বায়ুসেনার প্রথম মহিলা পাইলট গুঞ্জন সাকসেনার বায়োপিকের ফার্স্ট লুকে চমকে দিলেন জাহ্নবী কপূর

বায়ুসেনার প্রথম মহিলা পাইলট গুঞ্জন সাকসেনার বায়োপিকের ফার্স্ট লুকে চমকে দিলেন জাহ্নবী কপূর

'মেয়েরা কখনও পাইলট হয় না'। আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখত যে মেয়ে ছোট থেকেই সে শুনেছিল ওই কথাটা। মেয়েরা নাকি কখনও পাইলট হয় না। বাড়িতে তো বটেই, আত্মীয়, বন্ধুরাও একই কথা বলত। যদিও পরিবারে অনেকেই ভারতীয় সেনায় চাকরি করতেন। সে সময় মেয়ে মনে-মনে কষ্ট পেত। ভাবত, সত্যিই কি আর উড়তে পারবে না সে? পাইলট (pilot) হওয়ার ইচ্ছেরা মরে যাবে? না! মরে যায়নি। জীবন তাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিল। আবার জীবনই ফিরিয়ে দিয়েছিল স্বপ্নপূরণের সাধ। সে মেয়ে গুঞ্জন সাকসেনা (Gunjan Saxena)। 

গুঞ্জনের কথা হয়তো আপনি জানেন। হয়তো বা জানেন না। কিন্তু এবার বড়পর্দায় গুঞ্জনকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে সিনেমা। জাহ্নবী কপূর (Janhvi Kapoor) অভিনয় করেছেন মুখ্য চরিত্রে। ফলে সিনেমা হলে গিয়ে বাস্তবের গুঞ্জনকে চিনে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার মুক্তি পেল সে ছবির ফার্স্ট লুক। প্রথম পোস্টারে দেখা যাচ্ছে, জাহ্নবীর হাতে ধরা রয়েছে একটি কাগজের তৈরি প্লেন। হাওয়ায় উড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। মুখে হাসি। আর তাতেই কনফিডেন্ট মনে হচ্ছে অভিনেত্রীকে।

গুঞ্জন ভারতীয় বায়ুসেনার প্রথম মহিলা অফিসার। যিনি ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে গিয়েছিলেন। ৪৪ বছরের গুঞ্জন হংসরাজ কলেজ এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী। স্নাতক হওয়ার পর দিল্লির সফরদরজং ফ্লাইং ক্লাবে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য ভর্তি হন। তাঁর এক আত্মীয় পাইলট ছিলেন। সেই সুবাদে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ককপিটে বসার অভিজ্ঞতা হয় তাঁর। আর তখনই নাকি ঠিক করে নেন গুঞ্জন, ভবিষ্যতে এটাই তিনি করতে চান। সেই স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে এগোতে থাকেন। মহিলা আইএএফ ট্রেনি পাইলটদের প্রথম ব্যাচেই তিনি সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৯৪-এ মহিলা আইএএফ ট্রেনি পাইলটদের ২৫ জনের দলে ছিলেন। তাঁর প্রথম পোস্টিং হয় জম্মু এবং কাশ্মীরের উধমপুরে।

গুঞ্জনের বাবা এবং দাদা, দু'জনেই ভারতীয় বায়ুসেনায় কাজ করতেন। তাঁর স্বামীও পাইলট। ২০০৪-এ এক কন্যা সন্তানের মা হন গুঞ্জন। ১৯৯৯-এ কার্গিল যুদ্ধ গুঞ্জনের কেরিয়ারে বড় মাইলস্টোন। তিনি সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। কার্গিল যুদ্ধে অবদানের জন্য প্রথম মহিলা হিসেবে সূর্যচক্র অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষের কাছে 'কার্গিল গার্ল' হিসেবেই তিনি পরিচিত। সাত বছরের কেরিয়ারের শেষ করে ২০০৪-এ অবসর নেন গুঞ্জন। এই মুহূর্তে তাঁর ঠিকানা গুজরাতের জামনগর।

এ হেন গুঞ্জনকেই পর্দায় তুলে ধরবেন জাহ্নবী। প্রথম ছবি 'ধড়ক'-এ তাঁর অভিনয় ভাল লেগেছিল দর্শকের। যদিও আদরের জানু বলিউড ডেবিউ দেখে যেতে পারেননি শ্রীদেবী। তবে এবার লড়াই আরও কঠিন। গুঞ্জনের বায়োপিকে অভিনয় করার জন্য নাকি আলাদা করে ট্রেনিং নিয়েছেন জাহ্নবী। দিনের পর দিন ওয়ার্কশপও করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। সব মিলিয়ে তৈরি হয়ে মাঠে নামতে চান তিনি। দ্বিতীয় ছবিতে শ্রীদেবী কন্যাকে দর্শক কত মার্কস দেন, সেটাই এখন দেখার। 

যদিও পোস্টারে ইন্ডাস্ট্রির একটা বড় অংশ প্রশংসা করেছে জাহ্নবীর। পঙ্কজ ত্রিপাঠী এবং নীনা গুপ্ত এই ছবিতে জাহ্নবীর অন স্ক্রিন বাবা-মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অঙ্গদ বেদী রয়েছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২০-র ১৩ মার্চ মুক্তি পাবে এই ছবি। 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!