আর্চারিতে ওয়ার্ল্ড টাইটেল জিতে নজির গড়লেন সপ্তদশী কমলিকা বারি

আর্চারিতে ওয়ার্ল্ড টাইটেল জিতে নজির গড়লেন সপ্তদশী কমলিকা বারি

পি ভি সিন্ধুকে নিয়ে দেশময় চলছে হইচই আর আনন্দ উদযাপন। এই খুশির মুহূর্তেই আরও একটি স্বর্ণপদক সহ আর্চারিতে (archery) ওয়ার্ল্ড (world) টাইটেল জিতে লক্ষ্যভেদ করলেন সতেরো বছরের কমলিকা বারি (Komalika Bari)। ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ আর্চারি ও ক্যাডেট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৯ এ এই খেতাব (title) তিনি জিতেছেন। সিন্ধুর ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খবর যখন আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে সেই সময় এই সুখবর আসে। তবে এর মধ্যে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাও আছে। এর পরে ভারত থেকে আর কেউ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। ওয়ার্ল্ড আর্চারি ফেডারেশানের সঙ্গে এএআই বা দ্য আর্চারি অ্যাসোশিয়েশান অব ইন্ডিয়ার কিছু সমস্যা হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন এরকম চললে ভারতীয় আর্চারদের কেরিয়ারে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই ওয়ার্ল্ড আর্চারি ফেডারেশান সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে খুব শীঘ্র তাঁরা এই সমস্যা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করবেন। মাদ্রিদে এই প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়েছে আর সেখানেই সাফল্য লাভ করেছেন কমলিকা। সংবাদমাধ্যমকে কমলিকা জানিয়েছেন যে তিনি এই সাফল্যে অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ তিনি সাফল্য লাভ করেছেন। তবে এই সাফল্যের রাস্তা একেবারেই সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন এই কিশোরী। নিজের পাঁচজন কোচ যথা সুশান্ত পাত্র, ধরমেন্দ্র তিওয়ারি, পূর্ণিমা মাহাতো, অনিল কুমার ও বিকাশ উপাধ্যায়কে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি এও বলেছেন যে আজ যে খ্যাতির শিখরে তিনি পৌঁছতে পেরেছেন সেটা সম্ভব হয়েছে এই পাঁচ জনের জন্যই। এমনিতেই ভারতীয় মহিলাদের অ্যাথলেটিক্সে খুব একটা উৎসাহ পরিবার থেকে দেওয়া হয় না। কোনও মেয়ে যদি তাঁর বাবা অথবা মাকে জানায় যে সে পড়াশোনা নয় খেলাধূলার জগতকেই বেছে নিতে চায়, অনেকেই সেটা ভাল চোখে দেখে না। সৌভাগ্যবশত কমলিকার বাবা ও মা দু'জনেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেক কষ্ট সহ্য করে এবং আত্মীয় স্বজনদের বাঁকা ভুরু উপেক্ষা করে কমলিকার স্বপ্ন তাঁরা সফল করতে পেরেছেন। পিভি সিন্ধুর কথা দিয়ে এই লেখা শুরু করলাম ঠিক কথা, কিন্তু এই বছর ভারতের অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে এক স্বর্ণময় অধ্যায়। হিমা দাস, দ্যুতি চাঁদ এঁরা প্রত্যেকেই সোনা নিয়ে এসেছেন।    

instagram

জাপানের ওয়াকা সানোদাকে হারিয়েছেন কমলিকা। প্রতিদিন ১৮ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে টাটা আর্চারি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে যেতেন তিনি। একটি সামার ক্যাম্প চলাকালীন কমলিকার এই প্রতিভার খোঁজ পান কোচ সুশান্ত পাত্র। আর সেই জন্য সুশান্ত স্যারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ কমলিকা। পাঁচ জন কোচের পাশাপাশি নিজের বাবা ও মা ঘনশ্যাম বারি ও লক্ষ্মী বারিকেও ধন্যবাদ দিয়েছেন তিনি। বাবা-মা যে তাঁর উপর আস্থা রাখতে পেরেছেন তাতে গর্বিত এই সোনার মেয়ে। কমলিকার আগে ২০১০ সালে কমনওয়েলথ গেমসে দীপিকা কুমারী এই ওয়ার্ল্ড টাইটেল জিতেছিলেন। 

 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!
আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!