প্রথমবার বাণিজ্যিক বিমান চালিয়ে নজির সৃষ্টি করলেন উড়িষ্যার উপজাতির মেয়ে অনুপ্রিয়া

প্রথমবার বাণিজ্যিক বিমান চালিয়ে নজির সৃষ্টি করলেন উড়িষ্যার উপজাতির মেয়ে অনুপ্রিয়া

যারা বছরে তিনবার পুরী বেড়াতে যান, তাঁরা ভাবেন এখানেই উড়িষ্যার (Odisha) শুরু আর এখানেই শেষ। কিন্তু এটা ঠিক নয়। উড়িষ্যায় এমন অনেক জায়গা আছে যার নাম আমরা কখনও শুনিনি। যেমন মালকানগিরি। নাম শুনেছেন? যারা নিয়মিত খবরের কাগজ পড়েন এবং টিভিতে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে খবর দেখেন তাঁরা হয়তো শুনে থাকলেও থাকতে পারেন এই জায়গাটির নাম। খবরের কাগজের কথা কেন বললাম? এমন কী আছে এই জায়গায় যার জন্য জায়গাটি খবরের শিরোনামে আসবে? মালকানগিরি ভারতের অন্যতম মাওবাদী অধ্যুষিত অঞ্চল! আর এখানকারই ট্রাইবাল কমিউনিটি বা ওড়িয়া উপজাতির (tribal) মেয়ে অনুপ্রিয়া মধুমিতা লাকরা বাণিজ্যিক (commercial) বিমান (plane) চালিয়ে বিরল নজির গড়লেন। মালকানগিরি থানার কনস্টেবলের মেয়ে সাতাশ বছরের অনুপ্রিয়া এই মাসের শেষে সহ পাইলট হিসেবে যোগ দেবেন ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সে। ছোটবেলা থেকে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেছেন অনুপ্রিয়া। অবশ্য তাঁর স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করেছেন তাঁর বাবা আর মা। অনুপ্রিয়ার বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে মেয়ের পাইলট ট্রেনিংয়ের টাকা যোগানোর সামর্থ্য তাঁর ছিল না। বাধ্য হয়েই ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিতে হয় তাঁকে। হাত পেতেছেন আত্মীয় স্বজনদের কাছেও। তার জন্য কিছু বেঁকা মন্তব্যও সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। অখ্যাত এই গ্রামে থেকে কীভাবে একটি মেয়ে আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখে তাই নিয়ে বিদ্রূপ করতেন অনেকেই। কিন্তু অনুপ্রিয়ার বাবা মা চাননি যে মেয়ের ছোটবেলার স্বপ্ন এইভাবে মুখ থুবড়ে পড়ুক। অবশেষে স্বপ্ন সফল হয়েছে এই পরিবারের। আপনার বা আমার মনে হতেই পারে, এখন তো কত মহিলারা কত কী করছেন, তাহলে অনুপ্রিয়াকে আমরা আলাদা করে কেন সাধুবাদ দেব? দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করার কত কাহিনিও তো আমরা প্রায়ই খবরের কাগজে পড়ি। তাহলে অনুপ্রিয়া আলাদা কেন? কারণ অনুপ্রিয়াকে শুধু দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে হয়নি। লড়াই করতে হয়েছে গোটা সমাজের সঙ্গে। মালকানগিরির মতো অঞ্চল যেখানে শুধু কিছু উপজাতি বাস করেন, সেখান থেকে উঠে এসে বিমান চালক হওয়ার যাত্রা খুব একটা সহজ ছিল না। তার উপরে এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ ছিল মাওবাদীদের। অনুপ্রিয়া ছোট থেকেই মেধাবী ছিলেন এবং চাইতেন এমন কিছু করতে যাতে শুধু তাঁর নয় তিনি যে উপজাতির মেয়ে তাঁদেরও উন্নতি হোক।   

মালকানগিরির মিশনারি স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করে পাশের জেলা কোরাপুটে গিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন অনুপ্রিয়া। তার পর ভর্তি হন ভুবনেশ্বরের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। দু'তিন মাস পড়ার পর বুঝতে পারেন আর যাই হোক ইঞ্জিনিয়ারিং তাঁর জন্য নয়। মাঝপথেই পড়া ছেড়ে ভর্তি হন ভুবনেশ্বরের সরকারি অ্যাভিয়েশান ইন্সটিটিউটে। অনুপ্রিয়ার এই সাফল্যে গর্বিত হয়েছেন উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক। টুইটারে তিনি বলেছেন অন্যান্য মেয়েদের কাছে অনুপ্রিয়া একজন রোল মডেল।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!