অনুরাগের 'লুডো'য় মিনির বিট্টুই কি কাবুলিওয়ালা ?

অনুরাগের 'লুডো'য় মিনির বিট্টুই কি কাবুলিওয়ালা ?

অনুরাগ বসুর ‘লুডো’ ( Ludo ) নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার পরেই সাড়া ফেলেছে নেটিজেনদের মধ্যে । দর্শকরাও মুগ্ধ, একইসঙ্গে সমালোচকদেরও প্রশংসা পেয়েছে লুডো । টাইম ও স্পেসকে ব্যবহার করে এক দারুণ স্টোরিলাইন লিখেছেন পরিচালক । লুডো বোর্ডের রূপকের ব্যবহার করে পরিচালক দর্শকদের উদ্দেশে কী বার্তা দিতে চেয়েছেন, সেখানেই খেলা শুরু মানে সিনেমার গল্প শুরু ! চারটি প্রধান চরিত্র চারটি রঙের । সেই চরিত্রগুলিকে ব্যবহার করেই ন্যারেটিভ লিখেছেন পরিচালক । চরিত্রের সঙ্গে সময় ও স্পেসকে মিলিয়ে দিয়েছেন । একই সময় বারবার ফিরে ফিরে এসেছে ছবিতে, এক একে চরিত্রের সঙ্গে । যেন চরিত্ররা একে অপরকে আগেই চিনত আবার চিনতও না । তবে লুডোর স্ক্রিপ্ট, সিনেমাটোগ্রাফি ও অন্যান্য বিষয়ের যথেষ্ট প্রশংসা হয়েছে । এমনকী প্রতিটা চরিত্রকে যে পরিচালক নিখুঁতভাবে লিখেছেন, তাও স্পষ্ট । সেভাবেই অসাধারণ এক ডার্ক কমেডির মধ্যেও অনুভূতিগুলো যথেষ্ট বেশি প্রাধান্য পেয়েছে অনুরাগের সিনেমায় ।

ডার্ক কমেডির সঙ্গেই গুরুত্ব পেয়েছে অনুভূতি

আসলে অনুরাগ বসুর ছবির একটি নির্দিষ্ট নিজস্ব কায়দা আছে । সেই শৈলী বজায় রেখে অনুরাগ প্রতিবার ছবির স্পেস, টাইম, প্লট এবং চরিত্রদের নিয়ে খেলেন । অনুভূতি এবং সময় অনুরাগের ছবির খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ । বরফি, লাইফ ইন আ মেট্রো, জগ্গা জসুসেও আমরা দেখেছি, অনুরাগের স্ক্রিপ্টে অনুভূতি বা ইমোশান খুব বেশি গুরুত্ব পায় । একটি সহজ ন্যারেটিভকে অসাধারণ মাত্রায় নিয়ে যান পরিচালক । আর এক্ষেত্রেও তার কোনও বিকল্প হয়নি । তবে যেমনভাবে প্রশংসা পেয়েছে ছবির এই জনরা (genre) , একইভাবে পরিচালকের শ্রদ্ধার্ঘ্যও একইভাবে স্পষ্ট । এমনকি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক নিজেও সে কথা জানিয়েছেন যে, ছবিতে তাঁর হোমেজ বা শ্রদ্ধার্ঘ্য স্পষ্ট ।

প্রাণ খোলা মিনির সঙ্গেই আলাপ হয়ে যায় বিট্টুর

সমালোচকদেরও প্রশংসা পেয়েছে লুডো

লুডো ছববিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিষেক বচ্চন, আদিত্য রায় কাপুর, রাজকুমার রাও, রোহিত সুরেশ । চারটি গুটির চারটি রঙের মতোও এই চারটি চরিত্রের চারটি রঙ আছে । আরও এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী, ইনিই এই প্রত্যেকটি চরিত্রের যোগসূত্র । ছবির সম্পূর্ণ অংশ নিয়ে ইতিমধ্যেই অনেক প্রশংসা এসেছে । একাধিক সমালোচক লুডোকে এই বছরের শ্রেষ্ঠ ছবিও বলছেন । 

মিনির মধ্যে নিজের মেয়েকে খুঁজে পায় বিট্টু

মিনির বিট্টুর মধ্যেই কি অনুরাগ খুঁজে পেয়েছেন কাবুলিওয়ালাকে ?

বিট্টু (অভিনয়ে অভিষেক ) এবং মিনি (অভিনয়ে ইনায়ত বার্মা) চরিত্রটির মধ্যেই রবীন্দ্রনাথের কাবুলিওয়ালার এক ছাপ দেখতে পাওয়া যায় ( ludo reminds tagore's kabuliwala ) । সেই একইরকম কাবুলিওয়ালার চরিত্রের মতোই যেন বিট্টু চরিত্রটি । নিজের মেয়ে কাছে নেই, হঠাৎই মিনি নামে একটি ছোট্ট মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কের বাঁধনে বাঁধা পড়ে কাবুলিওয়ালা । রবীন্দ্রনাথের গল্পের কাবুলিওয়ালা মেয়ের স্মৃতি হিসেবে মেয়ের পায়ের ছাপ নিয়ে ঘুরত, জেলেও তাঁর কাছে সেই স্মৃতি ছিল । বিট্টুর কাছেও মেয়ের হাতের একটি বালা ছিল সবসময়, মেয়ের স্মৃতি হিসেবে । সেই স্মৃতি আগলে রাখতে রাখতে বিট্টুও ভুলে গিয়েছিল, তাঁর মেয়ে বড় হয়েছে । তবে মিনির সঙ্গে বিট্টুর মিষ্টি সম্পর্ক ছুঁয়ে গিয়েছে দর্শকের মনকে । আর হয়তো ইচ্ছে করেই ছোট্ট মেয়েটির চরিত্রের নাম মিনি রেখেছেন অনুরাগ বসু । তাঁকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, প্রতিটি হোমেজ তাঁর ছবিতে স্পষ্ট ( ludo reminds tagore's kabuliwala ) ।

অর্থাৎ, কেউ যদি লুডো দেখতে দেখতে বিট্টু ও মিনির মধ্যে হঠাৎই কাবুলিওয়ালা ও মিনিকে খঁজে পান, তাহলে তাঁর খুঁজে পাওয়াই হয়তো সত্যি । আজ অনেক বছর পরেও রবি ঠাকুরের কাবুলিওয়ালা একইভাবে প্রাসঙ্গিক, ফিরে আসে সমসাময়িক ছবিতে । বিট্টু ও মিনির সম্পর্কে, অনুরাগের স্ক্রিপ্টে...

 

মূল ছবি সৌজন্যে : নেটফ্লিক্স 

POPxo এখন চারটে ভাষায়!ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!
বাড়িতে
থেকেই অনায়াসে নতুন নতুন বিষয় শিখে ফেলুন। শেখার জন্য জয়েন করুন
#POPxoLive, যেখানে আপনি সরাসরি আমাদের অনেক ট্যালেন্ডেট হোস্টের থেকে নতুন
নতুন বিষয় চট করে শিখে ফেলতে পারবেন। POPxo App আজই ডাউনলোড করুন আর জীবনকে আরও একটু পপ আপ করে ফেলুন!