বর কি অবাঙালি? তাহলে তো দাম্পত্যকে সুন্দর করে তুলতে এই টিপসগুলি মাথায় রাখুন

বর কি অবাঙালি? তাহলে তো দাম্পত্যকে সুন্দর করে তুলতে এই টিপসগুলি মাথায় রাখুন

আজকাল চাকরি সূত্রে অনেকেই দক্ষিণ ভারতের নানা শহরে ছড়িয়ে পড়ছে, নয়তো মুম্বই-দিল্লির দিকে ছুট লাগাচ্ছে। তাতে নানা জাতি-ধর্মের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠার সুযোগ মিলছে। আর তার মধ্যে থেকেই অনেকে মনের মতো জীবনসঙ্গীর সন্ধান পাচ্ছেন। তাছাড়া আজকের দিনের বাবা-মায়েরাও অনেক বেশি লিবারেল। তাই তো বাঙালি ছেলেকেই বিয়ে করতে হবে, সে নিয়ে কেউ আর জোর ফলায় না। ফলে অবাঙালি ছেলেকে ভালবেসে বিয়ে করার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। আর এটা যে সব দিক থেকেই সামাজিক প্রগতির সুলক্ষণ, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু আরও একটা বিষয়ও খেয়াল রাখতে হবে। সেটা কী? একথা মানতেই হবে যে অনেক কারণেই অন্য ধর্ম বা ভাষাভাষীর মানুষের সঙ্গে সারা জীবন কাটানোটা সহজ কাজ নয়। তাই বিয়ের তরী যাতে তীরে এসে না ডোবে, তা সুনিশ্চিত করতে মানসিকতায় পরিবর্তন আসাটা জরুরি। সঙ্গে এই টিপসগুলি (tips) মাথায় রাখলে তো আর কোনও কথাই নেই!

একে অপরের সংস্কৃতিকে বুঝতে শিখুন

pixabay

আপনি যাকে বিয়ে করতে চলেছেন, তাঁর সংস্কৃতি, ভাষা এবং খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ধাতস্থ হয়েছেন কি? যদি এখনও না হয়ে থাকেন, তাহলে ঝটপট চেষ্টা শুরু করে দিন! কারণ, যত তাড়াতাড়ি এই কাজটা সেরে ফেলতে পারবেন, ততই মঙ্গল। মনে রাখবেন, বাঙালিদের খাওয়াদাওয়া এবং কথা বলার ধরন কিন্তু অন্য রাজ্যের বাসিন্দাদের থেকে একেবারেই আলাদা। তাই তো ভিন রাজ্যের ছেলেকে বিয়ে করলে হঠাৎ করে এমন অজানা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে উঠতে সমস্যা হতে পারে। আর সেই নিয়ে বরের সঙ্গে মনোমালিন্য হতে পারে। তাই বিয়ের আগে থাকতেই এই নিয়ে চেষ্টা চালাতে হবে। অল্প সময়ে নতুন করে একটা ভাষা শিখে ফেলাটা হয়তো সম্ভব হবে না। কিন্তু চেষ্টা করতে ক্ষতি কী? তাছাড়া বরের মাতৃভাষা সম্পর্কে একটু ধরণা করে নিতে পারলে শশুর-শাশুড়ির সঙ্গে দূরত্ব কমতেও দেখবেন সময় লাগবে না। খাওয়ার-দাওয়ার ক্ষেত্রেও একটু নমনীয় হতে হবে। ধরুন আপনার বর দক্ষিণ ভারতীয়। তাহলে তো তিনি ধোসা, ইডলি, রসম-রাইস খেতেই ভালবাসবেন। এদিকে আপনি হলেন গিয়ে মাছে-ভাতে বাঙালি। এই দুই মেরুর মিল হতে একটু সময় লাগবে ঠিকই। কিন্তু চেষ্টা থামালে চলবে না, তাহলেই দেখবেন ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। আচ্ছা, তাহলে কী করণীয়? একটা কাজ করুন। সপ্তাহে তিনদিন বরকে বাঙালি খাবার খাওয়ান। বাকি তিনদিন আপনি বরের পছনসই দক্ষিণী খাবার চেখে দেখুন। একদিন নিজেদের পছন্দ মতো যে কোনও ধরনের খাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই পারেন। এমনটা করলে বরও খুশি থাকবে, আর আপনারও নতুন ধরনের খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে উঠতে সমস্যা হবে না।

