Dating

নিজের সম্পর্কের খুঁটিনাটি আপনি কি সোশ্যাল মিডিয়ায় জাহির করেন? জেনে নিন, তা ভাল না খারাপ!

Parama SenParama Sen  |  Aug 21, 2019
নিজের সম্পর্কের খুঁটিনাটি আপনি কি সোশ্যাল মিডিয়ায় জাহির করেন? জেনে নিন, তা ভাল না খারাপ!

দেখুন ভাই, অস্বীকার করে লাভ নেই, বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া আমাদের এক পা-ও চলে না। তা সে ফেসবুকই হোক কিংবা ইনস্টাগ্রাম কিংবা আরও সোশ্যাল মউমাছিদের জন্য টুইটার! লিঙ্ক আপ টু ব্রেক আপের খবর আমরা পাই সোশ্যাল মিডিয়া (social media) থেকে! কে কাকে কোথায় ফলো-আনফলো করলেন, সেটার উপর ভিত্তি করে সেই ব্যক্তি সিঙ্গল নাকি কমিটেড, সেই রিলেশনশিপ (relationship) স্টেটাস নির্ভর করে। একথা শুধু সেলেব্রিটিদের জন্য নয়, আমাদের মতো ছাপোষা মধ্যবিত্তদের জন্যও সত্যি। আপনিই বলুন তো, আপনার কোন বন্ধু কার সঙ্গে সিনেমা দেখতে গিয়ে হলের বাইরে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্টালেন, তা দেখে আপনি বোঝেন কিনা যে, তার সঙ্গে এখন কে ইন আর কে-ই বা আউট? কিংবা আপনার নিজের সম্পর্ক পাকাপোক্ত হওয়ার পর ফেসবুকে দুজনের হাসিমুখের ছবি পোস্ট করেছিলেন কিনা আর ইনস্টায় সেই একই ছবির তলায় আপনার বয়ফ্রেন্ড লাভ সাইন এঁকে কমেন্ট করেছিল কিনা!

না, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সম্পর্ক জাহির করতে কোনও অসুবিধে নেই। মাধ্যমটির নামই যখন সোশ্যাল, তখন আর তার সদ্বব্যহার করবেন না কেন! কিন্তু লোকে বলে, অতিরিক্ত জাহির করতে গিয়ে অনেক সময় নাকি নিজের অজান্তেই আমরা লেবুটা একটু বেশিই কচলে ফেলি! মানে, সম্পর্ক নিয়ে গলাবাজি করতে গিয়ে হয়তো দেখলেন যে, সম্পর্কটাই ঘোলাটে হয়ে গেল। কিংবা কোনও একদিন আপনার বয়ফ্রেন্ড তার ছোটবেলার বান্ধবীকে নিয়ে ফোটো পোস্টাল, আর তা দেখে আপনার মনে সন্দেহের মেঘ উঁকিঝুঁকি মারতে শুরু করল! যাঁরা বিবাহিত, তাঁদের অবস্থা তো আরও সঙ্গীন! অনেকে তো নিজের স্বামীকে স্টকও করে থাকেন সোশ্যাল মিডিয়ায়! তাই আমরা এখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পর্ক জাহির করার ভাল আর মন্দ দুই দিক সম্বন্ধেই আলোচনা করছি। তারপর আপনারাই বুঝেশুনে নিন যে, কোনটা আপনার সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানানসই!

সোশ্যাল মিডিয়া কীভাবে আপনার সম্পর্কে কালো মেঘ এনে দিতে পারে

pixabay

প্রথমে খারাপ দিকটা নিয়েই আলোচনা করা ভাল। তারপর না হয় ভাল দিকগুলো সম্বন্ধে কথা বলা যাবে!

১. রিলেশনশিপ স্টেটাস নিয়ে অশান্তি: প্রেমে পড়লে কিংবা বিয়ে করলে আজকাল বেশিরভাগ লোকই যেটা করে তা হল সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলেশনশিপ স্টেটাস পাল্টে দেওয়া! এটার মধ্যে একটা অদ্ভুত আনন্দ আছে! এক ধাক্কায় আপনি সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিলেন যে, আপনি সৌভাগ্যবতী, কারণ, আপনার জীবনে একটি বিশেষ মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে! কিন্তু আপনার সঙ্গীটিও এই স্টেটাস চেঞ্জে খুশি তো? তিনিও কি পাল্টেছেন নিজের স্টেটাস, নাকি তিনি এই ব্যাপারটা সোশ্যাল ওয়ালে জাহির করতেই চান না! তা হলেই চিত্তির! আপনি হচ্ছেন বহির্মুখী আর আপনার সঙ্গীটি (partner) ইন্ট্রোভার্ট! এবার ঠেলা বুঝুন! এদিকে আপনার মনে হচ্ছে, কেন তিনিও স্টেটাস পাল্টাচ্ছেন না! তার মানে, নিশ্চয়ই কোনও গন্ডগোল! ব্যস আর যায় কোথায়, রোজ এই নিয়ে অশান্তি শুরু হল বলে!

