রাণুর গানে মুগ্ধ সঙ্গীত পরিচালক শঙ্কর মহাদেবন, ভিড় বাড়ছে অখ্যাত ‘সুপারস্টার’-এর দরজায়

রাণুর গানে মুগ্ধ সঙ্গীত পরিচালক শঙ্কর মহাদেবন, ভিড় বাড়ছে অখ্যাত ‘সুপারস্টার’-এর দরজায়

মনে হচ্ছে যেন এই প্রতিবেদনের শিরোনাম হওয়া উচিত ‘রাণু পেল লটারি!’ না রাণু মারিয়া মণ্ডল (Ranu Maria Mondal) কোনও লটারি পাননি। শুধু তাঁর প্রতিদিনের ছকে বাঁধা চেনা জীবনটা একটু উল্টেপাল্টে গেছে। রানাঘাট স্টেশনে বসে গুনগুন করে গান গাইতেন। কোনও-কোনও যাত্রী দাঁড়িয়ে শুনতেন। কেউ আবার মুখ বেঁকিয়ে পাশ কাটিয়ে চলেও যেতেন। কিন্তু একজন পারেননি। এক তরুণ ইঞ্জিনিয়ার অতীন্দ্র চক্রবর্তী, তিনি রাণুর গানের একটি ভিডিয়ো করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় সেই ভিডিয়ো। জানা যায় রাণুর বাড়ি আদতে কৃষ্ণনগরে নতুনপাড়া অঞ্চলে ছিল। তারপর তিনি রানাঘাটে (Ranaghat) আসেন। বেগোপাড়া বলে একটি অঞ্চলে ছিল তাঁর মাসির বাড়ি। রানাঘাট থেকেই রাণুর বিয়ে হয়। তিনি মুম্বই চলে যান। ১৮ বছর তিনি মুম্বইতে সংসারও করেন। জন্ম হয় দুই ছেলেমেয়ের। শোনা যায়, তিনি নাকি নানা গানের অনুষ্ঠানও করতেন। তবে আস্তে-আস্তে মানসিক অবসাদের শিকার হন তিনি। কী করে যেন আবার চলে আসেন এই রানাঘাটেই। সকলে তাঁকে ছেড়ে চলে গেলেও, গান কিন্তু এখনও তাঁর সঙ্গেই আছে। রাণুর কণ্ঠে ‘শোর’ ছবির সেই বিখ্যাত গান ‘এক পেয়ার কা নগমা হ্যায়’ গানটিই (singer) রেকর্ড করেন অতীন্দ্রবাবু। 

আসলে সারাদিন একা-একা বাড়িতে সময় কাটে না রাণুর। তাই তিনি সময় কাটাতে স্টেশনে চলে আসেন। গুনগুন করে গাইতে থাকেন লতা মঙ্গেশকরের নানা পুরনো গান। আজ সেই ভিডিয়োর দৌলতেই ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে রাণুর। তিনি মুম্বইয়ের একটি রিয়ালিটি শো থেকে ডাক পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর গানে মুগ্ধ স্বয়ং সঙ্গীত পরিচালক শঙ্কর মহাদেবন। তিনি নিজে রাণুর গানের ভিডিয়ো টুইট করেছেন। রানাঘাটের বিডিও যোগাযোগ করেছেন রাণুর সঙ্গে। তাঁর পাকাপাকি থাকার একটা ব্যবস্থা করার জন্য। কিন্তু এই ভাইরাল ভিডিয়োর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কি জানেন? ১০ বছর পর রাণুর কাছে ফিরে এসেছেন তাঁর মেয়ে সাথী। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়ো তিনিও দেখেছেন। কিন্তু এতদিন তিনি কোথায় ছিলেন? যখন তাঁর মাকে ‘পাগলি’ অপবাদ মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে তখন কেন তিনি আসেননি। লজ্জিত সাথী জানান, তাঁর বিয়ে হয় সাঁইথিয়ায়। বিবাহবিচ্ছেদের পর ছোট সন্তানকে নিয়ে তিনি নিজেই জীবনযুদ্ধে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। মা-মেয়ে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন আর গানও করেন। প্রতিবেশীরা জানান, রাণুর মতো সাথীর কণ্ঠেও সুর আছে। তপন দাস বলে এক প্রতিবেশীর মোবাইলে সাথী যোগাযোগ করেন। রাণুর কোনও সরকারি পরিচয়পত্র নেই। সেই চেষ্টায় আপাতত ব্যস্ত তপনবাবু। কেউ একজন রাণুকে এনে দিয়েছেন এক বাক্স মটন বিরিয়ানি। রাণুর অবশ্য কোনও কিছুতেই হেলদোল নেই। তিনি নিজের মনে গেয়ে চলেছেন, “কুছ খো কর পানা হ্যায়, কুছ পা কর খোনা হ্যায়…” 

twitter

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!

 

Featured Image: From Facebook Page of Atindra Chakraborty