এই রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে নবরাত্রি, জেনে নিন এই ন' দিনের ন' জন দেবীর গল্প ও মাহাত্ম্য

এই রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে নবরাত্রি, জেনে নিন এই ন' দিনের ন' জন দেবীর গল্প ও মাহাত্ম্য

দেখুন ভাই, সত্যি কথা বলতে গেলে, আশ্বিনের শারদপ্রাতে আমাদের কানে ঢাকের বাদ্যি ছাড়া কিচ্ছুটি ঢোকে না! আর যতই আপনি বলুন না যে, পিতৃপক্ষই হল আসল, আর মাতৃপক্ষ বলে আসলে কিছু নেই, আমরা, মানে বাঙালিরা মোটেও সেসব বিশ্বাস করি না! ইশ, বললেই হল...সেই ছোট্টবেলা থেকে মহালয়ার অনুষ্ঠান শুরু করার আগে দূরদর্শন কেন্দ্র কলকাতার ঘোষক গম্ভীর গলায় বলতেন যে, আজ মহালয়া, আজ পিতৃপক্ষের অবসান আর মাতৃপক্ষের শুরু...তখন থেকে জেনে আসছি, ব্যস, আর কোনওমতে তিন-চারটে দিন কাটিয়ে দিতে পারলেই কেল্লা ফতে! পড়াশোনা নেই, বাড়ি ফেরার তাড়া নেই, মায়ের কাছে বকুনি নেই, বাবার চোখরাঙানি নেই, আছে শুধু অফুরন্ত মজা, দুষ্টুমি, নতুন জামা আর দেদার ঠাকুর দেখা!

তাই বাঙালিকে যদি বলতে যান যে, বোনটি মহালয়ার পরের দিন থেকে নবরাত্রি (Navratri) শুরু হচ্ছে, তারা বেজায় রেগে যায়! খুব বেশি হলে দশমী, মানে দশেরার দিনটিতে পাড়ার ঠাকুর চলে গেলে, চোখ মুছতে-মুছতে, বড়দের প্রণামটুকু সেরে নিয়ে টিভির সামনে বসে দু'-একটা রাবণ পোড়ানো দেখতে পারি আমরা, কিন্তু কিছুতেই দুর্গা পুজো (Durga Puja) আর নবরাত্রিকে এক আসনে বসাতে পারব না! মোটেও না!

অবশ্য আলাদা করে বসানোর দরকারও নেই! কারণ, হিন্দু পুরাণ সেই কাজটি গোড়াতেই করে রেখেছে। নবরাত্রি মানে শুধু ফাল্গুনী পাঠকের গানের তালে আয়না বসানো ঘাঘরা-চোলি পরে 'ঢোলি তারো ঢোল বাজে' বলে নাচানাচি নয়, ওটা জেনারেল নলেজের ভুল! আসলে নবরাত্রিতে তামাম ভারতবাসী সেই দুর্গা মায়েরই পুজো করে, শুধু ধরনটা অন্যরকম এই যা! সেখানে মা কখনও সিংহের উপরে বসেন, কখনও বা বাঘের উপর। কিন্তু তাঁর কাজ সেই দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনই থাকে। তাই আজ, মহালয়ার প্রাক্কালে চলুন শুনে নেওয়া যাক অন্যরকম ভাবে দুর্গা পুজো পালনের ইতিবৃত্তান্ত (Facts & myths)। 

নবরাত্রিতে নবদুর্গা

Instagram

প্রথমং শৈলপুত্রী চ দ্বিতীয়ম ব্রহ্মচারিণী।

তৃতীয়ং চন্দ্রঘণ্টেতি কুষ্মাণ্ডেতি চতুর্থকং॥

পঞ্চমং স্কন্দমাতেতি, ষষ্ঠমং কাত্যায়নীতি চ।

সপ্তমং কালরাত্রিতি, মহাগৌরীতি চাষ্টমং॥

নবমং সিদ্ধিদাত্রী চ নবদুর্গা প্রকীর্তিতাঃ॥

 

