হায়দরাবাদ ধর্ষণে অভিযুক্তদের এনকাউন্টার নিয়ে ঝড় সোশ্যাল মিডিয়ায়, পিছিয়ে নেই সেলেব্রিটিরাও

হায়দরাবাদ ধর্ষণে অভিযুক্তদের এনকাউন্টার নিয়ে ঝড় সোশ্যাল মিডিয়ায়, পিছিয়ে নেই সেলেব্রিটিরাও

এরকমটা যে হতে পারে কেউ কখনও ভাবেনি। ঘিরে ধরেছিল হতাশা, অবসাদ। একটা নির্ভয়া, আর একটা নির্ভয়া...আরও একটা। এভাবেই হয়ে চলেছিল একের পর এক ধর্ষণ (rape)। কেসের পর কেস, আদালত মিডিয়া ব্যাস তারপর সব কিছু ঠান্ডা! না এরকমটা হল না। প্রিয়ঙ্কা রেড্ডির ক্ষেত্রে এরকমটা হল না। আজ ভোর তিনটের সময় যেখানে প্রিয়ঙ্কাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল সেখানে চার অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চারজনেরই এনকাউন্টার করেছে তেলেঙ্গানা বা হায়দরাবাদ (Hyderabad) পুলিশ। বলা হয়েছে যে, এরা চারজন পালানোর চেষ্টা করে। তাই বাধ্য হয়েই গুলি করে পুলিশ।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নানা বক্তব্য আর কমেন্টের ঝড় বয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় (social media)। তবে ৯০ ভাগের বেশি নেটিজেনরা এই এনকাউন্টার সমর্থন করেছেন। ফেসবুক বলছে, একেই বলে পোয়েটিক জাস্টিস। শান্তি পেয়েছে প্রিয়ঙ্কার আত্মা। শুধু প্রিয়ঙ্কা নয়, শান্তি পেয়েছে নির্ভয়াও। শান্তি পেয়েছেন সেই প্রত্যেকটি অসহায় মেয়ে, যাঁদের অসময়ে থেঁতলে মেরে দেওয়া হয়েছিল। পিছিয়ে নেই টুইটারও। সেখানেও এই পুরো কর্মকাণ্ডের নেতা সিপি সজ্জনাকে প্রকৃত 'সিংঘম' বলে আখ্যা দিয়েছেন অনেকেই। সেলেবরাও অনেকে মন্তব্য (reactions) করেছেন। তবে এর উল্টো মতও যে আসেনি তা নয়। অনেকে বলেছেন, এটি মানবাধিকারের বিরুদ্ধে কাজ করা হয়েছে। হিংসার জবাব হিংসা দিয়ে হয় না। কিন্তু তাঁদের ছাপিয়ে উঠে এসেছে মেয়েদের কণ্ঠ। তাঁরা সবাই খুশি মনে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। দেখে নেওয়া যাক কে কী বলছেন... 

দক্ষিণের অভিনেতা শ্রীধর এই টুইট করেছেন। সজ্জনা এর আগেও একটি অ্যাসিড অ্যাটাক ও অন্য একটি কেসে এভাবেই এনকাউন্টার করেছেন। স্বভাবতই তাঁকে 'রিয়েল হিরো' বা প্রকৃত নায়ক বলে আখ্যা দিয়েছেন অনেকেই। কেউ-কেউ অবশ্য সজ্জনার এই কাজে একদম খুশি হতে পারেননি। তাঁরা বলছেন যে, এদের চারজনকে নিয়ে দ্রুত কেসটার নিষ্পত্তি করলে অনেক ভাল হত। এভাবে হত্যা করলে কোনও কিছুর সমাধান সম্ভব নয়।  

সমর্থন এসেছে ফেসবুকেও। বিভিন্ন পেজ বা গ্রুপ যারা প্রিয়ঙ্কার এই ঘটনা নিয়ে সরব ছিলেন তাঁরা নানা রকম মন্তব্য করেন। সেখানেও সজ্জনার ভূয়সী প্রশংসা করেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। অনেকে আবার সূক্ষ্ম খোঁচা দিতেও ছাড়েননি যারা এর বিরোধিতা করেছেন। বলা হয় যে এই ঘটনায় শুধু মানুষ যারা তাঁরাই খুশি হয়েছেন। অমানুষদের এটা ভাল লাগবে না। বলাই বাহুল্য এটি 'মানবাধিকার' কর্মীদের উদ্দেশ্য করেই বলা হয়েছে। এই বিষয়ে নিজেদের মনোভাব ব্যক্ত করতে পিছিয়ে নেই বলিউড সেলেবরাও। এখন আর সেই দিন নেই। এখনকার অভিনেতা আর অভিনেত্রীরা নানা সামাজিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন। যিনি স্পষ্ট ভাবে কারও তোয়াক্কা না করে মনের কথা বলে দেন তিনি ঋষি কপূর। এক্ষেত্রেও তাঁর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। তেলেঙ্গানা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি। সমর্থন জানিয়েছেন বান্টি ওয়ালিয়া আর অনুপম খেরও। 

অভিনেত্রী রকুলপ্রীত বলেন, এরকম জঘন্য অপরাধ করে বেশি দূর পালানো সম্ভব নয়। সেটাই আজ প্রমাণিত হয়েছে। বুদ্ধিমত্তার পরিচয় মেলে অভিনেতা রণবীর শোরের মন্তব্যেও। তিনি বলেন এই দেশে বিচারব্যবস্থা বিকৃত তার জন্য কিছু বিকৃত মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই সমাজে চলা যায়না। 

খুশি হয়েছেন নির্ভয়ার মা। তিনি বলেছেন দিল্লি পুলিশ দেখুক, কীভাবে বিচার দেওয়া যায়! আজ এই খবর প্রকাশিত হতেই, কলকাতার কয়েকটি স্কুলে মোমবাতি জ্বেলে ঘটনার সমর্থন করা হয়। স্কুলের শিক্ষিকারা কাঁদতে-কাঁদতে ধন্যবাদ জানান হায়দ্রাবাদ পুলিশকে। 

হিংসার বদলা হিংসা নয়, সেটা বলবেন নাকি সমর্থন করবেন এই হত্যা, সেটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এতে আদৌ কতটা বদল হবে সেটাও জানা নেই। তবে এটা ঠিক যে আজ একটা অন্যরকম ভোর হল ভারতে। আপাতত সেটুকু সম্বল করে বলা যায় আর যেন কোনও প্রিয়ঙ্কাকে এভাবে মরতে না হয়। 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

এসে গেল #POPxoEverydayBeauty - POPxo-র স্কিন, বাথ, বডি এবং হেয়ার প্রোডাক্টস নিয়ে, যা ব্যবহার করা ১০০% সহজ, ব্যবহার করতে মজাও লাগবে আবার উপকারও পাবেন! এই নতুন লঞ্চ সেলিব্রেট করতে প্রি অর্ডারের উপর এখন পাবেন ২৫% ছাড়ও। সুতরাং দেরি না করে শিগগিরই ক্লিক করুন POPxo.com/beautyshop-এ এবার আপনার রোজকার বিউটি রুটিন POP আপ করুন এক ধাক্কায়...