'কাদম্বিনী'র সঙ্গে আমার অনেক মিল রয়েছে, বললেন শোলাঙ্কি

'কাদম্বিনী'র সঙ্গে আমার অনেক মিল রয়েছে, বললেন শোলাঙ্কি

শোলাঙ্কি রায়। বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ। বিভিন্ন ধারাবাহিকে মুখ্য চরিত্রে শোলাঙ্কির (Solanki) অভিনয় দর্শক পছন্দ করছেন। আপাতত তিনি ‘প্রথমা কাদম্বিনী’র মুখ্য চরিত্র। ফের দর্শক নির্দিষ্ট সময় হাজিরা দিচ্ছেন টিভির সামনে। শোলাঙ্কি নিজে কীভাবে প্রস্তুত হলেন, কেমন চলছে তাঁর ‘প্রথমা কাদম্বিনী’র (prothoma kadambini) জার্নি, সে সব নিয়েই মুখোমুখি আড্ডা।

অনেকদিন পরে মেগায় ফিরলেন। তাও আবার অন্যরকম পরিস্থিতিতে। কেমন ভাবে শুটিং হচ্ছে?

হ্যাঁ, ‘ইচ্ছেনদী’ ২০১৭-তে শেষ হয়েছিল। তারপর আবার ‘প্রথমা কাদম্বিনী’। সপ্তাহের মধ্য়েও তো একদিন, দু’দিন করে লকডাউন চলছে এখন। আমরা ১২ ঘণ্টা করে কাজ করছি। তবে ১৪ ঘণ্টা ক্রস করছে না শুটিং। ফ্লোর, মেকআপ রুম সব স্যানিটাইজ করা হচ্ছে বারবার। নিজেকে স্যানিটাইজ করছি। প্যাকিং খাবার আসছে। নিজেরা বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যাচ্ছি আমরা। আগের পরিস্থিতি একটা কারণে খুব মিস করছি।

কী সেটা?

আসলে মেগা মানে তো বাড়ির মতো। সবাই মিলে খাবার আনিয়ে খাওয়া, আড্ডা...। সেটা মিস করছি।

শুটিংয়ের অবসরে সহ-অভিনেতা, অভিনেত্রীদের সঙ্গে শোলাঙ্কি। ছবি ইনস্টাগ্রামের সৌজন্যে।

কেমন ফিডব্যাক পাচ্ছেন?

জুনের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়েছে। সদ্য ৫০তম এপিসোড পেরিয়ে গেলাম আমরা। এখনও পর্যন্ত খুব ভাল ফিডব্যাক। এখনও পর্যন্ত কোনও নেগেটিভ ফিডব্যাক পাইনি। যাঁরা দেখছেন, প্রত্যেকের ভাল লাগছে। এটা মেনটেন করাটা চাপের।

আপনার চরিত্র আইকনিক। কেমন ভাবে ব্রিফ করা হয়েছিল?

একটু আগের ঘটনা বলি। ২০১৫-এ বইমেলা থেকে ‘ঝড়ের মেয়ে কাদম্বিনী’ বইটা কিনেছিলাম। পড়ে খুব ভাল লেগেছিল। তখনই মনে হয়েছিল, এত বায়োপিক হয়, কাদম্বিনীকে নিয়েও কাজ হওয়া উচিত। এমন একজন মহিলা যিনি প্রতিটি ঘটনাতেই সেই সময় নিয়ম ভেঙে এগিয়েছিলেন। সেটা ১৭ বছরের বড় একজনকে বিয়ে করাই হোক, প্রথম মহিলা চিকিৎসক হওয়া বা বিদেশ যাওয়া। আমার মনে হয়েছিল, এই চরিত্র যদি কেউ অফার করেন, নিশ্চয়ই করব। ফলে এটা যখন অফার করা হয়, ব্রিফ পেয়েছিলাম আমার জন্য দেজাভু মোমেন্ট। ড্রিম কাম ট্রু বলতে পারেন। অফার পাওয়ার পর কাদম্বিনী সম্পর্কে আরও পড়তে শুরু করি।

পড়ার ফলে কাদম্বিনীকে আতস্থ করা সহজ হয়েছে?