এটিই হচ্ছে সংস্কৃতে নবদুর্গা বর্ণনাকারী শ্লোকটি। মহালয়া পড়ে অমাবস্যায়। আর তার পরের প্রতিপদ থেকে শুরু করে নবমী পর্যন্ত নটি তিথিতে মা দুর্গা পূজিত হন নটি আলাদা-আলাদা রূপে। এরই পোশাকি নাম শারদীয়া নবরাত্রি। শারদীয়া, কারণ, এই নবরাত্রি পালিত হয় শরৎকালে। এ ছাড়া রামনবমীর সময় আরও একটি নবরাত্রি পালিত হয়, কিন্তু সেই গল্প তখনকার জন্যই তোলা থাক। মহিষাসুরের দমনের জন্য ন'দিন ন'টি রূপে আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী। এই ন'টি রূপের সঙ্গে জড়িত আছে আলাদা-আলাদা গল্প। 

শৈলপুত্রী (পূজিতা হন প্রতিপদ তিথিতে): দক্ষকন্যা সতী পার্বতীরূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শৈল, অর্থাৎ হিমালয়ের কন্যা তিনি, তাই তাঁর অপর নাম শৈলপুত্রী। নবরাত্রির প্রথম দিনে এই শৈলপুত্রীরই পুজো করা হয়। 

ব্রহ্মচারিণী (পূজিতা হন দ্বিতীয়া তিথিতে): নারদের কাছ থেকে দেবী শৈলপুত্রী জানতে পারেন যে, শিবই পূর্বজন্মে তাঁর স্বামী ছিলেন, যাঁর অপমান সইতে না পেরে দক্ষকন্যা সতী আত্মহত্যা করেন! জানামাত্র, শিবকে এই জন্মেও স্বামীরূপে পাওয়ার জন্য শৈলপুত্রী তপস্যা শুরু করেন ব্রহ্মচারিণী রূপে।

চন্দ্রঘণ্টা (পূজিতা হন তৃতীয়া তিথিতে): অবশেষে মহাদেব তুষ্ট হন ব্রহ্মচারিণীর তপস্যায়! তাঁর বিবাহ স্থির হয় পার্বতীর সঙ্গে। কিন্তু বিবাহের দিন তাঁর বৈবাহিক শোভাযাত্রায় ভিড় জমায় ভূত-পিশাচ, অদ্ভুতদর্শন জন্তু-জানোয়ারের দল, মহাদেব নিজেও সেদিন ভস্ম মেখে উপস্থিত! এহেন বর দেখে হিমালয়ের অন্দরমহলে হাহাকার পড়ে যায়! স্বামীকে যাতে তাঁর পাশে বেমানান না লাগে তাই পার্বতী ধারণ করেন চন্দ্রঘণ্টার রূপ! তাঁর সারা দেহেও ভস্ম, আর শিরোদেশে একফালি চাঁদ, ঠিক তাঁর স্বামীর মতো!

কুষ্মাণ্ডা (পূজিতা হন চতুর্থী তিথিতে): দেবীর এই রূপটি বড় মধুর হাসিতে ভরা। হাসি দিয়েই ছড়িয়ে পড়ছে আলো, যা কালোয় ছেয়ে থাকা এই জগতের রূপ দিচ্ছে পাল্টে। সংস্কৃতে কু শব্দটির মানে অল্প, উষ্মা মানে এনার্জি আর অণ্ড মানে ডিম! মানে, ছোট্ট একটি এনার্জির বলয় দেবী তৈরি করছেন তাঁর হাসির মাধ্যমে, যেটি থেকেই তৈরি হবে এই মানবসমাজ! 

