কলকাতা ও শহরতলির কয়েকটি বিখ্যাত রথযাত্রার গল্প in Bengali | POPxo

কলকাতার কয়েকটি বিখ্যাত রথযাত্রা, শহরে থেকেই নিন উৎসবের স্বাদ

কলকাতার কয়েকটি বিখ্যাত রথযাত্রা, শহরে থেকেই নিন উৎসবের স্বাদ

রথযাত্রার দিনটা ছোটবেলায় আমার ভারী পছন্দের ছিল! তার কারণ, আমার স্কুল ছিল উত্তর শহরতলির নাগেরবাজার অঞ্চলে। দুপুরবেলা থেকে সেদিন সেখানে চলত রথ টানার প্রস্তুতি। ফলে স্কুলে হাফ ছুটি। তা ছাড়া আমরা থাকতাম দমদম চিড়িয়ামোড় অঞ্চলে। সেখানেও বিশাল শোভাযাত্রা বেরত রথ নিয়ে। ব্যস, আর কী চাই! নিজে কতক্ষণ রথ টানতাম, তার নেই ঠিক, কিন্তু রথযাত্রা মানে ছুটি, মেলা, খাওয়াদাওয়া আর অফুরন্ত মজা! আর রথযাত্রার মাহাত্ম্য বা কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন বিখ্যাত রথযাত্রা (Rath Yatra) নিয়ে গল্পগাছা, সেসবের সঙ্গে পরিচয় হয় অনেক পরে। পুরী কিংবা পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে দিন, এই ছোট্ট শহর কলকাতরই অলিতে-গলিতে আছে কত বিখ্যাত রথযাত্রা। তাদের প্রতিটির সঙ্গেই প্রায় জুড়ে আছে নানা গল্পকথা। এই প্রতিবেদনে সেরকমই কিছু রথের কথা বলব আপনাদের। 

১. ইসকনের রথ

ইনস্টাগ্রাম
ইনস্টাগ্রাম

সম্ভবত এটিই এখন কলকাতার সবচেয়ে নামী রথযাত্রা! ১৯৭২ সাল থেকে এই রথযাত্রার শুরু এবং আজ পর্যন্ত টানা চলে আসছে এটি, একবারও ছেদ পড়েনি এতে! কলকাতার অ্যালবার্ট রোডে ইসকনের রাধাগোবিন্দ মন্দির থেকে এই রথের শোভাযাত্রা শুরু হয় প্রতি বছর। ১৯৭২ সালে দুপুর আড়াইটে নাগাদ প্রথম জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রাকে নিয়ে রথযাত্রা শুরু হয়েছিল এবং যে-যে পথ ধরে সেই রথ (rath) এগিয়েছিল, আজও ঠিক সেরকমভাবেই এগোয়! পুরীতে যেমন মন্দিরের মূল বিগ্রহকেই বের করে রথে বসানো হয়, এখানেও ঠিক তেমনটাই করা হয়। পুরীতে জগন্নাথ (Jagannath) দাদা-বোনকে নিয়ে যান গুণ্ডিচা মন্দিরে, তাঁর মাসির বাড়িতে, আর এখানে জগন্নাথ এক সপ্তাহ থাকেন মল্লিকদের ঠাকুরবাড়িতে! অ্য়ালবার্ট রোড থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়, তারপর ক্যামাক স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট, চৌরঙ্গী, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, মহাত্মা গাঁধী রোড হয়ে তা শেষ হয় ১২ মহাত্মা গাঁধী রোডে, মল্লিকদের ঠাকুরবাড়িতে। সেখানে দেবতাকে সোনা-রুপোর থালায় ভোগ পরিবেশন করা হয়। ইসকনের রথের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, যে-কোনও ধর্মের, যে-কোনও সম্প্রদায়ের মানুষই এখানে অংশগ্রহণ করতে পারেন। সারা শোভাযাত্রা জুড়ে তাই বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাষাভাষী, ধর্মের মানুষ দেবতাকে নিজেদের মতো করে অর্ঘ্য অর্পণ করেন। এমনকী, ইসকনের (ISKCON) বিদেশি বহু ভক্তও অংশগ্রহণ করেন এই রথযাত্রায়! এবার তো ইসকনের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে নুসরত জাহানকেও। 