অবশ্যই। তবে কাদম্বিনী সম্পর্কে ডকুমেনটেশন খুব কম। আমার বন্ধুরা অনেক আর্টিকেল পাঠিয়েছিল। ‘প্রথমা কাদম্বিনী’র ক্রিয়েটিভ টিম দারুণ রিসার্চ করেছে। ওরা ব্রিফ দিয়েছে। ধীরে ধীরে চরিত্রটা মাথায় বসতে শুরু করে। কাদম্বিনীর সঙ্গে আমার বেশ কিছু মিল রয়েছে। সেজন্য অভিনয় করাটা সহজ হয়েছে।

ছোটপর্দার দ্বারকানাথ এবং বিনি। ছবি ইনস্টাগ্রামের সৌজন্যে।

কেমন মিল রয়েছে?

কাদম্বিনীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে আমার মিল রয়েছে। নিয়ম ভাঙা, স্পষ্টবক্তা...। আমার মা বলে, বাঙালদের গোঁ...। কাদম্বিনীর জেদ ছিল খুব। আমিও বাঙাল। আমারও খুব জেদ।

আপনার লুক সেট কারা করলেন?

‘প্রথমা কাদম্বিনী’র রিসার্চ টিমের পরামর্শ নিয়েই করা হয়েছে। এখনও রিসার্চ চলছে। আর আমার মনে হয়, একদম সঠিক লুক হয়েছে।

কাজটা করতে গিয়ে চ্যালেঞ্জিং কিছু মনে হল?

আসলে এই পরিস্থিতিতে ১০ বছরের ছোট বাচ্চাকে নিয়ে কাজ করা যাবে না। সে কারণে যার করার কথা ছিল, সে করতে পারছে না। আমার আর কিছুদিন পরে স্ক্রিনে আসার কথা ছিল। সেটা অনেকটা আগে আসতে হয়েছে। চ্যালেঞ্জ বলব কিনা জানি না, তবে বাঙাল ভাষাটা ধরতে একটু সময় লেগেছিল। এর তো আলদা একটা টান রয়েছে। বিনি মানে আমার চরিত্র পার্টিকুলার একটা টার্মে কথা বলে। আমি তো জন্ম থেকেই কলকাতায়। ফলে সেটা ধরতে একটু সময় লেগেছিল। দ্বারকানাথের চরিত্র যে করছে, হানি, ও দুর্দান্ত বাঙাল বলছে। এই চরিত্রটার জন্য অনেক কিছু শিখতেও পারছি। উল বুনতে পারতাম। কিন্তু ক্রুশের কাজ জানতাম না। অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল। এটাও এই চরিত্র করতে গিয়ে শেখা হয়ে গেল।

‘প্রথমা কাদম্বিনী’র দৃশ্যে সহ অভিনেত্রীর সঙ্গে শোলাঙ্কি। ছবি ইনস্টাগ্রামের সৌজন্যে।

কাদম্বিনীকে নিয়ে আরও একটি ধারাবাহিক অন্য চ্যানেলে একই সঙ্গে চলছে। একটা তুলনা তো চলেই আসে। আপনি বিষয়টা কীভাবে দেখছেন?

আমার মনে হয়, কাদম্বিনীর জার্নিটা এত সাহসী, এত প্রাসঙ্গিক, যে এটা নিয়ে দুটো চ্যানেলই ভেবেছে। দর্শক হয়তো কম্পেয়ার করবেন। কিন্তু আমি কম্পিটিশন ভাবছি না। আমার কাজটা ভাল করে করার দিকে মন দিচ্ছি। আমাকে কাদম্বিনী চরিত্রটা হয়ে উঠতে হবে। বাকি তো দর্শক বলবেন।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!

বাড়িতে থেকেই অনায়াসে নতুন নতুন বিষয় শিখে ফেলুন। শেখার জন্য জয়েন করুন #POPxoLive, যেখানে আপনি সরাসরি আমাদের অনেক ট্যালেন্ডেট হোস্টের থেকে নতুন নতুন বিষয় চট করে শিখে ফেলতে পারবেন। POPxo App আজই ডাউনলোড করুন আর জীবনকে আরও একটু পপ আপ করে ফেলুন!