লকডাউনে অনেকেরই রোজগার বন্ধ - এই অবস্থায় কীভাবে খরচ সামলে উঠবেন

লকডাউনে অনেকেরই রোজগার বন্ধ - এই অবস্থায় কীভাবে খরচ সামলে উঠবেন

টাকা ছাড়া বাঁচা যায়? – ঠিক এই প্রশ্নটা এই মুহূর্তে অনেকের মাথায় ঘুরছে। করোনা ভাইরাস (coronavirus), বিলম্বিত লকডাউন (lockdown), পে-কাট আবার কারও কারও চাকরি চলে গিয়েছে বা ব্যবসা বন্ধ – মোট কথা সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক টানাটানি চলছে। এরকম পরিস্থিতিতে এই প্রশ্নটি মাথায় আসা সত্যিই খুব স্বাভাবিক। টাকা ছাড়া বাঁচা যায় কি না এই প্রশ্নের উত্তর একটা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-তে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে হ্যাঁ, এটুকু বলতে পারি যে অর্থনৈতিক সংকটের মোকাবিলা করা কীভাবে কিছুটা হলেও সম্ভব।

আগেই বললাম যে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে গিয়ে যে লকডাউন (lockdown) সারা দেশে জারি করা হয়েছে এবং তা ক্রমাগত বিলম্বিত হচ্ছে, এর ফলে সারা বিশ্বে তো আর্থিক মন্দা দেখা দিচ্ছেই, সঙ্গে এই সমস্যার কোপ পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর। আপনি দু-তিন মাস আগেও যে পরিমাণে রোজগার করতেন, এখন ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যাদের আর চাকরি নেই এই মুহূর্তে, ফলস্বরূপ রোজগারও নেই। কিন্তু তা বলে তো আর বেঁচে থাকা বন্ধ হয় না! ঠিক কীভাবে এই পরিস্থিতি কিছুটা হলেও সামাল দেবেন? বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে কিছু কিছু টিপস আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম, হয়ত আপনাদের কাজে লাগলেও লাগতে পারে।

এই অর্থনৈতিক সংকটের মোকাবিলা করতে গেলে প্রথমেই প্ল্যানিং করা জরুরি (ছবি - শাটারস্টকের সৌজন্যে)

১। প্রথমেই মানসিকভাবে নিজে প্রস্তুত হোন এবং পরিবারের বাকি সদস্যদেরও প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ করুন। এই অর্থনৈতিক সংকটের মোকাবিলা করতে গেলে প্রথমেই প্ল্যানিং করা জরুরি। আপনার যদি কিছুটা সঞ্চয় থাকে, এই মুহূর্তে আর কোনও উপায় নেই, সেখান থেকে কিছু টাকা তুলতে হবে।

২। প্রতিটি সংসারেরই একটা সাংসারিক খরচের (expense) বাজেট থাকে। আপনার সাংসারিক খরচের বাজেট নিয়ে আরও একবার পরিবারের সবাই মিলে বসুন এবং এক জায়গায় নোট করে নিন কোন কোন খাতে খরচ করতেই হবে। যেমন মাসকাবারি বাজার, দৈনন্দিন বাজার এবং আরও অন্যান্য খরচের একটা মোটামুটি খসরা তৈরি করে নিন। এবারে দেখুন কোন কোন খরচগুলো এই মুহূর্তে না করলেও তেমন কোনও সমস্যা হবে না। সেগুলোকে বাদ দিয়ে দিন।

৩। এমন কিছু কিছু খরচ থাকে, যেগুলো আপনি চাইলেও বাদ দিতে পারবেন না। আপনি হয়তো সপ্তাহে রোজ মাছ না খেয়ে একদিন বা দু’দিন মাছ খেলেন অথবা পরিমাণে কম খেলেন; কিন্তু আপনি তো চাইলেই দুটো জরুরি ওষুধের বদলে আধখানা ট্যাবলেট খেতে পারবেন না! সেদিকেও একটু বাজেটের হিসেব করে নেবেন।

৪। অনেকেই বাড়ি থেকে দূরে থাকেন। যদি এমন হয় যে রোজগার বন্ধ হয়ে গিয়েছে আর আপনি এখনও বাড়ি থেকে দূরে রয়েছেন সেক্ষেত্রে আপনাকে বাড়িভাড়া থেকে শুরু করে খাওয়ার খরচ, বিদ্যুতের খরচ এবং আরও নানা আনুষঙ্গিক খরচ করতেই হচ্ছে। লকডাউন শেষ হলেই যে চাকরি পাবেন সঙ্গে সঙ্গে তা তো নয়, কাজেই এক কাজ করতে পারেন, কিছুদিনের জন্য বাড়ি ফিরে আসুন এবং সেখান থেকেই নতুন চাকরির চেষ্টা করুন। এতে অন্তত আপনার একটা আলাদা সংসারের খরচ বাঁচবে।

৫। নতুন চাকরির জন্য কাকে বলবেন, কোথায় খুঁজবেন এসব যদি ভাবেন, তাহলে বলি, আপনার সবচেয়ে বড় বন্ধু, যার সঙ্গে আপনি দিনের সিংহভাগ সময় কাটান অর্থাৎ ইন্টারনেট – সেখানে খুঁজুন। নানা অনলাইন জব পোর্টাল রয়েছে, নানা প্রফেশনাল নেটওয়ারকিং প্ল্যাটফর্ম রয়েছে – সেখানে চাকরির আবেদন করুন।

POPxo এখন চারটে ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!