Advertisement

বিউটি প্রোডাক্টস নিয়ে নানা তথ্য

পুজো স্পেশ্যাল রূপচর্চা: এবার বাড়িতেই করে ফেলুন গোল্ড, পার্ল ও ডায়মন্ড ফেসিয়াল

Parama SenParama Sen  |  Sep 11, 2019
পুজো স্পেশ্যাল রূপচর্চা: এবার বাড়িতেই করে ফেলুন গোল্ড, পার্ল ও ডায়মন্ড ফেসিয়াল

মুখে হিরে, মুক্তো কিংবা সোনা মাখছেন, তা দিয়ে ত্বকের যত্ন নিচ্ছেন, ভাবলেই মনটা খুশি-খুশি হয়ে যায়, তাই না? আপনার ত্বকও বেবাক খুশি হয়! কারণ, সোনা, মুক্তো এবং হিরে, তিনটির গুঁড়োই ত্বকের পক্ষে খুবই পুষ্টিকর! কিন্তু রোজ-রোজ তো আর তা বলে মুখে সোনা-রুপো মেখে বসে থাকা যায় না! তাই আমরা অনেকেই পার্লারে গিয়ে গোল্ড, পার্ল কিংবা ডায়মন্ড ফেসিয়াল করাই এবং এক বুক খুশি নিয়ে বাড়ি ফিরি। কিন্তু এই ধরনের ফেসিয়ালের অনেক খরচ এবং সত্যি কথা বলতে গেলে, সব পার্লারে গোল্ড কিংবা ডায়মন্ড ফেসিয়াল ঠিক করে করতেও পারে না। তাই পয়সা খরচ হল, কিন্তু ফল পেলেন না, বেশ বাজে একটা অবস্থা! এই ব্যাপারটা ধরতে পেরেই আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি গোল্ড, পার্ল এবং ডায়মন্ড ফেসিয়াল বাড়িতেই কী করে করতে পারবেন, তার সুলুকসন্ধান। আজকাল বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গোল্ড (Gold), পার্ল (Pearl) কিংবা ডায়মন্ড (Diamond) ফেসিয়াল (Facial) কিট কিনতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে থেকে আমরা তিনটি কিট বেছে নিয়েছি এবং কী করে সেগুলি নিজেরাই অ্যাপ্লাই করে ত্বকের হাল ফেরাবেন পুজোর (Durga Puja) আগে, সেই পদ্ধতিও বলে দিচ্ছি সহজ করে!

১. বাড়িতেই করে ফেলুন গোল্ড ফেসিয়াল

গোল্ড ফেসিয়ালের উপকারিতা জানলে সত্যিই অবাক হবেন! এই ধরনের ফেসিয়াল বাড়িতে করার আগে জেনে নিন তা সম্বন্ধে…

উপকারিতা: যে-কোনও ধরনের ত্বকের জন্য এই ফেসিয়াল করতে পারেন। এটি ত্বকের টক্সিন বের করে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। রোদে পোড়া ত্বকের হাল ফেরাতে এটি আদর্শ। সোনাতে আছে নানা ধরনের অ্যান্টি এজিং উপাদান। রক্ত চলাচল দ্রুত করে এটি ত্বকে সজীবতা ফিরিয়ে আনে। ত্বকে মেলানিন ফর্মেশন এবং পিগমেন্টেশনের হাত থেকে বাঁচায়। ফলে ত্বকের রং উজ্জ্বল হয়। তা ছাড়াও ত্বকের ইলাস্টিসিটি বাড়িয়ে ত্বকে দেখতে ইয়ং করে দেয়!

জানতেন কি: গোল্ড ফেসিয়াল কিটে সোনার গুঁড়ো, সোনার ফয়েল, অ্যালো ভেরা, চন্দন তেল ইত্যাদি নানা প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হয়! সুতরাং, এটি ১০০ শতাংশ প্রাকৃতিক। প্রথমবার ব্যবহারের পর থেকেই আপনার ত্বক হয়ে উঠবে তরতাজা ও চকচকে!

