Makeup ছাড়াই এখন এই এয়ারলাইনের বিমান সেবিকারা আকাশে উড়তে পারবেন

Makeup ছাড়াই এখন এই এয়ারলাইনের বিমান সেবিকারা আকাশে উড়তে পারবেন

এয়ার হোস্টেস বা বিমান সেবিকা  – এমন একটা গ্ল্যামারাস পেশা যেখানে মেকআপ করাটা যে কোনও কেবিন-ক্রু-এর দৈনন্দিন রুটিনের মধ্যে পড়ে। কী সুন্দর করে সেজে, ঠোঁটে মিষ্টি একটা হাসি নিয়ে একজন বিমান সেবিকা তাঁর কাজ করেন, সারাদিন ধরে। কতই না দারুণ দারুণ সব জায়গায় তিনি ঘুরতে পারেন, আর তাও আবার বিনে পয়সায়! তবে কী জানেন তো, বাইরে থেকে পেশাটাকে এতটা গ্ল্যামারাস বলে মনে হলেও কিন্তু একজন বিমান সেবিকাই জানেন যে এই পেশায় ভালোর সাথে সাথে অনেক হাড়ভাঙ্গা খাটুনি আর পরিশ্রম রয়েছে, যেটা আমরা সাধারণ মানুষরা বাইরে থেকে বুঝতে পারি না। ঘুমের ঘাটতি থেকে আরম্ভ করে অকৃতজ্ঞ কোনও যাত্রীর খারাপ ব্যবহার সহ্য করা – সবই সইতে হয়, তাও হাসিমুখে এবং সেটাও দিনের পর দিন!


makeup-is-now-optional-for-the-female-cabin-crew-of-this-airline 01তবে, ভার্জিন অ্যাটলান্টিক নামক বিমানসংস্থা বিমান সেবিকাদের এই চাপ থেকে খানিকটা হলেও মুক্তি দিয়েছে। সৌন্দর্যের মাপকাঠি তারা শুধুমাত্র মেকআপেই সীমাবদ্ধ করে রাখেননি এবং কোনও বিমান সেবিকা মেকআপ করবেন কী করবেন না, সেটা তাঁর ওপরে ছেড়ে দিয়েছে। সোজা ভাষায় বলতে গেলে এখন আর ভার্জিন অ্যাটলান্টিকের বিমান সেবিকাদেরকে অন-ডিউটি মেকআপ না করলেও চলবে। এছাড়াও বিমান সেবিকারা স্কার্ট-এর বদলে চাইলে ইউনিফরম হিসেবে প্যান্টস পরতে পারবেন বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় একজন মেয়ের পক্ষে জীবন অনেকটা সহজ হবে বলে কি আপনার মনে হয়না?


সূত্রের খবর অনুযায়ী ভার্জিন অ্যাটলান্টিক তাদের কর্মচারীদের ফিডব্যাকের ওপরে ভিত্তি করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


এই বিমান সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্ক অ্যান্ডারসনের বক্তব্য অনুযায়ী, “আমরা চাই যে আমাদের কর্মচারীদের ইউনিফর্ম দেখলে যেন আমাদের ব্র্যান্ড সম্বন্ধে সকলের একটা ধারণা তৈরি হয়, কিন্তু তা কোনোভাবেই যেন আমাদের কর্মচারীদের ব্যক্তিস্বত্বাকে ক্ষুণ্ণ না করে, সেটাও আমাদের নজরে রয়েছে। আমাদের কর্মচারীদের বক্তব্য আমরা শুনেছি এবং তারপরেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। আমরা আমাদের স্টাইলিং এবং গ্রুমিং পলিসিতে কিছু পরিবর্তন করেছি আমাদের লোকেদের কথা মাথায় রেখে। যাতে আমাদের কর্মচারীদের কোনোরকম সমস্যা না হয় এবং তারা কাজের সময় কমফোর্টেবল বোধ করেন সেদিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।”


makeup-is-now-optional-for-the-female-cabin-crew-of-this-airline 02মনে হচ্ছে ভার্জিন অ্যাটলান্টিক-এর এই সিদ্ধান্ত গোটা বিমান পরিষেবা ইন্ডাস্ট্রিতেই একটা নতুন ট্রেন্ড সেট করবে, কারণ বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রে বিমান সেবিকাদের জন্য এরকম একটা আয়োজন এই প্রথমবার কেউ করল। এমিরেটস-এর বিমান সেবিকাদের জন্য নাকি ‘সেভেন স্টেপ মেকআপ গাইড’ আছে, আবার অন্যদিকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ-এর বিমান সেবিকাদের পরিস্কার আইব্রো, ব্লাশ এবং লিপস্টিক লাগানোটা বাধ্যতামূলক। বেশিরভাগ বিমানসংস্থাতেই ‘How To Apply Makeup Guide’ দিয়ে দেওয়া হয় তাদের মহিলা কেবিন-ক্রু দেরকে। সেক্ষেত্রে এই বিমানসংস্থার এই পদক্ষেপ একটা মাইলস্টোন।


শুধু বিমানসংস্থাতেই না, যে কোন ইন্ডাস্ট্রিতেই মহিলাদের নিজেদের ব্যক্তিগত পছন্দ এবং স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর ভিত্তি করে পোশাক পরার অধিকার আছে বলে আমাদের মনে হয় এবং আশা করি সেই দিনটি আমরা সকলেই খুব শিঘ্র দেখতে পাবো।


ছবি সৌজন্যে - Instagram 


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!