প্রফেশনালি অভিনয় শেখাচ্ছেন সুদীপ্তা, কিন্তু কাজের সুযোগ?

প্রফেশনালি অভিনয় শেখাচ্ছেন সুদীপ্তা, কিন্তু কাজের সুযোগ?

“একটা ছবি করছি টুম্পাদি, একটু দেখিয়ে দাও।”

“আমার মনে হচ্ছে, অনেকদিন ধরে একই কাজ করছি। একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে। নিজেকে কীভাবে আরও ভাঙতে পারি, সেটা বলে দাও টুম্পাদি।”

“আমি অভিনয় করতে চাই। কিন্তু কিছু জানি না। অডিশন দেওয়ার জন্যও তৈরি নই। শিখতে চাই তোমার কাছে।”

আবদারগুলো ঠিক এভাবেই এসেছে অভিনেত্রী সুদীপ্তা (Sudiptaa) চক্রবর্তীর কাছে। তাঁর কাছে শিখতে চান ভবিষ্যতে অভিনয় (acting) করতে চাওয়া নতুন প্রজন্ম। শিখতে চান ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন, এমন অভিনেতারাও। পরিচিতদের আবদারের পাশাপাশি মেসেঞ্জারে অনবরত অপরিচিতদেরও শেখানোর অনুরোধ পেয়েছেন তিনি। তারপর থেকেই প্রফেশনালি অভিনয় শেখানোর কথা ভাবেন অভিনেত্রী। ‘সুদীপ্তা চক্রবর্তী অ্যাক্টিং অ্যাকাডেমি’র কাজও এগিয়েছিল অনেকটাই। কিন্তু করোনা আতঙ্ক এবং লকডাউন পরিস্থিতির কারণে সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত। মনখারাপ হয়েছিল ঠিকই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের পুরোদমে কাজ শুরু হবে অ্যাকাডেমির। আপাতত বাড়িতেই এক একজন করে ক্লাস নিচ্ছেন সুদীপ্তা।

“অনেকদিন ধরেই আমার কাছে প্রফেশনালি কেউ কেউ আসে। কিন্তু বেশিরভাগই পার্সোনাল লেভেলে, ইনফরমাল। এই পরিস্থিতিতে যা প্ল্যান করেছিলাম, তা তো হল না। মন খারাপ হয়েছিল। অনেকটা ইনভেসমেন্ট হয়েছিল। তারপর একাধিক ফোন কল আসা শুরু হল, 'ঘরে বসে আছি এখন, শুটিং নেই। এই সময়টা কাজে লাগাতে চাই।' 'তৈরি হতে চাই।' ফলে সেভাবে আসছেন কয়েকজন। একটা ঘরে ১০-১৫ জনকে নিয়ে ক্লাস তো এখন হবে না। ওয়ান টু ওয়ান করাচ্ছি। কেউ আবার নিজের ক্লাস শেষ হয়ে গেলেও যাচ্ছে না। পরের জনের সময় চা হাতে বসে পড়ছে। সব তো বন্ধু-বান্ধব। আমিই চা বানাচ্ছি, কেউ বলছে টুম্পাদি লেবু চা, কেউ গ্রিন টি...। ওদের আবদার মেটাচ্ছি। আমার বাড়িটা চায়ের ঠেক হয়েছে এখন (হাসি)। সিনেমা নিয়ে প্রচুর আদান-প্রদান হচ্ছে। একটা স্ক্রিপ্টের যে টেক্সটা থাকে, তার থেকে কীভাবে সাবটেক্সট বের করা যায়, ওরা কীভাবে সাবটেক্সট বের করে সেই প্রসেসটা শুনছি, আমি আমার প্রসেসটা বলছি। ওদের শেখাতে গিয়ে আমিও এনরিচড হচ্ছি” বললেন সুদীপ্তা।

 

সুদীপ্তা নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। ফলে তাঁর কাছে অনেকেই শিখতে চাইবেন। ছবি ইনস্টাগ্রামের সৌজন্যে।

সুদীপ্তা জানালেন, তাঁর কাছে এই মুহূর্তে যাঁরা শিখতে আসছেন, প্রত্যেকেই নিজস্ব গাড়িতে আসছেন। মাস্ক পরে, স্যানিটাইজ করে নিজেরা বসছেন। আর গুরুদক্ষিণা? “ওরা দিলে দেবে। যাদের সঙ্গে বহু বছরের সম্পর্ক তাদের কাছে টাকা চাওয়া যায় নাকি?”

