পুজো স্পেশ্যাল: ৩০ দিনের মধ্যে ছোট্ট ভুঁড়িটি কমাতে চাইলে মেনে চলুন এই টিপসগুলি

পুজো স্পেশ্যাল: ৩০ দিনের মধ্যে ছোট্ট ভুঁড়িটি কমাতে চাইলে মেনে চলুন এই টিপসগুলি

যতই হাল ফ্যাশনের ড্রেস, নয়তো ফ্যাশনেবল শাড়ি পরুন না কেন, ভুঁড়ি থাকলে যে-কোনও স্টাইলই মাঠে মারা যেতে বাধ্য! তাই দুর্গাপুজো Durga Puja), মানে, বাঙালির সবচেয়ে বড় ফ্যাশন প্যারেডে আপানার নাম্বর কাটা যাক, এমনটা যদি না চান, তা হলে এখন থেকেই আদা জল খেয়ে ভুঁড়ি কমানোর চেষ্টায় লেগে পরুন। ভাবছেন, হাতে তো মাত্র এক মাসে, এত কম সময়ে মেদ ঝরবে কিনা? আলবাত ঝরবে! তবে তার জন্য মন প্রাণ দিয়ে ঘাম ঝরাতে হবে, সঙ্গে ডায়েটের দিকে নজর ফেরানোও মাস্ট! তাহলেই ফল পাবেন হাতে নাতে! তাই আর সময় নষ্ট না করে চলুন ঝটপট ভুঁড়ি কমানোর কিছু কার্যকরী টিপস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১. বেশি করে খেতে হবে ফাইবার আর কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট

রোজের ডায়েটে বেদানা, খেজুর, জাম, ওটস, মিলেট, মিষ্টি আলু, বিটরুট এবং স্প্রাউটের মতো ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার থাকাটা যেমন জরুরি, তেমনই বেশি করে খেতে হবে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারও। তাতে কি উপকার মিলবে? শরীরে ফাইবার এবং কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বাড়তে শুরু করলে বহুক্ষণ পেট ভার থাকে। ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমতে শুরু করে। আর কম খেলে শরীরে ক্যালরির প্রবেশ কম হয়, যে কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। বিশেষ করে অল্প সময়েই ভুঁড়ি কমে। ফাইবার এবং কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি সপ্তাহে দিন তিনেক তেল বেশি রয়েছে এমন মাছ খাওয়া উচিত। তাতে শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে শুরু করবে। ফলে মেটাবলিক রেট এতটাই বাড়বে যে শরীরের ইতি-উতি জমে থাকা মেদ ঝরে যেতে সময় লাগবে না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হোল গ্রেন, জাম, আপেল, মিষ্টি আলু, ডাল এবং ব্রাউন রাইসে প্রচুর পরিমাণে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট মজুত থাকে।

২. ক্যালরির মাত্রা কমাতে হবে

চটজলদি ওজন কমাতে শরীরে যাতে কম পরিমাণে ক্যালরির প্রবেশ ঘটে, সেদিকে যেমন নজর রাখতে হবে, তেমনই শরীরচর্চার মাধ্যমে যত বেশি মাত্রায় সম্ভব ক্যালরি ঝরাতে হবে, তাহলেই ওজন কমবে তরতরিয়ে। কোন কোন খাবারে বেশি মাত্রায় ক্যালরি মজুত থাকে? এক্ষেত্রে ভাজাভুজি জাতীয় খাবার যেমন এড়িয়ে চলতে হবে, তেমনই মিষ্টি, কোল্ড ড্রিঙ্ক এবং জাঙ্ক ফুড খাওয়াও চলবে না। সেই সঙ্গে সিম্পল কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার, যেমন সাদা ভাত এবং রুটিও যতটা সম্ভব কম খেতে হবে।