লোটাস গোল্ড ফেসিয়াল কিটে যা-যা আছে: এক বার ব্যবহারের উপযোগী এই কিটটিতে আছে ফেস স্ক্রাব, অ্যাক্টিভেটর, মাসাজ ক্রিম, মাস্ক

কীভাবে ব্যবহার করবেন: এখানে বলে দেওয়া স্টেপগুলি অক্ষরে-অক্ষরে পালন করুন।

  • সাধারণ জলে মুখ ধুয়ে নিন। এবার গোল্ড স্ক্রাবটি দিয়ে হালকা হাতে সারা মুখে মাসাজ করুন। মিনিটদুয়েক এভাবে মালিশ করে ত্বকের মরা কোষগুলি তোলা হয়ে গেলে মুখ ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে চেপে-চেপে মুছে নিন।
  • অ্যাক্টিভেটরটি কয়েক ড্রপ নিয়ে সারা মুখে ভাল করে লাগিয়ে নিন। মুছে বা ধুয়ে ফেলবেন না।
  • এবার মাসাজ ক্রিমটি দিয়ে সার্কুলার মোশনে সারা মুখ, গলা ও ঘাড়ে মালিশ করুন। যতটা ক্রিম টিউবে আছে, তার পুরোটাই মুখে লাগিয়ে মালিশ করতে হবে। ততক্ষণ মালিশ করবেন, যতক্ষণ না ক্রিম শুকিয়ে ত্বকে গভীরে ঢুকে যাচ্ছে। তারপর ভেজা তুলোর বল দিয়ে আলতো হাতে মুছে নিন বাড়তি ক্রিমটুকু।
  • এবার গোল্ড মাস্কটি ভাল করে মুখে-ঘাড়ে-গলায় লাগিয়ে নিন। পুরোটাই লাগিয়ে ফেলতে হবে। মিনিটপনেরো বা যতক্ষণ না মাস্কটি শুকিয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন জল দিয়ে।
  • তুলোর বলে গোলাপজল নিয়ে হালকা করে সারা মুখে বুলিয়ে নিন।

১. বাড়িতেই করে ফেলুন পার্ল ফেসিয়াল

প্রথমটির মতো মুক্তোর গুঁড়োর এই ফেসিয়ালের উপকারিতাও অনেক! এই ধরনের ফেসিয়াল বাড়িতে করার আগে জেনে নিন তা সম্বন্ধে…

উপকারিতা: এটি ত্বকে কোষগুলিকে সজীব করে তোলে, ফলে ত্বকে নতুন প্রাণসঞ্চার হয়! ত্বকের ইলাস্টিসিটি বাড়িয়ে দেয়, মেলানিন তৈরির প্রক্রিয়াটিকে শ্লথ করে দিয়ে ত্বককে নানা ধরনের দাগছোপ কিংবা পিগমেন্টেশনের হাত থেকে রক্ষা করে।  

জানতেন কি: পার্ল ফেসিয়াল কিটে মুক্তোর গুঁড়ো, অ্যাপ্রিকট অয়েল, রোজ অয়েল, হুইট জার্ম অয়েল, ক্যারট অয়েল ও ভিটামিন ই থাকে! 

অ্যারোমা ট্রেজার্স পার্ল ফেসিয়াল কিটে যা-যা আছে: এক বার ব্যবহারের উপযোগী এই কিটটিতে আছে স্কিন পিওর ক্লেনজার, টার্মারিক-অ্যাপ্রিকট জেন্টল স্ক্রাব, পার্ল ক্রিম, পার্ল জেল, পার্ল মাস্ক, ক্যামোমাইল ঊিটামিন ই সুদিং-ময়শ্চারাইজিং লোশন।

কীভাবে ব্যবহার করবেন: এখানে বলে দেওয়া স্টেপগুলি অক্ষরে-অক্ষরে পালন করুন। 

  • সাধারণ জলে মুখ ধুয়ে নিন। এবার স্কিন পিওর ক্লেনজার দিয়ে ত্বক ডিপ ক্লেনজ করুন। আবার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে চেপে-চেপে মুছে নিন।
  • আধভেজা মুখে টার্মারিক-অ্যাপ্রিকট জেন্টল স্ক্রাবটি দিয়ে হালকা হাতে সারা মুখে মাসাজ করুন। মিনিটদুয়েক এভাবে মালিশ করে ত্বকের মরা কোষগুলি তোলা হয়ে গেলে আবার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। 
  • এবার পার্ল মাসাজ ক্রিমটি দিয়ে সার্কুলার মোশনে সারা মুখ, গলা ও ঘাড়ে মালিশ করুন। যতটা ক্রিম টিউবে আছে, তার পুরোটাই মুখে লাগিয়ে মালিশ করতে হবে। ততক্ষণ মালিশ করবেন, যতক্ষণ না ক্রিম শুকিয়ে ত্বকে গভীরে ঢুকে যাচ্ছে। তারপর ভেজা তুলোর বল দিয়ে আলতো হাতে মুছে নিন বাড়তি ক্রিমটুকু।
  • এবার পালা পার্ল জেলের। জেলটি ভাল করে মুখে-ঘাড়ে-গলায় লাগিয়ে মিনিটপাঁচেক রাখুন। মালিশের ফলে ত্বকের ঊষ্ণতা বেড়ে যায়। এই জেলটি ত্বককে আবার ঠান্ডা করে দেবে।
  • এবার পার্ল মাস্কটি ভাল করে মুখে-ঘাড়ে-গলায় লাগিয়ে নিন। পুরোটাই লাগিয়ে ফেলতে হবে। মিনিটপনেরো বা যতক্ষণ না মাস্কটি শুকিয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন জল দিয়ে।
  • সবশেষে ক্যামোমাইল ঊিটামিন ই সুদিং-ময়শ্চারাইজিং লোশনটি লাগিয়ে নিন সারা মুখে।