রাজা চন্দের পরিচালনায় ‘ম্যাজিক’-এ প্রথমবার জুটি হিসেবে কাজ করছেন অঙ্কুশ এবং ঐন্দ্রিলা। আজ থেকে এই ছবির শুটিং শুরু। নিয়মিত এই জুটি সুদীপ্তার কাছে ক্লাস করেছেন। সুদীপ্তা শেয়ার করলেন, “এই ছবিটার স্ক্রিপ্ট দারুণ। অঙ্কুশের চরিত্রে দু’রকমের শেড রয়েছে। তৈরি হতেই হবে। আমি খুব দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, শুটিংয়ে একজন অভিনেতাকে তৈরি হওয়ার জন্য সবথেকে কম সময় দেওয়া হয়। অভিনেতার যে আগে থেকে তৈরি হওয়া প্রয়োজন, এটা প্রোডিউসার বা ডিরেক্টররা এখন যে ভাবছেন, এতে আমি সত্যিই খুব খুশি। ঐন্দ্রিলারও বড় ব্রেক। আমরা প্রত্যেকটা সিন- কমা, দাঁড়ি, সেমিকোলন সব ডিটেলে বারবার পড়েছি। প্রায় ছুরি, কাঁচি নিয়ে কাটাছেঁড়া করেছি, আলোচনা করেছি। ওদের পুরো সিনেমাটা মুখস্থ। এটা অভিনেতাকে কনফিডেন্স দেয়। রাজা কীভাবে শুটিং প্ল্যান করেছে, সেটাও ডিসকাস করেছি। কোনও সিনে মনে হল, এই এক্সপ্রেশন ক্লোজআপ নিলে ভাল হবে, সেটা ওদের বলেছি, ওরা নোট করেছে, ডিরেক্টরের সঙ্গেও আলোচনা করেছে।” করোনা আতঙ্কের কারণে শুটিংয়ে লোকসংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এতটা খারাপ না হলে হয়তো সেটেও যেতেন সুদীপ্তা।

 

আপাতত সুদীপ্তা একাই ক্লাস নিচ্ছেন। কিন্তু অ্যাকাডেমির জন্য আরও অনেকের কথা ভেবেছিলেন। প্যানেলে ছিলেন কলকাতা এবং কলকাতার বাইরের বিভিন্ন পেশার প্রফেশনালরাও। যেমন- নার্ভাস সিস্টেম নিয়ে কাজ করা প্রফেশনাল চিকিৎসক, মনোবিদরাও ভবিষ্যতে ক্লাস নেবেন এই প্রতিষ্ঠানে। কীভাবে মিডিয়াকে সামলাতে হবে, কীভাবে নিজের সাফল্য সামলাবেন আবার কীভাবেই বা নিজের ব্যর্থতাকে সামাল দেবেন একজন প্রফেশনাল, এই ওভারঅল গ্রুমিংয়ের প্ল্যান করেছেন সুদীপ্তা।

এই মুহূর্তে দেশের বাইরে যাঁরা রয়েছেন, বা লকডাউনের কারণে সশরীরে পৌঁছতে পারছেন না, এমন মানুষদের প্রয়োজনে অনলাইন ক্লাস করাচ্ছেন সুদীপ্তা। কিন্তু এটা ভবিষ্যৎ নয়। তাঁর কথায়, “অভিনয় ঠিক অনলাইনে শেখার জিনিস নয়। আমার প্রচুর ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটিও থাকে। সেটাও এখন করাতে পারছি না। তাছাড়া ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’, কথাটা একজন মানুষ কত দূর থেকে আর বলতে পারেন?”

অভিনয় শেখার অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যতে কাজ পাওয়ার বিষয়ে কিছু প্রতিশ্রুতি থাকে। সুদীপ্তার অ্যাকাডেমি সেখানে ব্যতিক্রম। আমার এখানে প্রথমেই লেখা থাকবে কাজের সুযোগের কোনও গ্যারান্টি নেই। যে স্টুডেন্টদের কোয়ালিটি থাকবে, যাদের উপর আমার আস্থা তৈরি হবে, তাদের যদি কোথাও অডিশনের খবর পাই, সেই খবরটা দেব হয়তো। ভবিষ্যতে প্রযোজকদেরও জানিয়ে রাখা যেতে পারে, যে আপনাদের প্রয়োজন হলে জানাবেন, আমার অ্যাকাডেমি থেকে স্টুডেন্টদের পাঠাতে পারব। আর আমি শিওর আমার ইনস্টিটিউট থেকে গিয়েছে জানলে অডিশনে তাদের ভাল করে দেখা হবে।”

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!

বাড়িতে থেকেই অনায়াসে নতুন নতুন বিষয় শিখে ফেলুন। শেখার জন্য জয়েন করুন #POPxoLive, যেখানে আপনি সরাসরি আমাদের অনেক ট্যালেন্ডেট হোস্টের থেকে নতুন নতুন বিষয় চট করে শিখে ফেলতে পারবেন। POPxo App আজই ডাউনলোড করুন আর জীবনকে আরও একটু পপ আপ করে ফেলুন!