লকডাউনে অর্থনীতি স্তব্ধ, তবে এরই মধ্যে খরচ বাঁচিয়ে কীভাবে সঞ্চয় করবেন, জেনে নিন

লকডাউনে অর্থনীতি স্তব্ধ, তবে এরই মধ্যে খরচ বাঁচিয়ে কীভাবে সঞ্চয় করবেন, জেনে নিন

বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস (coronavirus)! একটা ছোট্ট ভাইরাস, যাকে কিনা খালি চোখে দেখাও যায় না, সে আমাদের গোটা বিশ্ববাসীকে নাকানিচোবানি খাওয়াচ্ছে। শুধুমাত্র যে শারীরিক দিকে থেকে করোনা ভাইরাস আমাদের মারছে তা নয়, মানসিকভাবেও আমাদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে, অর্থনৈতিক দিক থেকেও একটা বড় সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। বুঝতে পারছেন কি আপনি?

করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে এই মুহূর্তে দেশে চলছে লকডাউন (lockdown), যার দ্বিতীয় সপ্তাহে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা। আপৎকালীন পরিষেবাগুলি বাদে বাকি সব কিছুই বন্ধ এবং দেশের মানুষ আজ গৃহবন্দি। তবুও হয়ত মাঝেমধ্যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী কেনার জন্য আপনাকে বাইরে বেরোতেই হচ্ছে। ঠিক মতো সাবধানতা অবলম্বন করে বেরচ্ছেন তো?

হিসেব কষে নিন যাতে খরচ বাঁচাতে পারেন (ছবি - শাটারস্টক)

এই যে সারা বিশ্বে এখন লকডাউন চলছে, এর ফলে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে একসঙ্গে একটা পতন ঘটার আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে। এই অবস্থায় আপনিও হয়তো ভাবছেন যে কীভাবে কিছুটা হলেও টাকাপয়সা সঞ্চয় করবেন। শুধু আপনি না, আপনার মতো অনেকেই রয়েছেন যাদের এই চিন্তায় রাতের ঘুম উড়ে গেছে। আসলে আমাদের আয় না বাড়লেও খরচ (expenses) কিন্তু দিন দিন বাড়তেই থাকে। যদিও, এখানে খরচকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, আমরা খরচ বাড়াই বলেই খরচ বাড়ে। কয়েকটি প্র্যাক্টিকাল টিপস দিচ্ছি, যাতে এই চরম সঙ্কটের দিনে কিছুটা হলেও আপনি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখতে পারেন –

লাইফস্টাইলে একটু পরিবর্তন আনুন

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বেশ লাক্সুরিয়াস লাইফস্টাইলে অভ্যস্ত। ভাল খাওয়া-দাওয়া, ভাল পোশাক, ভাল সাজগোজ ইত্যাদিতে অভ্যস্ত। আমরা একবারের জন্যও বলছি না এগুলো কিছু করবেন না। কিন্তু কয়েকটা দিন একটু অপেক্ষা করে যান। এই মুহূর্তে আমাদের সীমিত রসদ আর তার মধ্যেই আমাদের চলতে হবে। এখন না হয় আপনি রোজ মাংস-পোলাও খেলেন না, বা ভাতের পাতে রোজ মাছ বা ডিম না খেয়ে কোনওদিন নিরামিষ খেলেন!

আতঙ্কে টাকা নষ্ট করবেন না, সঙ্গে জিনিসও

ঠেসে ঠেসে ফ্রিজ ভরাবেন না, অন্যদের জন্যও কিছু বাঁচিয়ে রাখুন (ছবি - শাটারস্টক)

বাজার থেকে একবারে সব জিনিস কিনে আনবেন না। লকডাউন চললেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যাবে বলেই সরকার আশ্বাস দিয়েছেন, এবং সত্যি কথা বলতে কি, পাওয়া যাচ্ছেও। আপনি হয়ত বলবেন যে আপনার এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। হতেই পারে। কিন্তু কেন পাওয়া যাচ্ছে না সেটা কি একবারও ভেবে দেখেছেন? অনেকেই একসঙ্গে অনেকটা পরিমাণে চাল-ডাল, সব্জি, ডিম এবং আরও অনেক জিনিস কিনে নিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছেন। ফলে বাকিরা তাঁদের প্রাপ্যটুকুও জোগাড় করতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। আপনি যদি একসঙ্গে অনেকটা পরিমাণে জিনিস কেনেন, তাতে যেমন অন্যের অসুবিধে হচ্ছে, ঠিক তেমনই কিন্তু আপনারও অনেকটা বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে যা হয়ত আপনি এই মুহূর্তে বুঝতেই পারছেন না।

