পিরিয়ড হলে মহিলা চিকিৎসকের রোগী দেখার অধিকার নেই! প্রশ্ন তুলছে 'প্রথমা কাদম্বিনী'

পিরিয়ড হলে মহিলা চিকিৎসকের রোগী দেখার অধিকার নেই! প্রশ্ন তুলছে 'প্রথমা কাদম্বিনী'

বাড়ির ছোট্ট মেয়েটি অসুস্থ। তাকে দেখতে এসেছেন মহিলা চিকিৎসক। কিন্তু তিনি যদি রজঃস্বলা হন? অর্থাৎ চিকিৎসকের যদি পিরিয়ড চলে? তাহলে গৃহদেবতা রাধা গোবিন্দকে পেরিয়ে অন্দরমহলে ঢুকতে দেওয়া যাবে না তাঁকে। তাতে রোগী আরও অসুস্থ হয়ে পড়লেও কিছু করার নেই। এখন কী করবেন এই মহিলা চিকিৎসক?

ছোটবেলায় খেলার ছলে মেয়েটি শুনেছিল, চিকিৎসকের কাছে রোগীর থেকে কেউ বড় নয়। রোগীর স্বার্থে যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করার শিক্ষা রয়েছে তাঁর রক্তে। তাই তিনি যে রজঃস্বলা নন, সকলের সামনে সেই প্রমাণ দিতেও তৈরি!

ঠিক এই লড়াইটাই বাস্তবে করতে হয়েছিল বাংলার প্রথম মহিলা চিকিৎসক কাদম্বিনী (kadambini) গঙ্গোপাধ্যায়কে। তাঁকে নিয়েই স্টার জলসাতে তৈরি হচ্ছে ধারাবাহিক। 'প্রথমা কাদম্বিনী'। মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন সোলাঙ্কি রায়। আর তার প্রোমোতেই এমন ঘটনার আভাস পাবেন দর্শক। রজঃস্বলা হলে বাড়ির ভিতরে রোগী দেখতে যাওয়ার অনুমতি পাবেন না কাদম্বিনী। সে কারণেই তিনি যে রজঃস্বলা নন, তার প্রমাণ দেবেন প্রকাশ্যে!

প্রায় ২০০ বছর আগের সেই বাংলা একেবারেই আলাদা ছিল৷ ২০২০-তে দাঁড়িয়ে সে সব ইতিহাস। সেই যুগে মেয়েরা পর্দার আড়ালে থাকতেন। তখনই পুরুষদের সঙ্গে ডাক্তারি পড়ে, পাশ করে নজির স্থাপন করেছিলেন কাদম্বিনী দেবী৷

 

 

ডক্টর কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় ও চন্দ্রমুখী বসু ছিলেন ব্রিটিশ অধ্যুষিত ভারতের এবং তৎকালীন সমগ্র ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রথম দুই মহিলা গ্র্যাজুয়েট। সেটা ১৮৮৩ সাল। এর পরে ১৮৮৬ সালে বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক হন কাদম্বিনী দেবী। তিনি ও আনন্দী গোপাল জোশি এদেশের প্রথম মহিলা মেডিকাল প্র্যাকটিশনার। এর পরে কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষার জন্য ব্রিটেনে পাড়ি দেন। ১৮৯২ সালে দেশে ফেরেন এবং ধীরে ধীরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস শুরু করেন।

বাংলার প্রথম মহিলা চিকিৎসক হিসেবে কাদম্বিনীকে বহু বাধা পেরতে হয়েছিল। নানা কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তাঁর ছিল দৈনন্দিনের লড়াই। তখনকার দিনে পিরিয়ড হলে মেয়েদের অশুচি বলে মনে করা হত। ২০২০তে যে ধারণাটা একেবারে বদলে গিয়েছে তা নয়। তবে বদলানোর চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে কখনও ছবি তৈরি হচ্ছে। কখনও বা স্কুল পাঠ্যে দেওয়া হচ্ছে সচেতনার পাঠ। পরিস্থিতি বদলাবে বলে মনে করেন সমাজের একটা বড় অংশ। সে কারণেই এই প্রতিদিনের লড়াই। সেখানে নতুন এই ধারাবাহিকেরও ভূমিকায় রয়েছে বলে মনে করেন টেলি পাড়ার একটা বড় অংশ। সামনেই আসছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। তার আগে এই ধরনের প্রোমো নিঃসন্দেহে অন্য বার্তা দেবে। তবে কবে থেকে ধারাবাহিকটির সম্প্রচার শুরু হবে, তা এখনও জানাননি সংশ্লিষ্ট চ্যানেল কর্তৃপক্ষ।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!

২০২০ শুরু করুন আমাদের দারুণ দারুণ প্ল্যানার আর স্টেটমেন্ট সোয়েটশার্ট দিয়ে। এগুলো সবকটাই আপনারই মতো একশ শতাংশ মজার এবং অসাধারণ! ওহ হ্যাঁ, শুধুমাত্র আপনার জন্য রয়েছে ২০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থাও। দেরি কিসের আর, এখনই POPxo.com/shop থেকে কেনাকাটা সেরে ফেলুন আর নিজেকে আরেকটু পপ আপ করে ফেলুন!