ত্বক-চুলের যত্ন নিতে বাড়িতেই তৈরি করে ফেলুন নানা উপকারী এসেনশিয়াল তেল!

ত্বক-চুলের যত্ন নিতে বাড়িতেই তৈরি করে ফেলুন নানা উপকারী এসেনশিয়াল তেল!

বহুদিন ধরেই ত্বক-চুলের যত্নে এবং শরীর সুস্থ রাখতে বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে অ্যারোমাথেরাপি জনপ্রিয়তা পেয়েছ। আর এই অযারোমাথেরাপির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হল রকমারি এসেনশিয়াল তেল। ত্বক-চুলের যত্নে তো বচেই, স্ট্রেস থেকে অ্যাংজাইটি, এমনকী ডিপ্রেশনের মতো সমস্যার প্রকোপ কমাতেও অ্যারোমাথেরাপির উপর ভরসা রাখেন অনেকেই। কিন্তু জানেন কি, ইচ্ছে থাকলে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন নানা ধরনের এসেনশিয়াল তেল। কীভাবে, সেটাই বলা হবে এখানে।


আরো পড়ুনঃ আমন্ড অয়েলের উপকারিতা ও অসংখ্য গুণাবলী


কী এই এসেনশিয়াল তেল?


বিশেষ কিছু গাছের পাতা এবং ফুল থেকে সংগ্রহ করা তেলকে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুদ্ধ করে তৈরি হয় এসেনশিয়াল তেল। পাতা এবং ফুলের নির্যাস থাকার কারণে এই তেল যেমন সুগন্ধিযুক্ত হয়, তেমনই নানা উপকারী উপাদানও মজুত থাকে এতে। তাই তো এসেনশিয়াল তেলের ব্যবহারে মেলে নানা উপকার। একাধিক গাছের পাতা এবং ফুল থেকে তৈরি হয় নানা ধরনের এসেনশিয়াল তেল। যেমন, পুদিনা পাতা থেকে যে তেল তৈরি হয় তা ক্লান্তি দূর করতে এবং হজম ক্ষমতার উন্নতিতে কাজে আসে। আবার Lavender তেলে নিমেষে স্ট্রেস কমায়। চন্দন তেল যেখানে নার্ভকে শান্ত রাখে এবং মনোযোগ বাড়ায়, সেখানে গোলাপ ফুল থেকে তৈরি এসেনশিয়াল তেলকে কাজে লাগালে অ্যাংজাইটির প্রকোপ কমে। আবার Chamomile তেল, টি ট্রি তেল এবং লেমন তেল, মাথা যন্ত্রণা কমাতে এবং অবসাদ দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।


বাড়িতে কি তৈরি করা সম্ভব এসেনশিয়াল তেল (Essential Oils)?


সম্ভব, তবে কতগুলি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। যেমন ধরুন, ডিস্টিলেশন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে মূলত এসেনশিয়াল তেল তৈরি করা হয়ে থাকে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন পড়ে এমন কিছু গাছের পাতা এবং ফুলের, যা অনেকসময়ই সহজলভ্য নয়। ফলে খরচও অনেক। তাই বাড়িতে এসেনশিয়াল তেল না বানিয়ে তার তুতো ভাই, ইনফিউজড অয়েল বানিয়ে ফেলতে পারেন। এই তেল এসেনশিয়াল অয়েলের মতোই উপকারী। শুধু ব্যবহারের সময় একটু বেশি পরিমাণে নিতে হবে, তা হলেই এসেনশিয়াল তেলের মতোই উপকার মিলবে। আর ইনফিউজড তেল তৈরি করাও খুব সহজ। তাই কম খরচে যদি এসেনশিয়াল তেলের উপকার পেতে চান, তা হলে জেনে নিন ইনফিউজড তেল তৈরির নানা সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে।


এসেনশিয়াল তেল এবং ইনফিউজড তেলের মধ্যে পার্থক্য কী?


প্রথম পার্থক্য হল এসেনশিয়াল তেল তৈরি হয় গাছের পাতা অথবা ফুলের নির্যাস থেকে। তাই এই তেল খুব কড়া হয়। এই কারণেই সরাসরি ত্বকের উপরে এসেনশিয়াল তেল লাগাতে মানা করা হয়। অন্যদিকে ইনফিউজড তেলে ফুল বা গাছের নির্যাস ব্যবহার করা হয় না। পরিবর্তে ফুল-পাতা-গুল্ম মেশানো হয় নানা ধরনের তেলের মধ্যে। তাই এই তেল অপেক্ষাকৃত হলকা হয়। আর তাই তা বেশি মাত্রায় ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। এক্ষেত্রে আর একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে। তা হল, কালো কাঁচের শিশিতে এসেনশিয়াল তেল না রাখলে সহজে তা খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু ইনফিউজড অয়েল যে-কোনও শিশিতেই রাখা যেতে পারে।


POPxo recommends: Deve Herbes Pure Lavender Essential Oil


বাড়িতে গোলাপ থেকে তেল তৈরির পদ্ধতি


হাফ কাপ গোলাপের পাপড়ি নিয়ে থেঁতো করে নিন। তারপর থেঁতো করা গোলাপের পাপড়িগুলি একটা পাত্রে নিয়ে তাতে হাফ কাপ পছন্দের যে-কোনও তেল মিশিয়ে মুখটা বন্ধ করে দিন। এবার ভাল করে নাড়ান, যাতে গোলাপের পাপড়ির সঙ্গে তেলটা মিশে যেতে পারে। এভাবে সারা দিনরাত রেখে দিন। পরের দিন মিশ্রণটা ছেঁকে নিয়ে গোলাপের পাপড়িগুলো ফেলে দিন। এরপরে আবার হাফ কাপ গোলাপের পাপড়ি নিয়ে ওই তেলে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। সময় হয়ে গেলে খেয়াল করুন গোলাপের পাপড়িগুলি ঠিক মতো তেলে মিশে গেছে কিনা। যদি এমনটা হয়, জানবেন আপনার রোজ ইনফিউজড অয়েল তৈরি। এবার তেলটা একটা কাঁচের শিশিতে ঢেলে রেখে দিন।


POPxo recommends: Old Tree Rose Essential Oil, 15 ml


বাড়িতে Jasmine-Lavender Oil তৈরির পদ্ধতি


একটা পাত্রে হাফ কাপ করে জুঁই এবং lavender ফুল নিয়ে ভাল করে থেঁতো করে নিন। তারপর সেই ফুলগুলি একটা পাত্রে নিয়ে তাতে ১ কাপ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল মিশিয়ে মুখটা ভাল করে বন্ধ করে দিন। ৪৮ ঘণ্টা পরে তেলটা ছেঁকে নিয়ে ফুলের পাপড়িগুলি ফেলে দিন। এবার তেলটা একটা কাঁচের শিশিতে ঢেলে রেখে দিন। 


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!


এগুলোও আপনি পড়তে পারেন


ত্বক ও চুলের যত্নে ক্যাস্টর ওয়েল বা রেড়ির তেলের উপকারিতা


আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!