ভোর চারটের সময় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত কণ্ঠস্বর, আলোর বেণু বাজিয়ে কাল মহালয়া

ভোর চারটের সময় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত কণ্ঠস্বর, আলোর বেণু বাজিয়ে কাল মহালয়া

আপনার প্রিয় নায়ক কি উত্তমকুমার? আপামর বাঙালির প্রাণের নায়ক তো তিনিই। অথচ বছরে একটা দিন তাঁর সেই নায়কত্ব ঘুচিয়ে সেই জায়গায় বিরাজ করেন খুব সাদামাটা একজন বাঙালি। পরনে অতি সাধারণ ধুতি আর গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে সেইদিন তিনি হয়ে যান বাঙালির ‘সুপারহিরো।’ পরিধান সাধারণ হলে কী হবে? উন্নত খাড়া নাক আর উজ্জ্বল দুই চোখ বলে দেয় এ লোক আর যাই হোক সাধারণ নয়। বাঙালির নস্টালজিয়ার লম্বা তালিকায় তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। তাঁর সেই উদাত্ত কণ্ঠস্বর, শেষের দিকে পাঠ করতে করতে বিহ্বল হয়ে যাওয়া, বাঙালির গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। আর তাই তো ১৯৭৬ সালে মহানায়ক উত্তমকুমারকে দিয়ে মহালয়ার অনুষ্ঠান করানো হলে উত্তাল হয় কলকাতা। গর্জে ওঠে বাঙালি। কলকাতার রাস্তায় আছড়ে আছড়ে ভাঙা হয় হাজার হাজার রেডিয়ো। স্বয়ং মহানায়ক করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে বলেন ‘এই মণিহার আমার নাহি সাজে!’ 

রেডিয়োতে বেজে উঠবে 'জাগো দুর্গা...!"

বাঙালির (bengali) বুকে শিরশিরানি ভাব জাগিয়ে দেয় মহালয়া। মনে পড়ে যায় কত স্মৃতি। প্রবীণরা সেই স্মৃতির আলো আঁধারি পথ হাতড়ে মনে করে বলেন অনেক অনেক বছর আচগে মহালয়ার সময় কলকাতায় বেশ ঠাণ্ডা পড়ত। ভোরবেলা পাড়ায় পাড়ায় বেজে উঠত ঢাউস রেডিয়ো। আর বাচ্চারা একটা চাদর গলার কাছে গিঁট বেঁধে ঘুরে বেড়াত এ পাড়া সে পাড়ায়। এখনকার মতো দুধের দাঁত ওঠার সময় থেকে থাকত না ‘পড়ার চাপ’। একমাস ছুটি। যত খুশি ঘুড়ি ওড়াও, কানমলা খাও। মহালয়াতে তাই শৈশবের (nostalgia) মায়া মাখানো গন্ধটা আবার ফিরে পান অনেকেই। আর যারা রেডিয়ো সারান তাঁরা সারা বছর এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করেন। টেলিভিশনে মহালয়া (mahalaya) শুরু হওয়ার পর থেকে কমেছে মহিষাসুরমর্দিনী শোনা। তবে মহালয়ার আগে পুরনো রেডিয়ো সারানোর প্রবণতা আছে বাঙালির। 

স্তোত্রপাঠ, মন্ত্রোচ্চারণ আর সুন্দর  সুন্দর গানের মেলবন্ধনে পুরো অনুষ্ঠানটি রচনা করেছিলেন বাণীকুমার ভট্টাচার্য। সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন পঙ্কজ কুমার মল্লিক। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের শ্লোকপাঠ ছাড়াও গান গেয়েছিলেন দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, আরতি মুখোপাধ্যায়, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও শ্যামল মিত্রের মতো নামজাদা শিল্পীরা। ১৯৩১ সালে প্রথম সম্প্রচার হয় মহালয়ার।  এক সময় এই অনুষ্ঠান সরাসরি বা লাইভ সম্প্রচার হত। এখন যদিও রেকর্ড বাজানো হয়, তবুও আশি বছর অতিক্রান্ত করে মহালয়ার স্মৃতি আজও অমলিন।


দিন পাল্টেছে, গতিময় হয়েছে কাল। ঢাউস রেডিয়ো নয় এখন অনেকেই কানে ইয়ারফোন গুঁজে মহালয়া শোনেন স্মার্টফোনে। জেট এজের দুরন্ত গতি আর যাই হোক এই দিনটিকে আজও আচ্ছন্ন করতে পারেনি। তাই কানে গোঁজা ইয়ারফোন দিয়েই সুর ছড়িয়ে পড়ে প্রাণের অন্দরমহলে। আধো ঘুমে, আধ জাগা হয়ে মনে হয় ওইতো কাশবনের মধ্যে দিয়ে দৌড়চ্ছে অপু আর দুর্গা আর কানের মধ্যে গুনগুন করে বাজতে থাকে “রূপং দেহি, জয়ং দেহি…!”  

Featured Images: hothat jodi uthlo katha, gypsy diaries

 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

এসে গেল #POPxoEverydayBeauty - POPxo Shop-এর স্কিন, বাথ, বডি এবং হেয়ার প্রোডাক্টস নিয়ে, যা ব্যবহার করা ১০০% সহজ, ব্যবহার করতে মজাও লাগবে আবার উপকারও পাবেন! এই নতুন লঞ্চ সেলিব্রেট করতে প্রি অর্ডারের উপর এখন পাবেন ২৫% ছাড়ও। সুতরাং দেরি না করে শিগগিরই ক্লিক করুন POPxo.com/beautyshop-এ এবার আপনার রোজকার বিউটি রুটিন POP আপ করুন এক ধাক্কায়...