আমাকে ঠকিয়ে অবৈধ সম্পর্কে থেকেছে অরিন্দম, বিস্ফোরক তনুরুচি in bengali | POPxo

EXCLUSIVE: অরিন্দম যা করেছে অন্য মহিলাদের সঙ্গে, বলতে লজ্জা করে...তনুরুচি শীলের সাক্ষাৎকার

EXCLUSIVE: অরিন্দম যা করেছে অন্য মহিলাদের সঙ্গে, বলতে লজ্জা করে...তনুরুচি শীলের সাক্ষাৎকার

পরিচালক অরিন্দম (Arindam) শীলের বিরুদ্ধে রূপাঞ্জনা মিত্র যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় অরিন্দমের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন তনুরুচি শীল। যিনি নিজেকে এখনও আইনত অরিন্দমের স্ত্রী বলে দাবি করছেন। অরিন্দমের বিরুদ্ধে স্পষ্টতই প্রতারণার অভিযোগ করছেন তনুরুচি (Tanuruchi)।

ফেসবুকে তিনি এই বিষয়ে দীর্ঘ পোস্ট দেন। তারপর POPxo বাংলার তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, "অরিন্দম ডিভোর্সের মামলা করেছিল। কিন্তু দিনের পর দিন আদালতে হাজিরা দিত না। গত বছর সেই মামলা খারিজ হয়ে যায়। সেই মামলা অরিন্দম রিওপেন করেছে। যার শুনানির ডেট আগামী মার্চে। আমি এখনও আইনত ওর স্ত্রী। ও যা করেছে বিভিন্ন মহিলার সঙ্গে, আমার নিজের লজ্জা করে। ওর কোনও লজ্জা নেই। ও মিডিয়াতেই বলেছে, শুক্লা এবং সোনিকা ওর সব। ২০ বছর ধরে লিভ ইন করছে শুক্লার সঙ্গে। বিয়ে করেনি। মেয়েটিও অরিন্দমের নয়। ও একবার সকলের সামনে বলুক না, ওরা ওর কে! আইনত ওই মেয়েটিকে অ্যাডপ্ট করার কোনও ডকুমেন্ট ও দেখাতে পারবে? শুধু আমাকেই নয়। এভাবে তো ও শুক্লাকেও অপমান করছে। ও আমার বান্ধবী ছিল। আমরা একই জায়গায় কাজ করতাম। ২০১১-এ আমরা পিকনিকে গিয়েছিলাম। সেখানে আমারই সামনে অরিন্দম শুক্লার সঙ্গে ঘর শেয়ার করেছিল। অফিসের সকলে জানে। আরও অনেক ঘটনা রয়েছে। আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে অরিন্দম। সব দিক থেকে।"  

 

বিয়ের দিন অরিন্দম এবং তনুরুচি শীল
বিয়ের দিন অরিন্দম এবং তনুরুচি। ছবি সৌজন্যে: তনুরুচি শীল।

তনুরুচি ফেসবুকে লিখেছেন, "... যে মহিলা টিকে সবাই জানে অরিন্দমের স্ত্রী হিসাবে ,এবার আসুন এই শুক্লা দাসের ইতিহাস টা ঝালিয়ে নেওয়া যাক।শুক্লা দাস জনৈক S.C Dasএর কন্যা।1990 সালের সেপ্টেম্বর মাসে Larsen and Toubro ,3B, শেক্সপিয়ার সরনী অফিস জয়েন করে। আমি জয়েন করি 1991সালের জানুয়ারি মাসে।
তখন থেকেই ও আমার বন্ধু।1991সালের মার্চ মাসে রজত রায়ের সাথে শুক্লার বিয়ে হয়। অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন এই রজত রায়।1994 সালের র 19শে জানুয়ারি ওদের মেয়ে সোনিকা রায়ের জন্ম হয়। আমার আর অরিন্দমের সামাজিক বিয়ে হয়,1992এর 19শে নভেম্বর।তারপর 1993তে রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়। সেখান থেকেই আমরা চারজন বন্ধু।আর তখন শুক্লা দাস ছিল শুক্লা রায়।শুক্লার স্বামী ওর প্রচন্ড অর্থ নৈতিক চাহিদা মেটাতে না পেরে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন।শুক্লার ব্যবহার ও ছিল খুব খারাপ।এই সময় শুক্লা স্বামী র বিরুদ্ধে ডিভোর্সের কেস করে।শুক্লার মেয়ে সোনিকা তখন ছোট ,। ও পড়ত South point School এ। সেই সময় বন্ধু র প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে আমি , অরিন্দম ও শুক্লা তিনজন দার্জিলিং গিয়েছিলাম ওর মেয়েকে হোস্টেলে ভর্তি করানোর জন্য একটা ভালো হোস্টেলের খোঁজ করতে। কিন্তু তখনো বুঝতে পারিনি আমার বিশ্বাস আর সরলতার সুযোগ নিয়ে ও আমার স্বামীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত। একাধিক লোকের সাথে ওর সম্পর্ক থাকলেও মেয়ে সমেত ওকে কেউ বিয়ে করতে চায় নি। ওর স্বামী রজত কিছু দিন পরে মানসিক যন্ত্রণায়,ও চরম কষ্ট ভোগ করে মারা যায়। আমার বাবা 1999 সালে February মাসে মারা যান। বাবার চারদিনের কাজে আমি বাড়ি গিয়ে ছিলাম। ফিরে এসে দেখি অরিন্দম আমার সাথে হঠাৎ ই অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করছে। তখনো কিছু বুঝতে পারিনি।পারলাম যখন জুন মাসে শুক্লা আর অরিন্দম আমার সামনে দিয়ে দার্জিলিং চলে গেল। আমাকে এককাপড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়।তারপর আমার আর অরিন্দমের যৌথ ভাবে কেনা ফ্ল্যাট ওরা দুজন দখল করে ও আমার নামে একটা কেস করে যে , আমি নাকি বাড়ি বিক্রি করে দিতে চাইছি। আমি ও পাল্টা কেসকরি 2003 সালে।2019 সালে অর্ডার আসে 50% মালিকানা আমাকে দিতে হবে। কিন্তু সেই মালিকানা আজ‌ও আমি পাইনি।"

