সুপ্রিম কোর্ট দিল এক অনন্য রায়ঃ এখন থেকে বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস মানেও ধর্ষণ!

সুপ্রিম কোর্ট দিল এক অনন্য রায়ঃ এখন থেকে বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস মানেও ধর্ষণ!

একজন মহিলার কাছে ধর্ষণ (rape) শব্দের মানে কতটা ভয়াবহ কতটা অপমানজনক সে বিষয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। ঠিক ততটাই আত্মগ্লানির বিষয় হল যখন কেউ বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোনও মহিলার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।আর এবার এই বিষয়টি নিয়েই আইনি পদক্ষেপ নিল ভারতের মহামান্য উচ্চ ন্যায় আদালত বা সুপ্রিম কোর্ট (supreme court)। সুপ্রিম কোর্ট (supreme court) সম্প্রতি দিয়েছে এক অনন্য রায়। মহামান্য আদালত (supreme court) জানিয়েছেন বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করলেও সেটাকে ধর্ষণের (rape) মতো ঘৃণ্য অপরাধ বলে ধরে নেওয়া হবে।


বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাও ও এম আর শাহ সম্প্রতি এক রায় দেওয়ার সময় লক্ষ্য করে দেখেছেন ধর্ষণ একজন মহিলার আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদায় হানি পোঁছয়। একজন অত্যাচারিত একজন ধর্ষক যদি নিজেদের জিবনে স্থিতু হয় এবং তাদের উপরে পরিবারের দায়িত্ব থাকে তাহলেও এই সব ক্ষেত্রে অপরাধ মার্জনা করা যায়না একেবারেই। এই দুই বিচারপতির বেঞ্চ লক্ষ্য করেছে যে বর্তমান সমাজে এই জাতীয় সমস্যা ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। দুজনেই একই সাথে বক্তব্য রেখেছেন যে এই জাতীয় ঘটনা একজন মহিলার আব্রু ও সম্মানে  ধাক্কা দেয় আর তাই এটা এখানেই বন্ধ করা দরকার।  


sc


এই যুগান্তকারী রায় দেওয়ায় পিছনে রয়েছে একটি ঘটনা। একজন মহিলা কোর্টে অ্যাপিল করেন যে ২০১৩ সালে ছত্তিশগড়ের একজন ডাক্তার তাকে ধর্ষণ করেছে। মহিলা বিলাসপুরের কোনি অঞ্চলের বাসিন্দা এবং তিনি অভিযুক্তকে আগে থেকে চিনতেন। ২০০৯ সাল নাগাদ তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।অভিযুক্ত তাকে কথা দিয়েছিলেন যে সঠিক সময় এলেই তারা বিয়ে করবেন। অভিযুক্ত এবং অভিযোগকারিণীর পরিবার তাদের দুজনের এই সম্পর্ক বিষয়ে জানতেন।


অভিযুক্ত পরে তার কথার খেলাপ করে এবং অন্য একজন মহিলাকে বিয়ে করে। এর পরেই ওই মহিলা এই ডাক্তারের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। হাই কোর্টে এই মামলা চলাকালীন অভিযুক্তের আর্জি খারিজ করে তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযুক্ত এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতে আপীল করে।


এই কেসের জাজমেন্টে বলা হয়, খুনের মতো ধর্ষণও একটি ঘৃণ্য অপরাধ। ধর্ষণের সময় একজন মহিলার সঙ্গে জন্তুর মতো আচরণ করা হয়। তার ব্যক্তিগত জীবন তার শরীর ও মন সব তছনছ করে দেওয়া হয়।


কেস চলার সময় কোর্ট বুঝতে পারেন অভিযুক্তের কোনও দিনই ইচ্ছা ছিলনা ওই মহিলাকে বিয়ে করার। তিনি শুধুই শারীরিক সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী ছিলেন।


আর তাই এই ঘটনাকে ধর্ষণই আখ্যা দিয়েছে কোর্ট। একজন ধর্ষকের যা সাজা হয় এক্ষেত্রেও তাই হবে বলে বলা হয়। কোর্ট লক্ষ্য করে দেখেছে এটি একটি প্রতারণার মামলা এবং অভিযোগকারিণীকে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে বিয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে মহিলার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে।এটাও বলা হয়েছে যখন অভিযুক্ত জানতেন তিনি কখনওই এই মহিলাকে বিয়ে করবেন না তখন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়া তার উচিৎ হয়নি।অভিযুক্তের সাজা যদিও দশের পরিবর্তে সাত বছর করে দেওয়া হয়েছে।    


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!