পরিবারের খুঁটিনাটি বিষয়গুলি নজরে রাখুন

pexels

প্রতিটি জাতিরই নিজস্ব কিছু সংস্কৃতি এবং পোশাক রয়েছে। দক্ষিণ ভারতীয় ছেলেরা যেমন বিশেষ দিনে পাঞ্চে পরেন, যাকে কথ্য ভাষায় লুঙ্গিও বলা যেতে পারে। এদিকে বাঙালি ছেলেরা ধুতি-পাঞ্জাবী পরতেই বেশি স্বচ্ছদ বোধ করেন। আপনার বর (non-bengali person) যে জাতির তাঁরা বিশেষ দিনে কেমন ধরনের পোশাক পরেন, তা একটু জেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। মেয়েরাই বা কেমন ধরনের শাড়ি পরতে ভালবাসেন, সে সম্পর্কেও একটু রিসার্চ করে নিতে ভুলবেন না যেন! সম্ভব হলে শাড়ি পরার পদ্ধতিটা ইউটিউব দেখে শিখেও নিতে পারেন। তাতে করে বরের মন জয় করতে তো পারবেনই, সেই সঙ্গে শ্বশুর-শাশুড়িও খুশি হবেন। এই সব শুনে প্রশ্ন করতেই পারেন, এত কিছু করার কি আদৌ কোনও প্রয়োজন রয়েছে? সফল সম্পর্কের বুনিয়াদ কিন্তু এই সব ছোট ছোট বিষয়ের উপর ভিত্তি করেই আরও জোরদার হয়ে ওঠে। তাই তো নতুন পরিবারের খুঁটিনাটি নানা বিষয় শিখে নেওয়াটা জরুরি। এমনটা করতে পারলে দেখবেন এর সুফল আপনি পাবেনই।

আরও পড়ুন: গায়ে হলুদ থেকে বিয়ে: হবু কনের জন্য বাছাই করা ব্লাউজের ডিজাইন

বাবা-মায়েদের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যান

pixabay

আপনার বাবা-মা এবং শশুর-শাশুড়ির পক্ষে নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে ওঠতে একটু সময় লাগবেই। মনে রাখতে হবে, দুই পরিবারের ভাষা, সংস্কৃতি এবং চলন-বলন একেবারেই আলাদা। তাই সংকোচ বোধ তো থাকবেই। তাই তো আপনাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে এমন কিছু করতে হবে, যাতে দুই পরিবার একে অপরের আরও কাছাকাছি এসে যাওয়ার সুযোগ পায়। আর একবার যদি এমনটা করে উঠতে পারেন, তাহলে জানবেন আপনাদের বৈবাহিক জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তেমন কোনও সমস্যাই হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হল, কীভাবে করবেন এই কাজটা? দুই পরিবার মিলে দিন দশেকের জন্য কোথাও থেকে ঘুরে আসুন। তাতে করে আপনাদের বাবা-মায়েরা একে অপরের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। ফলে বেয়াই-বেয়ানদের স্বভাব এবং তাঁদের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে প্রত্যেকেই একটা ধরণা করে নিতে পারবেন। আর এই সুযোগে দেখবেন দুই পরিবার আরও কাছাকাছি এসে গিয়েছে।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আমাদের এক্কেবারে নতুন POPxo Zodiac Collection মিস করবেন না যেন! এতে আছে নতুন সব নোটবুক, ফোন কভার এবং কফি মাগ, যেগুলো দারুণ ঝকঝকে তো বটেই, আর একেবারে আপনার কথা ভেবেই তৈরি করা হয়েছে। হুমম...আরও একটা এক্সাইটিং ব্যাপার হল, এখন আপনি পাবেন ২০% বাড়তি ছাড়ও। দেরি কীসের, এখনই POPxo.com/shopzodiac-এ যান আর আপনার এই বছরটা POPup করে ফেলুন!