নাইটলাইফ এবং ফুড

তেল চুপচুপে তেলেভাজা খেতে বড় খাসা!

popadminpopadmin  |  Jun 7, 2019
তেল চুপচুপে তেলেভাজা খেতে বড় খাসা!

বর্ষা যখন দোরগোড়ায়, বাঙালির তখন দুটো খাবারের কথা মনে আসবেই আসবে। এক তো খিচুড়ি, দুই হল তেলেভাজা (Telebhaja)। ভাবুন তো, মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে শহরে। আর আপনি তখন মুড়ির সঙ্গে গরম-গরম বেগুনি-পিঁয়াজি সহযোগে বিকালের চা পর্ব সারছেন। কেমন জমে উঠবে না বিকেলটা! এই বিশেষ খাবারটির প্রতি বাঙালির দুর্বলতা বহুকালের। শোনা যায় রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ এবং নেতাজির মতো মনীষীদেরও নাকি বড্ড প্রিয় ছিল এই খাবারটি! তবে তেলেভাজা মানে শুধুই বেগুনি আর আলুর চপ নয় কিন্তু! কত ভ্যারিয়েশন তাতে। রয়েছে পিঁয়াজি, ফুলুরি, মোচার চপ। রয়েছে পনিরের চপ এবং মাছের চপের মতো ফ্রাইও। এমনকী, হালফিলের ফুলকপি, লঙ্কা, টোম্যাটোর সঙ্গে মটন চপ এবং ভেটকির চপও বঙ্গজীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে! কিন্তু জানা আছে কি, কলকাতার সেরা চপের দোকানের শিরোপা কাদের দখলে? জেনে নিন আমাদের থেকে। Kolkata-এর প্রথম সারির চারটি চপের দোকানের হদিশ দিলাম আমরা।

১. লক্ষ্মী নারায়ণ সাউ অ্যান্ড সন্স

কলকাতার ঐতিহ্যশালী তেলেভাজার দোকানগুলির মধ্যে অন্যতম হল এটি। ১৯১৮ সালে খেদু সাউ নামে এক ব্যক্তির হাত ধরে এই চপের দোকানের যাত্রা শুরু। সে সময় ছোট্ট ঝুপরিতে ব্যবসা শুরু করে খেদু, যা আজ কলেবরে অনেকটাই বেড়েছে। শোনা যায়, সে সময় খেদু সাউয়ের চপের দোকানে ভিড় জমাতেন অনেক স্বাধীনতা সংগ্রামীও! এমনকী, নেতাজিও নাকি এই দোকানে প্রায়ই তেলেভাজা খেতে আসতেন। তাই তো আজও নেতাজির জন্মদিনে খেদু সাউয়ের উত্তরসূরিরা বিনামূল্যে নানা স্বাদের চপ খাইয়ে থাকেন পথচলতি মানুষদের। জহর রায় এবং ভানু ব্যানার্জির মতো বিখ্যাত অভিনেতাদেরও নাকি পায়ের ধুলো পড়েছে এই দোকানে। বুঝতেই পারছেন, এমন বিখ্যাত তেলে ভাজার দোকানে একবার ঢুঁ না মারলেই নয়!

ঠিকানা: ১৫৮ বিধান সরণি, কলকাতা।

মাস্ট ট্রাই: এখানকার আলুর চপ এবং পিঁয়াজি খুব মুখরোচক। আবার ভেজিটেবল চপ এবং আমের চপও খেতে মন্দ নয়।