২. কার পোস্টে লাইক কত বেশি: এই ব্যাপারটা আজকাল প্রতিযোগিতার পর্যায়ে চলে গিয়েছে! যদি দেখেন, আপনার সঙ্গীটি একই ছবি পোস্ট করে আপনার চেয়ে বেশি লাইক পেয়েছেন, অমনই আপনার মনে কুটকুটানি শুরু! কী করে পেল, কার কাছ থেকে পেল, দেখি তো কারা-কারা লাইক করল, ও মা, এরা তো আমার ফ্রেন্ড লিস্টেও আছে, কিন্তু আমারটায় লাইক করেনি…ইত্যাদি ইত্যাদি! সোশ্যাল মিডিয়া দিল তো আপনাদের মধ্যে অশান্তি ঢুকিয়ে!

৩. কে-কে কমেন্ট করেছে: এটা আরও বিশ্রী ব্যাপার। আপনার পোস্টে আপনার এক্স-এর কমেন্ট এবং আপনার সঙ্গীটির পোস্টে তার এক্স-এর একটা ছোট্ট কমেন্ট আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট! এবার ম্যাও সামলান!

৪. স্টকিং চালু: কয়েকটা দিন যদি এভাবে কাটে, এবার নিশ্চিতভাবে আপনারা পরস্পর পরস্পরকে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্টক করতে শুরু করবেন! সারা দিন ওত পেতে থাকবেন উল্টোদিকের মানুষটির সোশ্যাল গতিবিধি জানার জন্য! গেল তো রাতের ঘুম ছুটে?

৫. মান-অভিমান ব্যক্ত করার জন্য এটাই কি প্ল্যাটফর্ম: যদি সেটা হয়ে থাকে, তা হলে আপনার সম্পর্ক বেশিদিন টিকবে না ভাই! তার সঙ্গে ঝগড়া করে আপনি লিখলেন ফিলিং লো কিংবা তার সঙ্গে রোম্যান্টিক ডিনারে যাওয়ার পর আপনার উচ্ছ্বাস, এনজয়িং আওয়ারসেলভস…কী দরকার বলুন দিকি! ব্যক্তিগত ব্যাপার দুনিয়ার সামনে খোলা খাতার মতো করে দেওযার! 

সোশ্যাল মিডিয়া কিন্তু সম্পর্ককে মজবুতও করতে পারে

pixabay

বলেছিলাম না, ভাল-মন্দ দুটো দিকই আছে? মন্দটা তো শুনলেন। এবার ভাল দিকগুলো গুছিয়ে বলে দিই!

১. গোপনীয়তা থাকে না, ফলে বিশ্বাস বাড়ে: আপনার জীবনটি যদি সকলের সামনে ২৪ ঘণ্টা খোলা খাতার মতো থাকে, তা হলে তো আর আপনি কিছু লুকোচ্ছেন না আপনার পার্টনারের কাছ থেকে! তাঁকে সেকথা খুলে বলুন। প্রয়োজন হলে দুজনে দুজনের সঙ্গে নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়ার পাসওয়ার্ড শেয়ার করুন। এতে বিশ্বাসের বন্ধন আরও মজবুত হবে!

২. কাপল অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন: সম্পর্ক শুরু হওয়ার পর যদি দুনিয়াকে জানাতেই ইচ্ছে করে, তা হলে দুজনে মিলে একটা কাপল অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলুন না! সেখানে দুজনেরই অ্যাকসেস থাকবে এবং নিজেদের সম্বন্ধে যে-কোনও ঘোষণা একযোগেই করবেন না হয়!

৩. প্রথম লাইক-কমেন্ট যেন আপনারই হয়: স্টকিং নয়, বরং খেয়াল করুন। আপনার বয়ফ্রেন্ডের জিম সেলফিতে গিয়ে নিজেই প্রথমে লিখে দিন, ‘টেকেন!’ কিংবা নিজের একটি চোখধাঁধানো ছবির ক্যাপশনে লিখুন, ‘আমি তোমারই…।’ ব্যস, এটুকু স্বচ্ছতাই যথেষ্ট। পরস্পরের সঙ্গে হাসিঠাট্টাও করতে পারবেন কমেন্ট-ইমোজির মাধ্যমে! শুধু, তা যেন কটূক্তি না হয়।

৪. মনের কথা লিখে বোঝান: অনেকসময় সম্পর্কের অনেক অভিব্যক্তিই না বলা হয়ে থেকে যায় স্রেফ সময় কিংবা সুযোগের অভাবে। সেগুলো লিখে ফেলুন কমেন্ট হিসেবে! দেখবেন, সোশ্যাল মিডিয়া আপনাদের দুজনের মধ্যে এক অদৃশ্য সেতুর মতো কাজ করছে!

৫. সম্পর্কে দূরত্ব আসবে না: এখ কর্মসূত্রে কিংবা পড়াশোনার সূত্রে অনেকসময়ই অনেকে কাপল একসঙ্গে থাকতে পারেন না! সেক্ষেত্রে তো সোশ্যাল মিডিয়া আশীর্বাদ! যোগাযোগের এমন সুন্দর মাধ্যম আর নেই বললেই চলে। ছবি ও ক্যাপশনের মাধ্যমে উল্টোদিকের মানুষটি কেমন আছেন, তা জানতে পেরে যাবেন। এটাই বা কম কীসের! 

মূল ছবি সৌজন্য: শাটারস্টক ও ইনস্টাগ্রাম

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!