ইউনেস্কো থেকে এবার 'সাহিত্যের শহর' সম্মান পেতে পারে কলকাতা! আমরা গর্বিত

ইউনেস্কো থেকে এবার 'সাহিত্যের শহর' সম্মান পেতে পারে কলকাতা! আমরা গর্বিত

কবীর সুমন গেয়েছিলেন, "এই শহর জানে আমার প্রথম সব কিছু।" সত্যি আমাদের শিরায় শিরায় মিশে আছে 'সিটি অফ জয়' কলকাতা। রবীন্দ্রনাথ তো মাথার উপরে আছেনই, তা ছাড়াও এই শহরে জন্মগ্রহণ করেছেন নামজাদা সাহিত্যিক ও কবিরা। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, বিমল কর, বিমল মিত্র, আশাপূর্ণা দেবী, মহাশ্বেতা দেবী, সুনীল গঙ্গোপাধ্য়ায়, বুদ্ধদেব বসু, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়... এই তালিকা শেষ হওয়ার নয়। রয়েছেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত, সুকান্ত ভট্টাচার্য, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মতো কবিও। এই শহরের অলিগলিতে আজও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বড় বড় কবি সাহিত্যিকদের বাড়ি, আড্ডা দেওয়ার জায়গা। আর সেই জন্যই ইউনেস্কোর উদ্যোগে 'সিটি অব লিটারেচার' (city of literature) বা 'সাহিত্যের শহর' নামকরণ হতে পারে কলকাতার। তবে এই সম্মান পেতে গেলে একটি শহরের পুরসভাকে চিঠি পাঠাতে হয় ইউনেস্কোর (UNESCO) কাছে। আর সেই জন্যই কলকাতার (Kolkata) মহামান্য মেয়র ফিরহাদ হাকিম ববির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।   

এই চিঠিতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সব দিক থেকে বিচার করে দেখা গিয়েছে যে, ভারতের সব শহরের মধ্যে কলকাতাই এই বিশেষ সম্মান পাওয়ার যোগ্য। চিঠির সঙ্গে একটি আবেদনপত্রও পাঠিয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। এই আবেদনপত্র পূরণ করে কলকাতা পুরসভাকে পাঠাতে হবে ইউনেস্কোর কাছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই আবেদনপত্র পাঠাতে হবে পুরসভাকে। 

চিঠি পেয়ে উচ্ছ্বসিত মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানিয়েছেন, এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয়। কলকাতা যদি 'সিটি অব লিটারেচার' বা 'সাহিত্যের শহর' হয় তাহলে শুধু কলকাতা নয় গোটা পশ্চিমবঙ্গের কাছে সেটা অত্যন্ত গৌরবের। এই বিষয়ে দিল্লিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলতে বিশেষ পুর কমিশনার তাপস চৌধুরীকে পাঠিয়েছেন তিনি। মেয়র আশা রাখছেন যে, কলকাতা যদি এই সম্মান পায়, তা হলে বিশ্বের দরবারে কলকাতার সুনাম ছড়িয়ে পড়বে। মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে 'বিশ্ব বাংলা' স্লোগান আছে, সেটিই এক্ষেত্রে সার্থক হবে বলে পুরসভার কর্মীরা মনে করছেন। মেয়র আরও আশা রাখছেন যে, যদি কলকাতা 'সিটি অব লিটারেচার' নাম পরিচিত হয় তা হলে ইউনেস্কোর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কাজকর্মেও কলকাতাকে যুক্ত করা হবে। ফলে কলকাতা সত্যিই বিশ্বজনীন হয়ে উঠবে!

সাড়া বিশ্বে মাত্র ২৮টি শহর এই 'সিটি অব লিটারেচার' হওয়ার সম্মান পেয়েছে। প্রথমবার এই সম্মান পেয়েছিল ইংল্যান্ডের এডিনবরা শহর। এশিয়ার মধ্যে এই বিরল সম্মান পেয়েছে একমাত্র একটি শহর আর সেটি হল বাগদাদ। যদি কলকাতা এই সম্মান পায়, তা হলে সেটা দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম শহর হবে। 

আপাতত সব আইনি বিষয় সম্পূর্ণ করতে কোমর বেঁধে লেগেছে কলকাতা পুরসভা। এর ফল ঘোষণা হবে নভেম্বর মাসে। তার পরেই বোঝা যাবে যে 'সিটি অফ জয়' কে আমরা 'সিটি অফ লিটারেচার' বলতে পারি কিনা! 

মূল ছবি সৌজন্য : ইনস্টাগ্রাম

 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!


আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!