স্কন্দমাতা (পূজিতা হন পঞ্চমী তিথিতে): দেবীর মাতৃরূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এই স্কন্দমাতার মধ্যে। স্কন্দ, অর্থাৎ কার্তিক, দেব সেনাপতি, শিব-পার্বতীর প্রথম সন্তান। কোলে ছোট্ট কার্তিককে নিয়ে দেবী বসে থাকেন পদ্মাসনে, পূজিতা হন এই রূপেই।

কাত্যায়নী (পূজিতা হন ষষ্ঠী তিথিতে): ঋষি কাত্যায়নের কন্যারূপী দেবী এদিন পূজিতা হন কাত্যায়নী নামে ও রূপে। দেবীর চার হাত, দুই হাতে থাকে তলোয়ার ও পদ্ম, এক হাতে বরাভয় মুদ্রা ও অন্য হাতটি থাকে আশীর্বাদী রূপে। 

কালরাত্রি (পূজিতা হন সপ্তমী তিথিতে): এঁকে আপনি কালরাত্রিই বলুন বা কালী, এঁর মহিমা একটু কম হবে না। চণ্ড-মুণ্ডের সমাপ্তি ঘটিয়ে এই ভয়ংকরী দেবী আবার চামুণ্ডা নামেও পরিচিতা। 

মহাগৌরী (পূজিতা হন অষ্টমী তিথিতে): কালরাত্রি হিসেবে চণ্ড-মুণ্ডের বিনাশ করলেন বটে, কিন্তু মহাদেব পার্বতীকে নিয়ে ঠাট্টা শুরু করলেন তাঁর গায়ের রং রাত্রির মতো কালো বলে! গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে স্বয়ং ব্রহ্মার কাছে পরামর্শ চাইলেন দেবী। ব্রহ্মা তাঁকে উপদেশ দিলেন মানস সরোবরের জলে স্নান করতে। সেই পবিত্র জলে স্নান করে দেবী হয়ে উঠলেন দুধসাদা মহাগৌরী!

সিদ্ধিদাত্রী (পূজিতা হন নবমী তিথিতে): স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব যাঁর আরাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন, তিনিই দেবী সিদ্ধিদাত্রী। নবরাত্রির নবম দিনটিতে এঁর পূজা করা হয় মঙ্গলকামনা ও সিদ্ধিলাভের জন্য। 

নবরাত্রি যখন গরবা

নবরাত্রি বলতেই যে ছবিটি চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তা হল গুজরাতিদের ডান্ডিয়া নাচের! কিন্তু ডান্ডিয়া রাস আসলে গুজরাতি একটি লোকনৃত্য, যা সারা বছর বিভিন্ন শুভ অনুষ্ঠানেই নেচে থাকেন তাঁরা। তবে হ্যাঁ, নবরাত্রির সময় যে ডান্ডিয়া রাসের আসর বসে, তার জাঁকজমকই আলাদা। এখন এই নাচের সঙ্গে দেবীর আরাধনাকে এক করে নেওয়া হলেও, অতীতে এই নাচটি ছিল আসলে শস্য ফলন শুরু করার উৎসব! গরবা, মানে একটি জলপূর্ণ ঘটে ন রকমের শস্যদানা দিয়ে গুজরাতিরা ন দিন পুজো করেন সেই ঘটকে, দেবীরূপে! দশম দিনের দিন প্রতিটি দানা থেকে যখন কল বেরোয়, তখন তা ক্ষেতে বপন করা হয় শস্য ফলনের জন্য। আর সেই উপলক্ষেই উৎসব, যা এখন মিশে গিয়েছে নবরাত্রি সেলিব্রেশনের সঙ্গেও। 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

এসে গেল #POPxoEverydayBeauty - POPxo Shop-এর স্কিন, বাথ, বডি এবং হেয়ার প্রোডাক্টস নিয়ে, যা ব্যবহার করা ১০০% সহজ, ব্যবহার করতে মজাও লাগবে আবার উপকারও পাবেন! এই নতুন লঞ্চ সেলিব্রেট করতে প্রি অর্ডারের উপর এখন পাবেন ২৫% ছাড়ও। সুতরাং দেরি না করে শিগগিরই ক্লিক করুন POPxo.com/beautyshop-এ এবার আপনার রোজকার বিউটি রুটিন POP আপ করুন এক ধাক্কায়...