২৫ পয়সায় কচুরি আর এক টাকায় তেলেভাজা? বলেন কী মশাই? কোথায়?

২৫ পয়সায় কচুরি আর এক টাকায় তেলেভাজা? বলেন কী মশাই? কোথায়?

এক রুপিয়া মেঁ হোতা কেয়া হ্যায়? এই লাইনটি বেশ ক'দিন হল বিজ্ঞাপনে খুব জনপ্রিয় হয়েছে। আর তার কী ফিরিস্তি রে বাবা! এক টাকায় হ্যান-ত্যান কত কী নাকি পাওয়া যায়! আরে বাবা আপনিও বোকা নন, আর আমিও নই। ওসব যে শুধুই বিজ্ঞাপনী প্রচারমাত্র, সে আমরা সকলেই ভাল করে জানি। কারণ, এই এক টাকার মধ্যেই আছে অনেক লুকনো খরচ। বাজার অগ্নিমূল্য, মাইনে সে হারে বাড়ছে না, লোকের নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাচ্ছে...এগুলো সব চেনা কথা তাই না? আর এর মধ্যে একটা অচেনা কথা বলি? আমাদের এই শহর কলকাতাতেই (kolkata) এখনও ৫০ পয়সায় পাওয়া যায় কচুরি (kochuris)! আর আপনি যদি স্কুল বা কলেজের ছাত্রছাত্রী হন তা হলে তো কথাই নেই। পুরো ২৫ শতাংশ ছাড়! দাম নেবে আসবে সোজা ২৫ পয়সায় (25 paisa)! আর তেলেভাজার দাম? ওই যে শুরুতেই বললাম এক রুপিয়া! হ্যাঁ, একদম নির্ভেজাল সত্যি কথা বলছি (shop)।


২৯ বছর ধরে মানিকতলার মুরারিপুকুর অঞ্চলে তেলেভাজা আর কচুরি বিক্রি করছেন লক্ষ্মীনারায়ণ ঘোষ। ভালবেসে সকলে তাকে মঙ্গলদা বা মঙ্গলা বলে ডাকে। এখন আপনি বলবেন, তেলেভাজা আর কচুরি তো অনেকেই বিক্রি করেন এই শহরে। এতে আর নতুন কথা কী? নতুন কথা হল, এই বিগত ২৯ বছরে মঙ্গলদার দোকানের একটা জিনিসেরও দাম এক পয়সাও বাড়েনি। স্মৃতিচারণায় বছর পঞ্চাশের মঙ্গলদা বলেছেন ১৯৯০ সালে একটা ভাঙা ও পরিত্যক্ত ঘরে, যার মধ্যে একটা মিটার বক্স ছাড়া আর কিছুই ছিল না, সেখানে প্রথম তিনি এই তেলেভাজা আর কচুরি বিক্রি করতে শুরু করেন। তখন কচুরির দাম ধার্য করা হয়েছিল ৫০ পয়সা। আশেপাশে অনেক স্কুল আছে এই অঞ্চলে। ফলে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা প্রায়শই ভিড় জমাত এখানে। তাদের কথা চিন্তা করে কচুরির দাম ৫০ পয়সা থেকে নামিয়ে ২৫ পয়সা করে দেন তিনি। তবে শর্ত একটাই। স্কুলের পোশাকে আসতে হবে। আর বিকেলে স্কুল-কলেজ ছুটি থাকে তাই তখন পেঁয়াজি, মোচার চপ, আলুর চপ, ধোঁকার চপ আর বেগুনির দাম রাখা হয়েছিল এক টাকা। কিন্তু তখন যে দামগুলো ধার্য করা হয়েছিল সেগুলো তো ১৯৯০ সালের বাজার দর মাথায় রেখে করা হয়েছিল, তাই না? সেটা এই ২০১৯ সালেও একই রকম রেখে কীভাবে ব্যবসা চালাচ্ছেন মঙ্গলদা?


মঙ্গলদা বিন্দাস! তাঁর এই দোকানই একমাত্র রুজি-রোজগারের রাস্তা। তবে সংসার কীভাবে চলছে, তিনি জানেন না! তখনকার চেয়ে এখন আলুর দাম অনেক বেড়ে গেছে। তখন এক কেজি আলুর দাম ছিল ৫০ পয়সা আর এখন এক কেজির দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা। সে যাই হোক। তিনি দাম বাড়াননি। আর নিজের কাছে নিজেই প্রতিজ্ঞা করেছেন, যতদিন এই দোকান চলবে, একটা জিনিসের দামও এক নয়া পয়সা বাড়াবেন না তিনি! আর একবার মঙ্গলদা কমিটমেন্ট করে ফেলেছেন মানে তিনি এখন নিজের কথাও শুনবেন না!


Feature Image Courtsey: The Indian Express and Kolkata Buzz 


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!