ট্যালেন্ট ছিল, তাই সুযোগ দিয়েছি, রানুর 'তেরি মেরি কহানি' রিলিজে বললেন হিমেশ

ট্যালেন্ট ছিল, তাই সুযোগ দিয়েছি, রানুর 'তেরি মেরি কহানি' রিলিজে বললেন হিমেশ

বুধবার দুপুর একটা। জুহু পিভিআর। গেটের সামনে মিডিয়ার ভিড়। তিনি আসবেন। তিনি অর্থাৎ? গায়ক, সঙ্গীত পরিচালক তথা নায়ক হিমেশ (Himesh) রেশমিয়া। তিনি একা আসবেন না। সঙ্গে নিয়ে আসবেন সোশ্যাল মিডিয়ার নয়া সেনসেশন রানু (Ranu) মণ্ডলকে। নিজের ছবি 'হ্যাপি হার্ডি অ্যান্ড হীর'-এ রানুকে দিয়ে প্লেব্যাক করিয়েছেন হিমেশ। রানুর গাওয়া 'তেরি মেরি কহানি'র ঝলক এর আগেই দেখেছেন সোশ্যাল অডিয়েন্স। এদিন ছিল সেই গানেরই আনুষ্ঠানিক প্রকাশ।

নির্ধারিত সময়ের ৫০ মিনিট পরে হিমেশ ঢুকলেন। গোটা হল জুড়ে আওয়াজ উঠল, 'এইচআর লাভ ইউ'। হাত জোড় করে প্রণাম করলেন। তারপর গিয়ে বসলেন নির্দিষ্ট আসনে। পাশেই রানু। হলভর্তি মিডিয়ার দিকে অবাক হয়ে তাকাচ্ছেন। বিশ্বাসই হচ্ছে না, এতো লোক তাঁর জন্য এসেছে? 

শুরু থেকেই গোটা অনুষ্ঠানের কন্ট্রোল নিজের হাতে নিয়ে নিলেন হিমেশ। শুধু গান (Song) নয়, এখন অভিনয়ও তাঁর প্রায়োরিটি। আর এসবের জন্য ক্রেডিট দিলেন বাবা এবং নিজের স্ত্রী সোনিয়াকে। এই ছবির গল্প, স্ক্রিনপ্লে এবং কস্টিউম ডিজাইনের দায়িত্ব সামলেছেন সোনিয়া। হিমেশের পাশে বসে তখন লাজুক হাসছেন তিনি।

এদিনের মূল আকর্ষণ ছিলেন রানু। তাঁর গান যখন বড়পর্দায় দেখানো হচ্ছে একেবারে প্রথম সারিতে বসে নিজেও গুনগুন করে গাইতে শুরু করেন। আর হিমেশ এসে বসেন মিডিয়ার সঙ্গে। হঠাৎ রানুকে এই সুযোগ দিলেন কেন? প্রশ্ন শুনে প্রথমে হাসলেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, "দেখুন, আমাকেও তো কেউ না কেউ সুযোগ দিয়েছিলেন। সেজন্যই তো আজ আমি এখানে। ট্যালেন্ট থাকলে কেন সুযোগ দেব না, বলুন তো? রানুদির গড গিফ্টেড ট্যালেন্ট। সেলিম স্যার, সলমন ভাইও সব সময় নতুন ট্যালেন্টদের সুযোগ দিতে বলেন। প্রথম যখন আমাদের শো-এ গান গাইতে এসেছিলেন রানুজি, সেটা শুনেই মন থেকেই একটা তাগিদ অনুভব করলাম। ভাবলাম, এমনিতেই যিনি এমন গাইছেন, কোনও সাপোর্ট ছাড়া, তাহলে রেকর্ড করালে তো আরও ভাল হবে। আমি চেষ্টা করেছি। সকলে সাহায্য করেছেন। আর রেজাল্ট দেখুন। ছবি রিলিজের আগেই গান হিট। এখন কিন্তু এটা হয় না। কারণ আগে ট্রেলার রিলিজ হয়ে যায়। আপনাদের সাপোর্ট আর জনতার আশীর্বাদ ছাড়া এটা সম্ভব হত না।"

 

রানাঘাট স্টেশনে গান গাইতেন রানু। তাঁর গাওয়া 'প্যায়ার কা নাগমা হ্যায়' রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন এক পথচারী। তারপরই তা ভাইরাল। মুম্বইতে গান গাওয়ার সুযোগ পান তিনি। বদলে যায় চেনা জীবনের চালচিত্র। কিন্তু রানু কখনও প্রফেশনালি গান শেখেননি। অথচ হিমেশ তাঁকে নিয়ে ডুয়েট গাইলেন। কতটা কঠিন ছিল, রানুকে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো শেখানো? হিমেশ শেয়ার করলেন, "প্রথম গানটা রেকর্ড করার সময় সমস্যা হয়েছিল। কারণ রানুজি কখনও রেকর্ড করেননি আগে। হেডফোনের সঙ্গে কানেকশনটা বুঝতে পারছিলেন না। সেটা সলভ হল। তারপর দ্বিতীয় গানে আর একটু কম সময় লাগল। ফোর্থ গানটা রেকর্ডের সময় প্রফেশনালিই করেছি আমরা। পরে একটি চেঞ্জ করেছিলাম। সেটার জন্য আমি স্টুডিওতে যাইনি। রেকর্ডিস্টদের কাছে ওকে একাই পাঠিয়েছিলাম। দারুণ ভাবে করেছেন।"

আর রানু? যাঁর ওপরে আজ সব প্রচারের আলো রয়েছে? আগাগোড়া সকলকে ধন্যবাদ দিলেন। "ভগবানের আশীর্বাদ রয়েছে বলে আমি এই সুযোগ পেলাম। হিমেশজির মধ্যে ভগবান রয়েছেন। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।" পাশে বসে হিমেশের তখন চোখে জল। আর তা মুছিয়ে দিলেন সোনিয়া।

আপনি কি ফিরোজ খানের বাড়িতে ছিলেন? আপনাকে দেখে অনেকে ইন্সপায়ার হন, তাঁদের কিছু বলবেন? আপনি কি কারও কাছে গান শিখেছেন? এত প্রশ্নের ভিড়ে কিছুটা থতমত রানু। ঠিক তখনই ব্যাটন হাতে তুলে নিলেন হিমেশ। স্পষ্ট বললেন, "আপনাদের সঙ্গে রানুদির প্রথম দেখা হচ্ছে। ঘাবড়ে গিয়েছেন একটু।" খালি গলায় 'তেরি মেরি কহানি' গেয়ে উঠলেন রানু। তারপর হিমেশও গান শোনালেন। শুধু তাই নয়, মিডিয়ার সকলকেও গলা মেলাতে অনুরোধ করলেন তাঁর সঙ্গে। 

মিউজিক নিয়ে ছোটবেলা কেটেছে। টিভি সিরিয়াল প্রোডিউসার হিসেবে শুরু করেছিলেন কেরিয়ার। এখন তিনি অভিনেতাও। অভিনেতা হতে গেলে যতটা পরিশ্রম করতে হয়, তা তিনি শুরু করে দিয়েছেন। স্পষ্ট জানালেন হিমেশ। পাশাপাশি রানুর মতো নতুন ট্যালেন্টদের হাত ধরতেও তিনি বদ্ধপরিকর তা জানিয়ে দিলেন স্পষ্ট করে। 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!