 

প্রায়োরিটি সেট করুন

লকডাউনের মেয়াদ আগামী ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত, কিন্তু আদৌ তা আরও এক্সটেন্ড করবে কি করবে না, এই মুহূর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না। যদি নাও করে, তবুও অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি কিন্তু আমরা সবাই-ই হব। অনেকেরই অফিসে পে-কাট অর্থাৎ মাইনে কমে যাচ্ছে, কারও কারও আবার হয়ত চাকরি থাকবে কী থাকবে না তারই কোনও ঠিক নেই। কাজেই এই মুহূর্তেই ঠিক করে ফেলুন যে আপনার কাছে এখন যা সঞ্চয় রয়েছে তা দিয়ে আপনি আগামী ছয় মাস কীভাবে চলবেন। খরচের প্রায়োরটি সেট করুন। কোন কোন খরচগুলো করতেই হবে আর কোন কোন খরচ না করলেও আপনার চলে যাবে, সেটা ঠিক করার দায়িত্ব কিন্তু আপনাকেই নিতে হবে।

আরও পড়ুন - মাসের শুরুতেই ছকে ফেলুন মাসিক বাজেট - এই ছ'টি টিপসের সাহায্যে

যারা বাড়ির বাইরে থাকেন

অনেকেই চাকরি সূত্রে বাড়ি থেকে বাইরে থাকেন। তাঁদের কিছু বাড়তি খরচ থেকেই যায়। যেমন, বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুতের খরচ, আলাদা খাওয়ার খরচ, জলের বিল – এগুলো আপনি চাইলেও এড়াতে পারবেন না। কাজেই আর কী কী আপনি এড়াতে পারেন তা ঠিক করে ফেলুন। আমরা কয়েকটা সাহায্য করে দিচ্ছি; বাইরে থেকে খাবার আনানো কমিয়ে দিন, ইচ্ছে হলেই কেনাকাটা করা বন্ধ করুন, জিমে এক্সারসাইজ করার বদলে বাড়িতেই ব্যায়াম করতে পারেন বা বেশ কয়েকবার সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে পারেন! 

কিছু খরচ কমানো যায় না

ওষুধের মতো দরকারি খরচ আপনি এড়াতে পারবেন না (ছবি - শাটারস্টক)

আবার যারা বাড়িতে থাকেন, তাঁদেরও কিছু এমন খরচ থাকে যা এড়ানো সম্ভব হয় না।  যদি বাড়িতে কোনও বয়স্ক মানুষ থাকে, তার মাসিক একটা ওষুধের খরচ আপনি চাইলেও এড়াতে পারবেন না। অথবা আপনি নিজে যদি কোনও ওষুধ খান, তা আপনি বন্ধ করতে পারবেন না। বাড়িতে কোনও শিশু থাকলে তার বেবিফুড, ডায়েপার বা ওষুধের খরচ এড়ানো সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে বিদ্যুতের বিলের উপরে কিছু সঞ্চয় আপনি করতে পারেন। দরকার না পড়লে আলো-পাখা বন্ধ রাখুন, বাড়িতে এয়ারকন্ডিশনারে টাইমার সেট করে রাখুন, যখন কোনও গ্যাজেট যেমন টিভি বা ল্যাপটপ বা ফুড প্রসেসর ব্যবহার করছেন না তখন সকেট থেকে প্লাগ খুলে রাখুন। জলের খরচ কমান।

ভাগ করে নিন

অনেকেই রয়েছেন যারা অনলাইন স্ট্রিমিং বিনোদনে অভ্যস্ত। এই যে আপনি সারাদিন ধরে সারা মাস ধরে বা সারা বছর ধরে নানা অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন আপনি নিয়ে রেখেছেন তাতে আপনার কতটা টাকা খরচ হচ্ছে সে হিসেব কি আছে? আপনি হয়ত বলবেন যে তাহলে কি জীবনে একটু বিনোদনও থাকবে না? আমাদের উত্তর, নিশ্চয়ই থাকবে, তবে একটু স্মার্টভাবে। তিন-চারজন বন্ধু মিলে এক একটি অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন নিন এবং একে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিন। এতে বিনোদন থেকেও বঞ্চিত হবে না, আবার খরচও অনেকটাই বাঁচবে! 

কথায় বলে, বিন্দু বিন্দুতেই সিন্ধু হয়, আপনিও না হয় একটু একটু খরচ বাঁচিয়েই বড় সঞ্চয় করুন! করোনা ভাইরাস, লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ড – এগুলো হয়ত আপনাকে একজন নতুন মানুষ হয়ে উঠতেও সাহায্য করছে...  

POPxo এখন চারটে ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!