মগজাস্ত্রের ক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তির জোর বাড়াতে নিয়মিত করুন এই আসনগুলি

মগজাস্ত্রের ক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তির জোর বাড়াতে নিয়মিত করুন এই আসনগুলি

তিরিশের গণ্ডি পেরনো মাত্র শরীর বাবাজির ক্ষমতা যেমন কমতে শুরু করে, তেমনই ব্রেনও ( Brain) বেশ কাহিল হয়ে পরে। ফলে কথায়-কথায় ভুলে যাওয়ার মতো সমস্যা তো লেজুড় হয়। সেই সঙ্গে মনোযোগ ক্ষমতা এবং বুদ্ধির ধারও অনেকটাই কমে যায়। ফলে দৈনন্দিন জীবনে তো বটেই, সেই সঙ্গে কর্মজীবনেও নানাবিধ আসুবিধের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। এখন প্রশ্ন হল, বয়স বাড়লেও ব্রেন পাওয়ার যাতে কমে না যায়, তা সুনিশ্চিত করার কোনও উপায় আছে কি? আছে বই কী! যোগ গুরুদের মতে, নিয়ম করে নীচে উল্লিখিত এই আসনগুলি (Yoga) করলে ব্রেনের পেশির ক্ষমতা বাড়ে, স্ট্রেস-অ্যাংজাইটির প্রকোপও কমে, যে কারণে ব্রেন ফাংশনের এতটাই উন্নতি ঘটে যে স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগ ক্ষমতার উন্নতি ঘটতে যেমন সময় লাগে না, তেমনই বুদ্ধির ধারও বাড়ে। এমনকী, পেটের রোগ এবং মানসিক অবসাদের মতো সমস্যাও দূরে থাকতে বাধ্য হয়! চলুন, তা হলে দেখে ফেলা যাক, কোন আসনগুলি আপনার ডেলি রুটিনে ঢুকিয়ে ফেলতে হবে আপাতত...

আরও পড়ুনঃ শরীর চাঙ্গা রাখতে প্রতিদিন কপালভাতি প্রানায়াম

১. ভ্রামরী প্রাণায়াম

নিয়মিত এই আসনটি করলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা তো বাড়বেই, সঙ্গে রাগ এবং অ্যাংজাইটির মাত্রাও কমবে। শুধু তাই নয়, ভ্রামরীর গুণে মনোযোগ ক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটতে যেমন সময় লাগে না, তেমনই কানে কম শোনার মতো সমস্যাও নাকি অনেকটাই কমে।

আসনটি করার পদ্ধতি
সুখাসনে বা বজ্রাসনে বসে দু'হাতের আঙুল দিয়ে দু'কানের ছিদ্র বন্ধ করুন। এর পর জোরে শ্বাস টেনে ভ্রমরের মতো গুঞ্জন করতে-করতে শ্বাস ছাড়ুন। শ্বাস ছাড়ার সময় কানের পর্দায় একটা কম্পন অনুভব করবেন। এই ভাবে আসনটা কম করে তিরিশ সেকেন্ড করতে হবে। মনে রাখবেন, তিরিশ সেকেন্ড করে দিনে ছয় বার যদি আসনটি নিয়মিত করতে পারেন, তা হলে ফল মিলতে সময় লাগবে না।

২. বজ্রাসন

নিয়মিত বজ্রাসন করলে ব্রেনের ক্ষমতা তো বাড়েই, সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতার উন্নতি হয়, পায়ের বাত, হাঁটুতে ব্যথা, খিদে না হওয়ার সমস্যা, সায়াটিকা, ভেরিকোজ ভেন এবং অনেক পেটের রোগও দূরে পালায়। সেই সঙ্গে স্ট্রেস-অ্যাংজাইটির প্রকোপ কমার মতো উপরি পাওনা তো আছেই।

আসনটি করার পদ্ধতি
হাঁটু ভেঙে পায়ের পাতা মুড়ে গোড়ালির উপর ভর দিয়ে বসুন। এই সময় হাঁটু দুটো পাশাপাশি জোড়া অবস্থায় থাকবে। আর শিরদাঁড়া থাকবে একেবারে সোজা। হাত থাকবে হাঁটুর উপরে। এই অবস্থায় স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে নিতে তিরিশ সেকেন্ড থাকতে হবে। তারপর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে হবে। এইভাবে নিয়মিত বার তিনেক আসনটি করলে শরীর তো চাঙ্গা হয়ে উঠবেই, সেই সঙ্গে ব্রেনের ক্ষমতাও বাড়বে।

৩. হলাসন

এই আসনটি নিয়মিত করলে সর্দি কাশির সমস্যা, ব্রঙ্কাইটিস, কানের যন্ত্রণার মতো সমস্যা যেমন কমবে, তেমনই স্বপ্নদোষ, ব্লাডপ্রেশার, মৃগীরোগ, কানে কম শোনার মতো সমস্যাও ধারেকাছে ঘেঁষতে পারবে না। সেই সঙ্গে মগজাস্ত্রের ধার এবং স্মৃতিশক্তি, দুটিই বাড়বে পাল্লা দিয়ে। তাই তো ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত এই আসনটি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন যোগ গুরুরা।

আসনটি করার পদ্ধতি
চিত হয়ে শুয়ে হাত দুটো পাশে রাখুন। এবার পা দুটো জোড়া অবস্থায় মাটি থেকে তুলে ধীরে-ধীরে মাথার পিছনে নিয়ে যান এবং পায়ের আঙুলগুলি মাটিতে ঠেকান। এই সময় খেয়াল রাখবেন হাঁটু দুটো যেন বেঁকে না যায়। আর চিবুক যেন বুকের সঙ্গে লেগে থাকে। এই অবস্থায় স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস-প্রাশ্বাস নিতে নিতে দশ সেকেন্ড থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে হবে। তবে মাথায় রাখাবেন প্রতিদিন বারতিনেক আসনটি করলে তবেই কিন্তু নানা উপকার মিলবে।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

এগুলোও আপনি পড়তে পারেন

এইচ আই ভি ও এইডস এর লক্ষণ গুলো কি কি?

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!