প্রথম ভারতীয় হিসেবে Miss Deaf World-এর শিরোপা জিতে আবেগে ভাসলেন মূক ও বধির বিদিশা

প্রথম ভারতীয় হিসেবে Miss Deaf World-এর শিরোপা জিতে আবেগে ভাসলেন মূক ও বধির বিদিশা

জন্ম থেকেই তিনি কথা বলতে পারেন না, কথা শুনতেও পারেন না! কিন্তু স্বপ্ন তো দেখতে পারেন! লড়াই তো করতে পারেন! আর সেই লড়াই করেই উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরের বাসিন্দা ২১ বছরের তরুণী বিদিশা বালিয়ান (Vidisha Baliyan) আন্তর্জাতিক টেনিসে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, ডেফালিম্পিকসে (Deafalympics) একমাত্র ভারতীয় প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন! আর এবার দক্ষিণ আফ্রিকা মূক-বধিরদের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রথম ভারতীয় হিসেবে তিনি জিতে নিয়েছেন সেরা সুন্দরীর শিরোপা!

বিদিশার জীবনের শুরুটা আর পাঁচজন মূক ও বধির শিশুর মতোই হয়েছিল। ছোটবেলায় সকলের উপেক্ষা-অবহেলা আর সহানুভূতির পাত্র হিসেবে রইলেও, বিদিশা কিন্তু মোটেও দমে যাননি। শারীরিক অক্ষমতা তাঁর এগিয়ে যাওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে, এই চিন্তা তাঁর মাথাতেও আসেনি কোনওদিন। ছোট থেকেই খেলাধুলোর প্রতি তাঁর উৎসাহ ছিল। তাই ভর্তি হন টেনিসে। কারণ, সেখানে কানে না শুনলেও, কথা না বলতে পারলেও সমস্যা নেই। চোখে দেখতে পেলে বল বিপক্ষের কোর্টে ফেরত পাঠানো যাবে! টেনিস বিদিশাকে অনেক কিছু দিয়েছে। দেশে তো বটেই, তিনি নাম কুড়িয়েছেন বিদেশেও। বহু প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। ডেফালিম্পিকস, মানে, যে অলিম্পিকে শুধু মূক-বধিররাই অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেখানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বিদিশা। প্রথম ভারতীয় হিসেবে! পঞ্চম স্থানও লাভ করেছেন, কোনও পৃষ্ঠপোষকতা, কোনও বিশেষ ট্রেনিং, কোনও সরকারি-বেসরকারি সাহায্য ছাড়াই! দেশে ফিরে অন্য সব সেলেব্রিটি খেলোয়াড়ের মতো প্রচার পাননি, পুরস্কৃতও হননি। কিন্তু খেলা চালিয়ে গিয়েছেন। অবশ্য মানুষ ভাবে এক, হয় আর-এক। হঠাৎই পিঠে চোট পান বিদিশা। টেনিস ছাড়তে হয় তাঁকে। সামনেটা হঠাৎই ফাঁকা হয়ে যায়...কী করবেন এবার জীবনে? 

দেখতে-শুনতে কোনওদিনই মন্দ ছিলেন না বিদিশা। মডেলিং, ফোটোশুটের প্রতিও আর পাঁচটা মেয়ের মতো তাঁর অনেকদিনই আকর্ষণ ছিল। ছোটবেলায় ম্যাগাজিনে বিশ্বসুন্দরীদের ছবি দেখে তাঁদের মতো হতেও চাইতেন। সেই উদ্দেশ্যে এবার তিনি পাড়ি দেন ভিন রাজ্যে। হরিয়ানার গুরুগ্রামে একটি মডেলিং অ্যাকাডেমিতে নাম লেখান এই বিষয়ে আরও ট্রেনিং নেওয়ার জন্য, নিজেকে আরও ক্ষুরধার করে তোলার জন্য। কোর্স শেষ করে বিদিশা ঠিক করেন তিনি মিস ডেফ ইন্ডিয়া-তে অংশ নেবেন। পাশাপাশি চলতে থাকে টুকটাক মডেলিং-ফ্যাশন শুটের কাজও। মিস ডেফ ইন্ডিয়া জেতেন বিদিশা আর এখানেই তাঁর আলাপ হয় হুইলিং হ্যাপিনেস ফাউন্ডেশনের কর্ণধার ও প্রাক্তন প্যারালিম্পিয়াল দীপা মালিক ও তাঁর সুযোগ্যা কন্যা দেবিকার সঙ্গে। এঁদের প্রেরণা, উৎসাহ ও গাইডেন্স বিদিশাকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি হতে পদে-পদে সাহায্য করেছিল। জয়ের পর নিজের একটি ইনস্টা পোস্টে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি বিদিশা। 

দক্ষিণ আফ্রিকার মোমবেলায় ১৬টি দেশের প্রতিযোগীকে হারিয়ে তাঁর মাথায় যখন উঠল সেরা সুন্দরীর শিরোপা (Miss Deaf World), তখন বিদিশা কথা বলতে পারেন কিনা, কানে শুনতে পান কিনা, সেকথা চাপা পড়ে গিয়েছিল। তাঁর কান্না আর সুস্মিতা সেন-ঐশ্বর্যা রাইয়ের কান্নার মধ্যে কিন্তু কোনও ফারাক ছিল না সেদিন! 

শিরোপা জিতে দেশে ফেরার পর থেকে বিদিশাকে নিয়ে আস্তে-আস্তে মাতামাতি শুরু হয়েছে। লোকে ধীরে-ধীরে চিনতে শুরু করেছে দেশের নাম উজ্জ্বল করা এই ২১ বছরের সাধারণ মেয়েটিকে। তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অনেত সেলেব্রিটি, সেই তালিকায় আছে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নামও। বিদিশাও প্রত্যুত্তরে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু একথাও জানাতে ভোলেননি যে, তাঁর লড়াই সবে শুরু হয়েছে। তাঁর মতো আরও অনেক মূক ও বধির ভারতীয় যেদিন সমাজের মূল স্রোতে ফিরে প্রাণ খুলে আনন্দের হাসি হাসবে, সেদিনই তিনিও অনেকটা, আরও অনেকটা খুশি হবেন!

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!