৩. শরীরচর্চা

দ্রুত ভুঁড়ি (Tummy) কমাতে চান তো ডায়েটিংয়ের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা করা মাস্ট! কারণ, ডায়েটিং-এর মাধ্যমে কম-বেশি প্রায় ৭০ শতাংশ মেদ ঝরিয়ে ফেলা সম্ভব হলেও বাকি ৩০ শতাংশ ফ্যাট বার্ন করতে এক্সারসাইজের উপর ভরসা রাখতেই হবে। তাই নিয়ম করে মিনিটকুড়ি হাঁটাহাঁটি করা মাস্ট! ইচ্ছা হলে টানা আধ ঘণ্টা দ্রুত গতিতে সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামাও করতে পারেন, তাতেও ব্যাপোক ক্যালরি বার্ন হয়। সঙ্গে আরও তিনটি ব্যায়াম নিয়মিত করতে হবে। 

ক. প্ল্যাঙ্ক

ম্যাটের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে হাতের পাতার উপর ভর দিয়ে আস্তে-আস্তে শরীরটা উপরে তুলুন। পায়ের ভর থাকবে বুড়ো আঙুলের উপর। খেয়াল রাখবেন, এই সময় পা দুটো কাঁধের সোজাসুজি রাখতে হবে। এবার হাত দুটো পুরো স্ট্রেচ করে হাঁটু এবং পেট, মাটি থেকে যতটা সম্ভব উপরে তুলুন। এই পজিশনে দশ-কুড়ি সেকেন্ড থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে হবে। দিনে মোট পাঁচবার এই ব্যায়ামটা করলে ভুঁড়ি কমতে সময় লাগবে না।

খ. তদাসন

পেটের মেদ ঝরাতে এই আসনটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এক্ষেত্রে পা দুটো জড়ো করে সোজা টানটান হয়ে দাঁড়ান। খেয়াল রাখবেন, এই সময় শিরদাঁড়া যেন সোজা থাকে। এবার পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে পুরো শরীরটা উপরে তুলুন। সেই সঙ্গে হাতের পাতা দুটো একসঙ্গে জোড় করে উপরের দিকে স্ট্রেচ করুন। শরীরটা যতটা সম্ভব স্ট্রেচ করে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে নিতে এই পজিশনে কম করে ২০ সেকেন্ড থাকার চেষ্টা করুন। তারপর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন। নিয়মিত মোট তিনটে সেট করতে হবে, তবেই উপকার মিলবে।

গ. পবনমুক্তাসন

চিত হয়ে শুয়ে পা দুটো লম্বা করুন। এই সময় হাত দুটো থাকবে গায়ের সঙ্গে লেগে। এবার ধীরে-ধীরে ডান পা, হাঁটু থেকে ভেঙে হাঁটুটা বুকের উপর তুলুন। হাঁটুর নীচে হাত দুটো এমনভাবে রাখুন যেন ডান হাতের চেটো, বাঁ হাতের কনুইয়ের উপরে, আর বাম হাতের চেটো ডান হাতের কঁনুইয়ের উপরে থাকে। এই ভাবে ধীরে-ধীরে বুকের উপর চাপ দিন। এই পজিশনে ৩০ সেকেন্ড থেকে একই ভাবে বিপরীত পায়েও করতে হবে। দু'পা করা হল মানে একটা সেট হল। এই ভাবে মোট পাঁচটা-ছটা সেট করতে হবে।

৪. বেশি করে জল খেতে হবে

জল খাওয়ার সঙ্গে পেটের মেদ কমার কী সম্পর্ক, তাই ভাবছেন নিশ্চয়ই? আসলে দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল না খেলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দেয়। আর এমনটা দিনের পর দিন হলে শরীর তখন জলের চাহিদা মেটাতে জলের খরচ কমিয়ে জমাতে শুরু করে। এই ভাবে water retention হতে থাকলে ওজন বাড়তে সময় লাগে না। বিশেষ করে ভুঁড়ি বাড়তে শুরু করে। তাই পেটের মেদ ঝরাতে যদি চান, তা হলে ওয়াটার রিটেনশন যাতে না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। আর তার জন্য প্রতিদিন তিন-চার লিটার জল না খেলে চলবে না।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!