সেলফি লে লে রে! কঙ্গোর অভয়ারণ্যে রীতিমতো পোজ দিয়ে সেলফি তুলল দুই গোরিলা

সেলফি লে লে রে! কঙ্গোর অভয়ারণ্যে রীতিমতো পোজ দিয়ে সেলফি তুলল দুই গোরিলা

সেলফি নিয়ে আজকাল যা ক্রেজ দেখা যাচ্ছে সেই নিয়ে নতুন করে কী বলব! লোকে ছাদের থেকে ঝুলে ঝুলে সেলফি তুলছে, আইফেল টাওয়ারের চুড়োয় উঠে সেলফি তুলছে। একেক জনের তো সাঙ্ঘাতিক সব লোকেশানে সেলফি (selfie) তুলতে গিয়ে প্রাণও চলে যাচ্ছে। তাদের বেলা কোনও দোষ নেই। আর ওরা একটু সেলফি (selfie) তুলেছে বলে শোরগোল পড়ে গেল! ওরা মানে কারা? ওরা মানে দুটো গোরিলা (gorilla)! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। আর এই ছবি ভাইরাল হয়ে গেছে সঙ্গে সঙ্গে।


তাহলে ঘটনাটা খুলেই বলি। কঙ্গোর (Congo) ভিরুনগা ন্যাশনাল পার্কের (National Park) ঘটনা। সেখানে এক কর্মরত রেঞ্জারের সঙ্গে রীতিমতো কেত মেরে পোজ দিয়ে ছবি তুলেছে দুজন। ভিরুনগা ন্যাশনাল পার্কের সেনউইকউই সেন্টারে দুজন কর্মী আছেন, যাদের নাম ম্যাথু আর প্যাট্রিক। আর এই দুজন কর্মীর সঙ্গেই সেলফি তোলায় মত্ত হয়েছে এই দুটি গোরিলা। এরা দুজনেই দত্তক নেওয়া গোরিলা। এদের নাম দাকাজি ও দেজে। এই ছবি পোস্ট করা মাত্রই যখন ভাইরাল হয়ে যায় তখন এই ছবি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন এই ছবি আসল কিনা? অর্থাৎ আলাদা করে ম্যাথু ও প্যাট্রিকের ছবির সঙ্গে ফটোশপ করে দাকাজি আর দেজের ছবি জোড়া হয়েছে কিনা? আজকের এই প্রযুক্তির যুগে এরকম নকল ছবি তৈরি করা কোনও ব্যাপারই নয়। যেমন কিছুদিন আগেই হাতে হাওয়াই চটি নিয়ে একটি সেলফি তুলতে দেখা গিয়েছিল কয়েকটি বাচ্চাকে। সেই ছবিটিও ভাইরাল হয়। যদিও অমিতাভ বচ্চন মন্তব্য করেছিলেন যে বাচ্চাটির হাতে চটি রয়েছে সেটা অনেক বড়, সুতরাং এটা কেউ আলাদা করে যুক্ত করেছে। বিগবির ধারণা অমূলক ছিল না।



সুতরাং কঙ্গোর এই অভয়ারণ্যের দুই গরিলার সেলফি যে আসল সেই প্রশ্ন মনে জাগতেই পারে। কিন্তু এই পার্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে ছবিটি একদম খাঁটি। এখানে দাকাজি আর দেজে সত্যিই দাঁড়িয়ে সেলফি তুলেছে। আসলে হঠাৎ করে এই মজা করার সুযোগ ছাড়তে পারেনি দাকাজি আর দেজে। এমনিতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী ছাড়া গোরিলাদের কাছে কাউকে যেতে দেওয়া হয় না। তাছাড়া গোরিলারা চার পায়ে হাঁটাচলা করে। সেক্ষেত্রে দেখতে গেলে এই ছবি ব্যতিক্রমী কারণ এখানে দাকাজি আর দেজে দু’পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। ছোট থেকেই ওরা আলাদা থাকে। কর্মীরা আলাদা করে ওর যত্ন নেয়।


আমরা সবাই জানি হাজার হাজার বছর আগে আদিম মানুষও বানরের পর্যায়ে ছিল। তারা চার পায়ে হাঁটত, কথা বলতে পারতনা। সেখান থেকেই মানুষের সৃষ্টি হয়েছে বিবর্তনবাদের মাধ্যমে। গোরিলা আর শিম্পাঞ্জির সঙ্গেও মানুষের অনেক মিল পাওয়া যায়। আমাদের আলিপুর চিড়িয়াখানায় অসম্ভব জনপ্রিয় শিম্পাঞ্জি হল বাবু। যে কিনা নকল করতে ওস্তাদ। আবার হাতে তুলি নিয়ে রীতিমতো ক্যানভাসে ছবিও আঁকতে দেখা গিয়েছিল্ল এক শিম্পাঞ্জিকে।


ভিরুনগা ন্যাশনাল পার্কের ডেপুটি ডাইরেক্টর ইনোসেন্ট এমবুরানামবুয়ের বক্তব্য এই দুই গোরিলা সেনা জওয়ানের মতো এই ছবি তুলেছে। আসলে গোরিলারা খুব কৌতূহলী স্বভাবের হয়। কেউ কিছু করলেই তারা দাঁড়িয়ে পড়ে দেখার জন্য, এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!