UNESCO এক বিশেষ তালিকার জন্য মনোনীত হল কলকাতার দুর্গা পুজো!

UNESCO এক বিশেষ তালিকার জন্য মনোনীত হল কলকাতার দুর্গা পুজো!

বাঙালির সেরা এই উৎসবকে নিয়ে এত দিন পর্যন্ত সারা দেশে উন্মাদনা কিছু কম ছিল না। এমনকি বিশ্বের নানা প্রান্তেও বাঙালি সমাজের প্রচেষ্টায় দুর্গা পুজোর স্বাদ পেয়েছে বিদেশিরাও। কিন্তু এবার খাস আন্তর্জাতিক নমিনেশন পেল আমাদের দুর্গা পুজো (Durga Puja)।


প্রতি বছর ইউনেসকো (UNESCO) একটি লিস্ট প্রকাশ করে, যাতে সারা বিশ্বের মুষ্টিমেয় কিছু সংস্কৃতি বা ট্র্যাডিশন জায়গা করে নেয়। আর ২০২০ সালের সেই লিস্টের (UNESCO’s 2020 list) জন্য় দুর্গা পুজোকে মনোনীত করেছেন ইউনেসকোর অধিকারীকরা। 


এত দিন পর্যন্ত ভারতের ১৩ টি সংস্কৃতিকে (Indian cultural traditions) সম্মান জানিয়েছে ইউনেসকো, যে তালিকায় ২০১৬ সালে যোগাসন এবং ২০১৭ সালে কুম্ভ মেলা জায়গা পেয়েছিল। আর এই বছর তিব্বতের শতাব্দী প্রাচীন এক চিকিৎসা পদ্ধতি, যা "সোওয়া-রিগপা" নামে পরিচিত, তাকে মনোনীত করেছে এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। আর আগামী বছরের এই লিস্টে জায়গা পেতে বাকি প্রতিযোগীদের সঙ্গে আসরে নেমেছে বাঙালির সব থেকে বড় উৎসব দুর্গোৎসব! নানা সংস্কৃতি যাতে কালের নিয়মে ধ্বংস হয়ে না যায়, তা সুনিশ্চিত করতেই ইউনেসকোর এই উদ্যোগ। তাই দুর্গা পুজোর নাম এই তালিকার জন্য মনোনীত হওয়া যে কম বড় বিষয় নয়, তা তো বলাই বাহুল্য!


আরো পড়ুনঃ দুর্গাপুজোর ইতিহাস থেকে বিজয়া দশমী





একথা আর নতুন করে বলার নেই যে থিম পুজোর রীতি শুরু হওয়ার পর থেকে দুর্গা পুজো আর শুধু এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আটকে থাকেনি। বরং শৈল্পিক ভাবনা প্রকাশের সবথেকে বড় মাধ্য়ম হয়ে দাঁডিয়েছে। তাই তো গত কয়েক বছরে কলকাতার এক একটা দুর্গা মন্ডপ যেন একটা আর্ট গ্যালারিতে রূপান্তরিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশের নানা প্রান্তের চোখ ধাঁধানো সব সংস্কৃতি জায়গা করে নিয়েছে নানা পুজো মন্ডপের থিম হিসেবে, যা না দেখলে বিশ্বাসই হয় না যে শিল্পকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তাই ইউনেসকোর আজকের এই সম্মান আগামী সময়ে শিল্পীদের আরও নতুন কিছু করার বিষয়ে যে অনুপ্রাণিত করবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।


কলকাতায় (kolkata) থিম পুজো যেমন একদিকে সারা দুনিয়ায় সারা ফেলেছে, তেমনি এখনও এমন কিছু পুজো মন্ডপ রয়েছে, যা আদি সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে, যার অন্যতম হল বাগবাজারের পুজো। এখানকার পুজোয় মা সেজে ওঠেন সনাতনী ডাকের সাজে। এছাড়াও কুমারটুলি পার্কের পুজো তো রয়েছেই, যা বাঙালি সংস্কৃতিকে এখনও বাঁচিয়ে রেখেছে।


আর যদি থিমের প্রসঙ্গে আসতে হয়, তাহলে উত্তর থেকে দক্ষিণ, কলকাতায় বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক থিম পুজো হয়, যা না দেখলে দুর্গা পুজোর সেলিব্রেশন যে অধরাই থেকে যায়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কলকাতার যে যে পুজো মন্ডপগুলি গত কয়েক বছরে থিম পুজোর সংস্কৃতিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হল- মহম্মদ আলি পার্ক, বাদামতলা আষার সংঘ, সুরুচি সংঘ, বেহালা নতুন দল, যোথপুর পার্ক, বোসপুকুর শিতলা মন্দির এবং লেবুতলা পার্কে পুজো।





কলকাতার দুর্গা পুজো নিয়ে যখন আলোচনা হচ্ছে তখন থিম আর সংস্কৃতির বাইরেও আরকেটি বিষয় নিয়ে কথা না বললে ভুল হবে, আর তা হল লাইটিং। আমাদের রাজ্যের ছোট থেকে বড় সব পুজোরই লাইটিংও কিন্তু দেখার মতো হয়। তাই সব মিলিয়ে আমাদের দুর্গা পুজো যে সত্যিই অনন্য, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না, আর এখন তো সে কথা মেনে নিয়েছে ইউনেসকোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাও।


ছবির কৃতজ্ঞতা স্বীকার: instagram, wikipedia


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!