৩. বাড়িতে কীভাবে করবেন ডায়মন্ড ফেসিয়াল

ডায়মন্ড ফেসিয়ালের উপকারিতার লিস্টিও বেশ লম্বা। আর পার্লারে গিয়ে ডায়মন্ড ফেসিয়াল করতে যা খরচ, তার চেয়ে ঢের কমে বাড়িতেই ডায়মন্ড ফেসিয়াল করে নিজের ভোল পাল্টে ফেলতে পারেন আপনি!

উপকারিতা: ডায়মন্ড ফেসিয়াল কিটের সব প্রোডাক্টেই আছে হিরেচূর্ণ। এটি ত্বকের মরা কোষ সরিয়ে ত্বককে সজীব করে তোলে, দাগছোপ দূর করে ত্বককে ইভন টোন দেয়, হিরের স্বাভাবিক গুণ ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং ত্বক থেকে ক্ষতিকারক টক্সিনের প্রভাব দূর করে। বিশেষত, পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত যাবতীয় ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে ত্বকের হারানো ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে দেয় এই ধরনের ফেসিয়াল।  

জানতেন কি: ডায়মন্ড ফেসিয়াল কিটে হিরের গুঁড়ো ছাড়াও আরও যেসব প্রাকৃতিক উপাদান আছে, সেগুলি সবই প্রিজারভেটিভ ফ্রি! তাই এই ধরনের কিট ব্যবহার করা একশো শতাংশ নিরাপদ এবং যে-কোনও ধরনের ত্বকেই ব্যবহার করা যেতে পারে। 

বায়োটিক ডায়মন্ড ফেসিয়াল কিটে যা-যা আছে: এক বার ব্যবহারের উপযোগী এই কিটটিতে আছে ডায়মন্ড স্ক্রাব, ডায়মন্ড ওয়াশ অফ মাস্ক, ডায়মন্ড সিরাম, ডায়মন্ড জেল, ডায়মন্ড ডিটক্স লোশন ও ডায়মন্ড সুইস ম্যাজিক ডার্ক স্পট কারেক্টর।

কীভাবে ব্যবহার করবেন: এখানে বলে দেওয়া স্টেপগুলি অক্ষরে-অক্ষরে পালন করুন।

  • ভেজা মুখে ডায়মন্ড স্ক্রাবটি ভাল করে লাগিয়ে নিন আলতো হাতে। মিনিটতিনেক রেখে তারপর আঙুলের ডগা দিয়ে সার্কুলার মোশনে মালিশ করুন, যাতে ত্বকের মরা কোষগুলি উঠে আসে। তারপর ধুয়ে ফেলে তোয়ালে দিয়ে চেপে-চেপে মুছে নিন।
  • এবার ডায়মন্ড ডিটক্স লোশনটি মুখ-ঘাড়ে-গলায় লাগিয়ে আলতো হাতে মালিশ করে ত্বকে মিলিয়ে দিন।
  • এবার ডায়মন্ড মাসাজ জেল দিয়ে মালিশের পালা। এক্ষেত্রে ক্রিমের বদলে জেল দেওয়া হয়েছে কারণ, তা ত্বককে পুষ্টিও যোগায় আবার ঠান্ডাও করে। মিনিটপনেরো অন্তত হালকা হাতে সার্কুলার মোশনে মালিশ করতে হবে।
  • ডায়মন্ড ওয়াশ অফ মাস্কটি লাগিয়ে মিনিটকুড়ি রাখুন। মাস্কটি শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • ডায়মন্ড সিরামটি নিয়ে এমনভাবে মালিশ করুন যাতে সিরামটি পুরো ত্বকের ভিতরে ঢুকে যায়।
  • ডায়মন্ড ডার্ক স্পট কারেক্টরটি ভাল করে সারা মুখে লাগিয়ে নিন ময়শ্চারাইজিং লেয়ার হিসেবে।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!