 

আপাতত আপনি কী চাইছেন? এই প্রশ্নের জবাবে তনুরুচি বললেন, "আমাদের দু'জনের যে ফ্ল্যাট রয়েছে, সেটার আজকের দিনে যা ভ্যালুয়েশন, তার ৫০ শতাংশ আমাকে দিয়ে দিক। আইনত সেটা আমি পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু অরিন্দম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেটা থেকেও আমাকে বঞ্চিত করছে। ও প্রথমে বামফ্রন্টের সমর্থক ছিল। যেই দেখল সেই দল ডুবুডুবু, ও তৃণমূলে চলে গেল। আর এতদিন ধরে মামলা লড়তে গিয়ে আমার যত খরচ হয়েছে, আমাকে দিয়ে দিক।"

এত দিন পরে হঠাৎ ফেসবুকে কেন মুখ খুললেন তনুরুচি? "রূপাঞ্জনা মুখ খোলার পর আমি সাহস পেলাম। আর রূপাঞ্জনা প্রথম নয়। এর আগেও ও অনেক মেয়ের সঙ্গে অসভ্যতা করেছে। তারা কেউ বলেনি। ওর সে সবে কোনও লজ্জা নেই। কিন্তু আইনত ওর স্ত্রী হিসেবে আমার লজ্জা করে। আমি মাত্র কয়েকজনকে ট্যাগ করে লিখেছিলাম। সেটা এখন ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। এত বছর ধরে আমি লড়াই করছি। আমি কিন্তু অরিন্দমের সম্মানহানি করিনি। ওকে তো ভালবেসে বিয়ে করেছিলাম, তাই ওর অমর্যাদা চাইনি। কিন্তু সেটা ও অ্যাডভান্টেজ ভেবে নিল। সেটা তো ঠিক নয়। আর বিষয়টা তো এখন সকলে জানেন, তা হলে অরিন্দম আমার প্রাপ্য দিয়ে মিটিয়ে নিচ্ছে না কেন? আমি কিন্তু ওকে জেলে নিয়ে যেতে পারতাম। তা তো করিনি। এখন দেখছি সেটা করলেই ভাল হত।"

 

তনুরুচি নিজেই অভিযোগের মাঝে রাজনৈতিক প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন। রূপাঞ্জনা নিজে এখন একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য। তাঁর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও এর মধ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধির সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন অনেকে। তনুরুচির অভিযোগের পরেও সে প্রসঙ্গ উঠছে কোনও কোনও মহলে। তনুরুচি স্পষ্ট বললেন, "আমি তো কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নই। আমি খুব সাধারণ ঘরের মানুষ। মায়ের সঙ্গে থাকি। আমার সঙ্গে যা-যা ঘটনা ঘটেছে, তা অফিসের সকলে জানেন। আমার পরিবার, পাড়ার লোক জানে। সুতরাং আমার কি রাজনৈতিক স্বার্থ থাকতে পারে?"

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আমাদের এক্কেবারে নতুন POPxo Zodiac Collection মিস করবেন না যেন! এতে আছে নতুন সব নোটবুক, ফোন কভার এবং কফি মাগ, যেগুলো দারুণ ঝকঝকে তো বটেই, আর একেবারে আপনার কথা ভেবেই তৈরি করা হয়েছে। হুমম...আরও একটা এক্সাইটিং ব্যাপার হল, এখন আপনি পাবেন ২০% বাড়তি ছাড়ও। দেরি কীসের, এখনই POPxo.com/shopzodiac-এ যান আর আপনার এই বছরটা POPup করে ফেলুন!