কোয়ারেন্টাইনের সময়টিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করে ফেলুন কিচেন গার্ডেন

কোয়ারেন্টাইনের সময়টিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করে ফেলুন কিচেন গার্ডেন

আমরা বাঙালিরা বাজার করতে আর খেতে বড্ড ভালবাসি – একথা অস্বীকার করে লাভ নেই। কিন্তু এখন করোনা ভাইরাসের (coronavirus) অত্যাচারে সারা দেশ জুড়ে লকডাউন, অর্থাৎ শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবা ও দ্রব্য বাদে আর কিচ্ছু পাওয়া যাবে না। বাড়ি থেকে বেরনোও যাবে না। ফলে খাবারের পরিমাণও সীমিত। কিন্তু এখন অনেকের মাথাতেই যে চিন্তাটি ঘুরছে তা হল, এখনও না হয় বাজারে কিছু কিছু করে ফল-সব্জি ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু এই জোগানই বা কতদিন থাকবে! আর তারপরে কী হবে! আচ্ছা, এই যে কোয়ারেন্টাইনের (quarantine) এই সময়টায় আমরা সকলেই মোটামুটি গৃহবন্দি, এই সময়টাকে যদি কাজে লাগিয়ে বাড়িতেই ফল ও সব্জির বীজ দিয়ে তৈরি করে নেওয়া যায় কিচেন গার্ডেন (kitchen garden) – তাহলে কিন্তু কিছুটা হলেও সুরাহা হতে পারে। কীভাবে তৈরি করবেন আপনার সাধের কিচেন গার্ডেন, জেনে নিন।

সঠিক জায়গা নির্বাচন

কিচেন গার্ডেন তৈরি করুন ছোট্ট জায়গাতেই (ছবি - ইনস্টাগ্রামের সৌজন্যে)

কিচেন গার্ডেন (kitchen garden) তৈরি করতে গেলে প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে তা হল, সঠিক জায়গা বাছা। আপনার বাড়িতে যদি জায়গা থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি বাড়ির বাগানে কিছুটা জায়গা বেছে নিতে পারেন যেখানে আপনি কিচেন গার্ডেন করতে পারেন। যদি জায়গা অপ্রতুল হয়, সেক্ষেত্রে রান্নাঘরের জানালায় অথবা বারান্দায় বা ছাদে – অর্থাৎ যে জায়গায় রোদ আসে সেখানে কিচেন গার্ডেন তৈরি করতে পারেন।

কী কী সব্জি বা ফল আপনি কিচেন গার্ডেনে ফলাতে পারেন

কোয়ারেন্টাইনে (quarantine) বাড়ি থেকে বেরতে পারবেন না, আর এই মুহূর্তে যে অনলাইনে গাচের চারা বা বীজ কিনবেন সেটিও হবে না। কাজেই, বাড়িতে যে যে সব্জি বা ফল রয়েছে, সেগুলোর বীজ বা অংশই আপনাকে ব্যবহার করতে হবে। যেমন ধরুন, আপনি শশার বীজ, টোম্যাটোর বীজ, লেবুর বীজ, লঙ্কার বীজ ইত্যাদি টবে বসাতে পারেন। আবার অন্যদিকে পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ধনেপাতা, পুদিনাপাতা ইত্যাদি দিয়েও কিচেন গার্ডেনের (kitchen garden) কাজ শুরু করতে পারেন। বাড়িতে যে যে বীজযুক্ত সব্জি বা ফল রয়েছে আপাতত তা দিয়েই কাজ চালু করুন।

যত্ন-আত্তি ও রক্ষণাবেক্ষণ

জানালার উপরে টব বসিয়েও তৈরি করতে পারেন কিচেন গার্ডেন (ছবি - ফেসবুকের সৌজন্যে)

যদি খোলা বাগানে বীজ পোতেন সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, আশেপাশে যেন বড় গাছ থাকে। যদি বাড়িতে বাগান না থাকে, সেক্ষেত্রে বারান্দা, জানালার উপরে তৈরি করে নিন বেস। অন্তত চার থেকে ছয় ঘন্টা যাতে আপনার গাছগুলো রোদ পায় সেদিকে অবশ্যই নজর দিতে হবে। ভরদুপুরে গাছে বা মাটিতে জল দেবেন না। এই সময়ে মাটি গরম থাকে, ফলে জল দিলে বীজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং আপনার কিচেন গার্ডেন (kitchen garden) শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার একটা আশঙ্কা থেকে যায়। সার হিসেবে চায়ের পাতা, সব্জির খোসা, চাল ধোওয়া জল ইত্যাদি দিন আপাতত।

টবের দরকার নেই, বোতল রিসাইকেল করুন

আপনি হয়ত ভাবছেন যে কিচেন গার্ডেন (kitchen garden) তো করবেন কিন্তু এই লকডাউনে (quarantine) টব কোথায় পাবেন! খুব স্বাভাবিক, এই প্রশ্নটি মাথায় আসা। এই মুহূর্তে টবের দরকার নেই। বাড়িতে সবারই কোল্ড ড্রিঙ্কের বোতল থাকে। এখন সেগুলো কাজে লাগান। কোল্ড ড্রিঙ্কের বোতলেই মাটি দিয়ে বীজ পুঁতে দিন এবং দড়ি দিয়ে গ্রিলের সঙ্গে বোতলগুলো ঝুলিয়ে দিন। বোতলের গায়ে ছোট ছোট ফুটো করে দেবেন যাতে বাতাস ঢুকতে পারে এবং ক’দিন পর বীজ থেকে চারা বেরতে পারে।