 

 

২. রানি রাসমণির বাড়ির রথ

এই রথের গল্পটি ভারী মজার। রানি রাসমণির নাম তো জি বাংলার সৌজন্যে এখন সকলেই জানেন। রথের গল্পও এখন দেখানো হচ্ছে সেই সিরিয়ালে। তবুও যাঁরা দেখেননি, তাঁদের জন্য ছোট করে বলে দিই গল্পটি। রাসমণির শ্বশুরবাড়িতে প্রতিষ্ঠিত দেবতা ছিলেন রঘুবীর। এক রাতে রানি স্বপ্ন দেখেন যে, রঘুবীর তাঁর কাছে রথে চড়ার আবদার করছেন! যিনি কোনওদিন কারও আবদারে না করেননি, সেই স্নেহময়ী নারী কী করে তাঁর আরাধ্যের আবদারে না করেন! তাই ছোট জামাতা মথুরামোহনের ডাক পড়ে ও তিনি শাশুড়িমায়ের নির্দেশ মতো তৈরি করে দেন রুপোর রথ, তা-ও খাঁটি ব্রিটিশ হ্যামিল্টন কোম্পানির কাছ থেকে, ১৮৩৮ সালে! সেই রথ নিয়ে শোভাযাত্রায় বেরিয়েছিলেন রানির পুরো পরিবার! খরচ হয়েছিল তখনকার দিনেই প্রায় দেড় লক্ষ টাকার মতো!

কলকাতার আরও কয়েকটি বিখ্যাত রথযাত্রা

ইনস্টাগ্রাম
ইনস্টাগ্রাম

কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষত উত্তর কলকাতা ও উত্তর শহরতলিতে আজও ধুমধাম করে পালিত হয় রথযাত্রা উৎসব। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল.

১. তারক প্রামাণিক রোডের প্রামাণিক বাড়ির রথ ব্রোঞ্জের তৈরি। এই রথের প্রতিটি অংশ খুলে আলাদা করা যায়! রথটি পুরোপুরি ব্রিটিশ কায়দায় তৈরি। রথের চারটি দণ্ডে আছে চার মহিলার মূর্তি, যাঁরা ইউরোপিয়ান গাউনের মতো পোশাক পরে আছেন! প্রসঙ্গত, এই রথ কোনওদিন বাড়ির বাইরে যায়নি। শ্রীধর জিউয়ের বিগ্রহ বসিয়ে বাড়িতেই টানা হয় রথটি!

২. মার্বেল প্যালেসের রথ তৈরি হয় কাঠ দিয়ে। প্রথমদিকে বাঁশের তৈরি হলেও, পরে ছাতুবাবু-লাটুবাবুদের বাড়ির রথও কাঠ দিয়েই মজবুত করে তৈরি করা হয়। শ্রীধর জিউ এই রথে বসেন, বসে বাড়ির ছাদেই কিছুক্ষণ হাওয়া খেয়ে আবার নীচে, দোতলার মন্দিরে ফিরে যান।

৩. হাতিবাগানের মাধব বাড়ির রথ আজও শোভাযাত্রা করে যায় বেলগাছিয়ায়! সেখানে রাধামাধব মন্দিরেই সাতদিন থাকে এই রথ। মাধব বাড়িতে ঢোকার রাস্তা খুব ছোট হলেও, এই বাড়ির মার্বেলের মন্দির দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। এখনও এই রথের শোভাযাত্রা দেখতে পুরো যাত্রাপথে ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ।

৪. বাগবাজারে বলরাম বোসের বাড়ির রথযাত্রাও বেশ জাঁকজমক করে পালিত হয়। কথিত আছে, এই রথের রশিতে নাকি এককালে স্বয়ং রামকৃষ্ণ দেবের হাত পরেছিল! ভক্ত এবং শিষ্যদের সঙ্গে এই বাড়ির বারান্দায় রথ টেনেছিলেন তিনি। এখনও সেই রথটি যত্ন করে রেখে দেওয়া আছে। তবে এটি আকারে খুবই ছোট।

মূল ছবি সৌজন্য: ইনস্টাগ্রাম

 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!