রেফ স্বপ্নউড়ান আর মনের জোরে ভর করে হয়েছেন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সি আইএএস (IAS), মাত্র ২১ বছর বয়সে! ভারতীয় শাসনব্যবস্থায় অন্যতম প্রশাসনিক উচ্চ পদে কাজ করছেন তিনি, যিনি এককালে চায়ের দোকানে বাসনপত্র ধুতেও দ্বিধা বোধ করেননি। কারণ, তা তাঁকে শিক্ষার খরচ জোগাত! আজ আমরা একটু স্বাদবদল করে শুনি তাঁর জীবনযুদ্ধের কথা। হয়তো ভবিষ্যতে অনেককে এই গল্পই এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। নতুন করে স্বপ্ন দেখার উৎসাহ জোগাবে!

মহারাষ্ট্রের জালনা জেলার শেলগাঁও গ্রামে জন্ম আনসারের। বাবা পেশায় অটোচালক (autodriver) আর মা দিনমজুর। ফলে ছ ভাইবোনের সংসারে দিন গুজরান হওয়াটাই কঠিন তো পড়াশোনার খরচ জোগাবে কে! তাই মেধাবী আনসার ছোটবেলা থেকেই স্বনির্ভর হতে শিখেছিলেন। নিজের স্বপ্নের ফুয়েল যে নিজেকেই জোগাড় করে ফেলতে হবে, সেটা বিলক্ষণ বুঝেছিলেন তিনি। তবে গরিবদের স্বপ্ন দেখতে নেই, একথা বিশ্বাস করেননি তিনি। তাই চায়ের দোকানে বাসন ধোওয়া থেকে শুরু করে রেস্তরাঁয় কাজ করা, বাদ পড়েনি কিছুই। কিন্তু তা নিয়ে কোনও আক্ষেপ না অভিযোগ নেই আনসারের। যেমন, টাকার অভাবে স্কুলের সেরা ছাত্র হয়েও বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হতে পারেননি বলে কেঁদে পড়াশোনা ছেড়ে দেননি। উল্টে কলা বিভাগে ভর্তি হয়ে আবার সেরা রেজাল্ট করে দেখিয়ে দিয়েছেন সকলকে। আসলে আনসার সেই গোত্রে পড়েন, যাঁরা কোনওদিনও হার মানেন না। চরৈবতিই যাঁদের জীহনের মূল মন্ত্র! তাই যেদিন আইএসএস হতে পারলেন এই দিনমজুরের ছেলে, সেদিন সকলে বিশ্বাস করেছিল যে স্বপ্ন দেখে, সেই স্বপ্ন সত্যিও করা যায় প্রকৃত অর্থে চেষ্টা করলে!

দিনহাটার মহকুমাশাসক (Dinhata SDO) হিসেবে কাজ যোগ দিয়েও সেই কাজটাই করতে চান আনসার। মানে, যেভাবে তিনি নিজে জীবনে এগিয়েছেন, এই মহকুমার সব পিছিয়ে পড়া লোকদেরও সেটাই শেখাতে চান তিনি। চান, তাঁর মতো কোনও অভাবী, মেধাবী ছাত্রছাত্রী যেন বোঝে যে, স্বপ্ন দেখলে তা করায়ত্ত করাটা মোটেও খুব কঠিন নয়। এই জেলায় সরকারি সাহায্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে টাইআপ করে ও উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় গ্রন্থাগারে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য নানা শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম চালু করার ইচ্ছেও আছে তাঁর। এই ব্যাপারে কোচবিহারের জেলাশাসকও প্রস্তুত আনসারকে সবরকম সাহায্য করার জন্য।

আসলে আনসার দেখিয়ে দিতে চান যে, সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে তাঁর মতো আরও অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী নিজেদের ডানায় ভর দিয়ে স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারেন!

মূল ছবি সৌজন্য: ফেসবুক

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!