দ’জনের খরচ: মাথা পিছু ৪-১০ টাকা।

২. কালিকা

আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে, কালী পুজোর দিন এই দোকান খোলা হয়। তাই তো দোকানের নাম কালিকা। শিয়ালদহ-কলেজ স্ট্রিট চত্ত্বরে কালিকার তেলেভাজার জনপ্রিয়তা আকাশছোঁওয়া। এর পিছনে একটা কারণ যদি হয় চপের স্বাদ, তা হলে দ্বিতীয় কারণটা অবশ্যই চপের সাইজ! অন্যান্য তেলেভাজার দোকানে যে আকারের বেগুনি-আলুর চাপ পাওয়া যায়, তার চেয়ে ঢের বড় কালিকার চপ। তাই তো দোকান খোলা থেকে বন্ধ হওয়া পর্যন্ত কালিকার সামনে ভিড় কখনও পাতলা হয় না।

ঠিকানা: ২৯ সূর্য সেন স্ট্রিট। কলেজ স্কোয়্যার থেকে কিছুটা এগিয়ে ডান দিকে।

মাস্ট ট্রাই: ডিমের ডেভিল এবং ভেটকির চপ। এখানকার আলুর চপ এবং মোচার চপও বেশ জনপ্রিয়।

দু’জনের খরচ: মাথা পিছু ১০-২০ টাকা।

আরও পড়ুন: ২৫ পয়সায় কচুরি আর এক টাকায় তেলেভাজা? বলেন কী মশাই? কোথায়?

৩. মুখোরুচি

কলকাতার চপের দোকান নিয়ে যখন আলোচনা, তখন মুখোরুচির নাম না করলেই নয়। এখানকার তেলেভাজা নাকি রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের খুব প্রিয় ছিল! নাট্যকার গিরিশ ঘোষও নাকি প্রায়ই ঢুঁ মারতেই এই চপের দোকানে! আজ থেকে কয়েক দশক আগে ফাগুলাল সাউ শুরু করেন এই চপের দোকান, যার জনপ্রিয়তা আজও একটুও কমেনি।

ঠিকানা: বরাহনগরের গোপাল লাল ঠাকুর রোডে কাছে।

মাস্ট ট্রাই: এখানকার আলুর চপ এবং ফুলুরি বেজায় মুখরোচক।

দু’জনের খরচ: কম-বেশি ১৫-২০ টাকা।

৪. পটলার চপের দোকান

দোকানের নামটা একটু অন্য ধরনের হলেও উত্তর কলকাতার বাসিন্দাদের কাছে এটা খুবই চেনা নাম। বাগবাজার স্ট্রিটের এই তেলেভাজার দোকনটি আজ থেকে প্রায় নব্বই বছর আগে খোলা হয়। শুরু করেন শশীভূষণ সেন নামে এক ব্যক্তি। সেই থেকেই সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছে পটলার চপের দোকান। এই দোকানে শুধুমাত্র নিরামিষ চপ বিক্রি হয়। অর্থাৎ কলকাতার বাকি চপের দোকানগুলিতে যেখানে আলুর চপ আর বেগুনির পাশাপাশি দেদার বিকোচ্ছে মটন এবং মাছের চপ, সেখানে পটলার চপের দোকানে আলুর চপ, ভেজিটেবল চপ, মোচার চপ এবং পটলের চপ লাইন দিয়ে কিনছেন স্থানীয়রা।

ঠিকানা: ১৮ সি বাগবাজার স্ট্রিট।

মাস্ট ট্রাই: আলুর এবং মোচার চপ।

দু’জনের খরচ: ১০-২০ টাকার মতো।

আরও পড়ুন: ফুডি এবং মুডিরা ভিড় জমান পার্ক স্ট্রিটের এই ১২টি রেস্তরাঁয়! 

যেভাবে গত কয়েক শতাব্দী ধরে এই তেলেভাজার দোকানগুলি মাথা উঁচু করে ব্যবসা করে যাচ্ছে, তাতে একথা না বললেই নয় যে, ফাস্ট ফুডের এমন জনপ্রিয়তার মাঝেও বাঙালি জীবনে তেলেভাজার কদর কিন্তু আজও একটুও কমেনি। আর কমবে বলেও মনে হয় না!

picture courtesy: youTube

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!